আজঃ সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬

দেশের বিভিন্ন স্থানে মাস্টারদাসহ বিপ্লবীদের ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে যুব বিদ্রোহ দিবসের এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাস্টারদা সূর্য সেনসহ বিপ্লবীদের ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বন্দরনগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘রাস্তা জুড়ে রোদ হোক’ শিরোনামে বোধন আবৃত্তি পরিষদ আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ উৎসবে’ বক্তারা এ দাবি জানান।
জানা গেছে, ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ হয়। নগরীর দামপাড়া এলাকায় তৎকালীন পুলিশ ব্যারাকের অস্ত্রাগার দখল করে নেন বিপ্লবীরা। সেখানেই অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর চার দিন স্বাধীন ছিল চট্টগ্রাম। পরে ২২ এপ্রিল জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর সাথে মুখোমুখি লড়াই হয়। তিন ঘণ্টার সেই যুদ্ধে ৮২ জন ব্রিটিশ সৈন্য নিহত হয় এবং ১২ জন বিপ্লবী শহীদ হন। বন্দর নগরীর জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে মাস্টারদা সূর্য সেনের একটি আবক্ষ মূর্তি এবং পাহাড়তলি ইউরোপিয়ান ক্লাবের সামনে আত্মাহুতির স্থানে বীরকন্যা প্রীতিলতার একটি আবক্ষ মূর্তি আছে। তবে বড় পরিসরে মাস্টারদা, প্রীতিলতা ও এই দলের অন্য শহীদ বিপ্লবীদের কোনো ভাস্কর্য চট্টগ্রামে নেই।
অনুষ্ঠানে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ডা. একিউএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই মহান শহীদদের আদর্শকে আজ তরুণদের সামনে তুলে ধরতে হবে। বাংলার ইতিহাসে গৌরবগাথা কম নয়। কিন্তু প্রায় বিস্মৃতির অতলে চলে গেছে আমাদের জাতীয় জীবনের এক অমূল্য বীরত্বগাথা চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ। যুব বিদ্রোহের মহানায়ক সূর্য সেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রথম নারী শহীদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারসহ চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের শহীদদের ভাস্কর্য সারাদেশে নির্মাণ করা উচিত।
মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের সমস্ত অহংকার চূর্ণ করে দিয়েছিলেন মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে তরুণ বিপ্লবীরা। দোর্দণ্ড প্রতাপের ব্রিটিশ শাসনের বিশাল ভারতবর্ষে চট্টগ্রামকে চার দিন স্বাধীন করে রেখেছিল অকুতোভয় বিপ্লবীরা। যুব বিদ্রোহের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল সমাজ কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। যুব বিদ্রোহে অংশ নেওয়া বিপ্লবীদের স্মরণে রাষ্ট্রকে আরো নানা উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাস্টারদা সূর্যসেনসহ বিপ্লবীদের ভাস্কর্য স্থাপন করা হোক।
উৎসবের শুরুতে যন্ত্র সংগীত পরিবেশন করেন দুর্জয় পাল ও প্রদ্যুৎ আচার্য। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বোধন আবৃত্তি পরিষদের সহ-সভাপতি সুবর্ণা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন কবি কমলেশ দাশগুপ্ত ও প্রীতিলতা ট্রাস্টের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য। বোধনের সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বোধনের অনুষ্ঠান সম্পাদক মৃন্ময় বিশ্বাস। পরে দলীয় নৃত্য পরিবেশনায় ছিলেন নৃত্য নিকেতন ও মাধুরী নৃত্যকলা একাডেমি। দলীয় গানে অংশ নেন সংগীতালয়, উদীচি শিল্পী গোষ্ঠী। একক আবৃত্তি পরিবেশনায় ছিলেন সুচয়ন ললিতকলা কেন্দ্রের আবৃত্তিশিল্পী তাসকিয়া তুন নূর তানিয়া ও নরেন আবৃত্তি একাডেমি আবৃত্তিশিল্পী পৃথা পারমিতা। কবিতা পাঠে অংশ নেন কবি ফারহানা আনন্দময়ী ও সারাফ নাওয়ার। বোধন আবৃত্তি পরিষদের শিশু ও বড়দের বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় যুব বিদ্রোহ উৎসব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে চসিকের অভিযান, গুঁড়িয়ে দেয়া হলো ২০০ অবৈধ দোকান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের সাগরিকা এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা প্রায় ২০০টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে সাগরিকা রোডের বিটাক বাজার এলাকা পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরের সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চসিক সূত্র জানায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রায় ২০০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় ফুটপাত ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়, ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে। অভিযানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাহাড়তলী থানা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

ভাঙ্গুড়ায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আওতায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার ১৩ জুন ২০২৬ ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা পৌর প্রশাসক, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বৃক্ষরোপণ শেষে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেশি বেশি করে গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাই কে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ উদ্যোগ ভাঙ্গুড়ার পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ