নিরাপত্তা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠান দীর্ঘায়িত হলে ঝুঁকি বাড়ে,

সময় বেঁধে’ পহেলা বৈশাখ প্রতিটি ভেন্যুতে তিন স্তরের নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে এবারও বাংলা বর্ষবরণের আয়োজনের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে নগর পুলিশ। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হলে আপত্তি জানান সংস্কৃতিজন কামরুল হাসান বাদল। জবাবে নগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেছেন, অনুষ্ঠান দীর্ঘায়িত হলে ঝুঁকি বাড়ে। গতকাল সোমবার দুপুরে নগরীর দামপাড়ায় সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে ‘পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নিরাপত্তা সমন্বয় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়।
সভার শুরুতে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (অপারেশন) মো. জাহাঙ্গীর। এরপর আয়োজক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
বরবারের মতো এবারও নগরীর তিনটি স্থানে বড় আকারে পহেলা বৈশাখের আয়োজন করা হচ্ছে। সিআরবির শিরিষতলায় নববর্ষ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম, ডিসি হিলে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসব আয়োজন হবে। এর বাইরে রবীন্দ্রসঙ্গীত উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম প্রথমবারের মতো নগরীর এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ মাঠে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের আয়োজন করেছে।
নববর্ষ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রামের সংগঠক কবি কামরুল হাসান বাদল সভায় জানান, সিআরবি শিরিষতলায় প্রতিবছরের মতো এবারও ১৩ এপ্রিল বাংলা বর্ষবিদায় এবং ১৪ এপ্রিল নববর্ষ বরণের আয়োজন করেছে। বর্ষবিদায়ের আয়োজন ১৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা কিংবা মাগরিবের নামাজের আগপর্যন্ত চলবে। পহেলা বৈশাখে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। স্থানীয় মসজিদের সঙ্গে সমন্বয় করে আজান ও নামাজের সময় অনুষ্ঠানে বিরতি থাকবে বলে তিনি জানান।
বক্তব্যে কামরুল হাসান বাদল অভিযোগ করেন, সিআরবিতে পুলিশের অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কারণে মূল মঞ্চ ঢাকা পড়ে যায়।
তিনি বলেন, সাত রাস্তার মোড় থেকে শিরিষতলার দিকে গেলে যে ঢালু পথটা দিয়ে মঞ্চের সামনে নামতে হয়, সেখানেই পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষটা করা হয়। এতে সাত রাস্তার মোড় কিংবা আশপাশ থেকে মূল মঞ্চটা আর দেখা যায় না। গতবছরও এভাবে করা হয়েছে। আমরা আপত্তি করেছিলাম, কিন্তু তারপরও করা হয়েছে। অনুরোধ করব, সেখানে যে পুলিশ ক্যাম্পটা করা না হয়। একপাশে যেখানে জনসমাগম কম, সেখানে করা হলে আমাদের জন্যও সুবিধা, পুলিশের দ্রুত রেসপন্স করার ক্ষেত্রেও সুবিধা হয়।
জবাবে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যেখানে কন্ট্রোল রুম করা হয়, সেখান থেকে মঞ্চসহ চারপাশ পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়। প্রয়োজনে পুলিশও দ্রুত সেখান থেকে রেসপন্স করতে পারে।
সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় মূল মঞ্চে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়, এমন স্থানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন না করার নির্দেশনা দেন।
এদিকে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের পক্ষে সুচরিত দাশ খোকন সভায় জানান, প্রতিবছর বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের দু’দিনের আয়োজন করলেও এবার তারা শুধুমাত্র পহেলা বৈশাখের আয়োজন করছে। পহেলা বৈশাখ অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল ভোর সাড়ে ৬টায় তাদের আয়োজন শুরু হবে। দুপুরে নামাজের বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৫টার মধ্যে তাদের আয়োজন শেষ হবে।
জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, চট্টগ্রামের সংগঠক অনির্বাণ ভট্টাচার্য সভায় জানান, বর্ষবিদায়ের দিনে ১৩ এপ্রিল রাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ডিসি হিলের সামনে নন্দনকানন এলাকায় সড়কে আলপনা আঁকা হবে। পরদিন সকাল ৮টায় এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ মাঠে পহেলা বৈশাখের আয়োজন শুরু হবে। পরিষদের শিল্পীরা প্রথমে দুই ঘন্টা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। এরপর বিরতি দিয়ে দুপুর দু’টায় আবার অনুষ্ঠান শুরু হবে। তখন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন তাদের পরিবেশনা নিয়ে থাকবে।

সভায় সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগর পুলিশ সিআরবি শিরিষতলা, ডিসি হিল ও শিল্পকলা একাডেমিকে মূল ভেন্যু ধরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। অনুষ্ঠান চলাকালীন ডিসি হিল ও সিআরবি শিরিষতলা এলাকা পুরোপুরি যানবাহনমুক্ত থাকবে। ডিসি হিলের আশপাশে চারটি স্পট এবং সিআরবি শিরিষতলার আশপাশে তিনটি স্পটে পুলিশের ব্যারিকেড থাকবে, যাতে কোনো ধরনের যানবাহন প্রবেশ করতে না পারে।
প্রতিটি ভেন্যুতে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় জানান।
সভায় বলা হয়, প্রতিটি ভেন্যুতে থানার সার্বক্ষণিক টিম ও মোবাইল টিম, ফুট পেট্রোল, চেকপোস্ট, সাদা পোশাকে পুলিশ, ডিবি টিম, সোয়াট টিম, কুইক রেসপন্স টিম, ডগ স্কোয়াড কে-নাইন ও বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট মোতায়েন থাকবে। এছাড়া পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। প্রবেশপথে আর্চওয়ে থাকবে, মেটাল ডিটেক্টর দিয়েও তল্লাশি করা হবে। মঙ্গল শোভাযাত্রার সম্মুখ, মধ্য ও শেষ- তিনভাগে পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে সভায় জানানো হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করা, আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিটি ভেন্যুতে সিসি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকের ব্যবস্থা করা, আজান-নামাজের সময় মাইক অথবা লাউডস্পিকার বন্ধ রাখাসহ ১১ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়।
সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আছে, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে প্রোগ্রাম শেষ করতে হবে। আশা করছি, প্রোগ্রাম কোনোভাবেই সন্ধ্যা ৬টার পর যাবে না।
সময় বেঁধে দেয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সভায় কবি কামরুল হাসান বাদল বলেন, প্রতিবছর পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়। আমরাও অবশ্য সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান আয়োজন করেছি, কারণ আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই শহরে তো অনেক প্রোগ্রাম হয়, মধ্যরাত পর্যন্ত হয়, সারারাতও চলে। তাহলে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে এত বিধিনিষেধ কেন ?
জবাবে সিএমপি কমিশনার বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে, এটা কোনো আইন না। প্রেক্ষিত বিবেচনায় এটা করা হয়েছে। অনেকগুলো ভেন্যুতে অনুষ্ঠান হয়। আমাদের যেসব ফোর্স, তারা কিন্তু আগের রাত থেকে ডিউটি করে।
বাদল আবারও আপত্তি জানিয়ে বলেন, সারাবছরে তো খুব বেশি এ ধরনের অনুষ্ঠান হয় না। বড় অনুষ্ঠান বলতে পহেলা বৈশাখেই হয়। এতেই খুব বেশি চাপ পড়ে কি ?
সিএমপি কমিশনার বলেন, আয়োজন যত দীর্ঘায়িত হয়, ঝুঁকি তত বাড়ে। যারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী, তাদের নিরাপত্তারও তো একটা বিষয় আছে। আসুন, আমরা এ বিষয়টা নিয়ে আর বিতর্ক না করি। পহেলা বৈশাখের আয়োজন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো ঝুঁকি নেই। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই আমাদের সতর্কতা এবং প্রস্তুতি আছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পদ্মার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ দুর্যোগের সময়ে বানভাসি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে চিলমারী ইউনিয়নের বাংলা বাজার-উদয়নগর এলাকায় বিজিবির কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) উদ্যোগে ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী (চাল, ডাল, তেল, আটা ও লবণ) বিতরণ করা হয়।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন এবং কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।

দুর্যোগের এই সময়ে বিজিবির পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উদয়নগর গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চারদিকে পানি উঠায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব বিপদে আছি। না ছিল খাওয়ার ব্যবস্থা, না ছিল চলাচলের উপায়। এই কঠিন সময়ে বিজিবির কর্মকর্তারা নিজ হাতে আমাদের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর রাখছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বানভাসি মানুষদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে আমাদের এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। দুর্গম ও প্লাবিত এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল ও পর্যবেক্ষণ জোরদার রয়েছে।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেষে বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির অর্পিত দায়িত্বের অংশ। পদ্মার পানি বাড়ায় এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমরা সাধ্যমতো খাদ্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি এবং বন্যাকবলিত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

অনলাইন স্ক্যামিংয়ের’ অভিযোগে চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশির রিমান্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের পশ্চিম খুলশী-জালালাবাদ এলাকায় ‘অনলাইন স্ক্যামিংয়ের’ অভিযোগে গ্রেফতার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন।একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে (সিটিইউ) ২০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বলেন, ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতারের ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থা সিটিইউকে ২০ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে, গত ৮ সেপ্টেম্বর সকালে পুলিশ পাহারায় ৬৩ বিদেশি নাগরিককে আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড আবেদনের শুনানির সময় তারাও এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। পরে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে করা মামলায় রিমান্ডের আবেদন করে। মঙ্গলবার ওই আবেদনের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে, গত ৫ সেপ্টেম্বর মহানগরের একটি কুরিয়ার থেকে ১১৮ গ্রাম কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার মোহাম্মদ মহসিনকে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে করা মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, গ্রেফতার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের থাকার জন্য তিনি একটি আটতলা ভবন ভাড়া করে দিয়েছিলেন। ওসি আরও জানান, কয়েক দিন আগে মহসিন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ১১৮ গ্রাম কোকেন ঢাকার এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন। পরে কোকেনের চালানটি ফেরত আসে। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে।

কোকেনের মামলায় সেই মহসিনেরী রিমান্ড : ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরে নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় ৬৩ বিদেশি নাগরিকের ‘আস্তানা’র তথ্য বেরিয়ে আসার ঘটনায় গ্রেপ্তার মোহাম্মদ মহসিনকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে খুলশী থানার সাইবার অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর নগরের খুলশী এলাকা থেকে মহসিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি নগরের কর্ণফুলী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডিসি (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কোকেনের মামলায় মহসিনের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।একইসঙ্গে তাকে আইসিটি আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।পুলিশের দাবি, মহসিনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরেই খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে ৬৩ বিদেশি নাগরিকের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, কয়েক দিন আগে কুরিয়ারের মাধ্যমে ঢাকায় এক ব্যক্তির কাছে কোকেন পাঠিয়েছিলেন মহসিন। পরে কোকেনগুলো ফেরত এলে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে খুলশীর ওই ভবনে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের তথ্য সামনে আসে। ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসিনের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তার মাধ্যমেই তাদের জন্য আটতলা ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়। এমনকি বিদেশিদের পাসপোর্টও তার কাছে জমা ছিল বলে দাবি পুলিশের।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ