আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে বখাটে মতিনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকায়বাসী

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় থাকেন অভিভাবকরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়ার পথে গতিরোধ করে অশ্লীল কথাবার্তা বলে উত্যক্ত করে বখাটে মতিন। রাতের বেলায় ঘরে ঢুকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে মতিনের বিরুদ্ধে। তার অত্যাচারে মান সম্মানের ভয়ে মুখ না খুললেও নীরবে কয়েকটি পরিবার বাড়ি ছেড়ে শহরের ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। জানা গেছে, শুধু রাস্তা ঘাটে নয় রাতের বেলায় ঘরে এসেও নারীদের উত্যক্ত করে এ মতিন। ঘরের বাইরে শুকোতে দেওয়া নারীদের কাপড় চোপড় নিয়ে যায়। তার ভয়ে মুখ না খোলায় দিনদিন বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে বখাটে মতিন। আবদুল মতিন (৩০) বোয়ালখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদণ্ডী অলি মিয়াজি বাড়ির আবদুল করিমের ছেলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কলেক শিক্ষার্থী জানান, মতিনের অত্যাচারে গ্রামের কয়েকটি পরিবার শহরে বসবাস করছেন। গ্রামে থাকা পরিবারগুলো মুখ বুঝে এসব সহ্য করছেন মান সম্মানের ভয়ে। অনেকে পুরুষ নিকটাত্মীয়দের বাড়ি এনে রেখেছেন নিরাপত্তার স্বার্থে। মতিনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতে যখন তখন বাড়িতে ঢুকে পড়ে ঘরের মেয়েদের উত্যক্ত করে। এলাকার মা-বোনদের বাইরে শুকাতে দেওয়া কাপড় চোপড় নিয়ে গিয়ে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। দোকান থেকে জিনিসপত্র নিয়ে টাকা দেয় না। চা-নাস্তা খেয়ে বিল দেয় না। টাকা ধার নিলে তাও ফেরত দেয়। কথায় কথায় মানুষজন মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখায়। এসব নিত্য দিনের ঘটনা। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় গতিরোধ বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা বলে। এসবই যেন মাদকাসক্ত মতিনের নেশা এবং পেশা। এছাড়া এক বয়স্ক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল মতিন এ নিয়ে থানায় মামলাও হয়েছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, বখাটে মতিনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে বোয়ালখালী থানায় দায়ের হয়েছিলো দুইটি মামলা। এছাড়া ২০২২ সালের ২১ মার্চ পৌর সদর থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারপরও দমেনি মতিন। দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সে।

বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.আছহাব উদ্দিন বলেন, ইভটিজিং বা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির সুযোগ নেই। মতিনের বিষয়েও খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এসব অপরাধ নির্মূলে পুলিশ সব সময় জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে জরিমানা গুনল দুই পেট্টোল পাম্প, ওজন কম ও হালনাগাদ নেই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে দুইটি পেট্টোল পাম্পকে জরিমানা করা হয়। বুধবার বিএসটিআইয়ের পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতে এসব জরিমানা করা হয়। দুটি পেট্টোল পাম্পকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালতে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই চট্টগ্রামের পরীক্ষক প্রিময় মজকুরী জয়। অভিযানে নগরীর পাঁচলাইশ থানার নাসিরাবাদের বাদশা মিয়া অ্যান্ড সন্স পেট্টোল পাম্পের ডিসপেন্সিং ইউনিট যাচাই করে দেখা যায়, ডিজেল সরবরাহে প্রতি ৫ লিটারে ১২০ মিলিলিটার কম দেওয়া হয়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন মন্ডল অপু।

একইদিন, কাতালগঞ্জ এলাকার হাজি ইউনুস অ্যান্ড কোং নামের পেট্টোল পাম্পের ভেরিফিকেশন সনদ হালনাগাদ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে তাদের ডিসপেন্সিং ইউনিটে পরিমাপের যথার্থতা সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার। এছাড়া একই এলাকায় খান ব্রাদার্স সিএনজি প্রাইভেট লিমিটেডের পরিমাপ সঠিক এবং প্রয়োজনীয় সব সনদ হালনাগাদ থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

চালের কার্ড দিবে বলে প্রতারনা স্বর্ণালংকার লুট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে শামসুন নাহার (৬০) নামের এক বৃদ্ধা কানের দুল ও স্বর্ণের রকেটসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়েছেন। রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে গোমদন্ডী বুড়ি পুকুর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগীরা হলেন বোয়ালখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদার তালুকদার বাড়ির শামসুন নাহার ও তার পুত্রবধূ খুরশিদা বেগম (২৭)।

খুরশিদা বেগম জানান, বুড়িপুকুরপাড় এলাকার একটি মাদ্রাসায় ছেলেকে দেখতে যান তারা। পরে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক যুবক তাদের পথরোধ করে ‘চাউলের কার্ড’ করে দিলে সরকারি চাউলের বস্তা দেওয়া হবে বলে জানায়। পরে তাদের আঙুলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে বলে। তিনি বলেন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট কাজ করছে না বলে ওই যুবক জানতে চায় তাদের কাছে কোনো স্বর্ণ আছে কি না। তখন তিনি এক জোড়া কানের দুল খুলে দেন। পরে আবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার কথা বলে তাকে সামনে একটি দোকানে যেতে বলে এবং শাশুড়ি শামসুন নাহারকে সেখানে রেখে যেতে বলে।এ সুযোগে তিনজন প্রতারক শামসুন নাহারকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।

শামসুন নাহার জানান, তাকে সিএনজিতে করে অলিবেকারী এলাকায় নিয়ে গিয়ে এক জোড়া কানের দুল ও ধারালো কিছু দিয়ে গলার স্বর্ণের রকেট কেটে নেয় প্রতারকরা। পরে একটি স্থানে নামিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। প্রতারক চক্র শাশুড়ি ও পুত্রবধূর কাছ থেকে দুই জোড়া কানের দুল প্রায় ১২ আনা স্বর্ণ, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ফাইল নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল হাতিয়ে নেয় তারা।
এ ঘটনায় বোয়ালখালী থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন খুরশিদা বেগম।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ