রাজাখালী খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণের দাবিতে  মহাসড়কে এলাকাবাসীর  মানববন্ধন

মশিউর রহমান রাসেল, ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নলছিটি-বাকেরগঞ্জ সংযুক্ত করতে জোলাখালি সেতু নির্মাণের দাবিতে বরিশাল -পটুয়াখালী মহাসড়কের রাজাখালী (জোলাখালি) খেয়াঘাট এলাকায় আজ বুধবার ১৭ এপ্রিল সকালে  মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারক লিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী।
নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের জোলাখালি এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়ন এর পশ্চিম চরাদি এবং খাসের হাট বাজার  এলাকার সংযোগ স্থাপনের জন্য জোলাখালি এলাকায় খায়রাবাত নদীতে একটি সেতু নির্মানের দাবি জানিয়ে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়ন এর সীমান্তবর্তী একটি এলাকা বাকেরগঞ্জের চরাদি এবং খাসের হাট, খায়রাবাদ নদী যেটিকে এই উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। সেখানে অন্তত ১০-১৫ হাজার লোকের বসবাস। কিন্তু চিকিৎসার  জন্য তাদের নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা বৈঠা বাওয়া একটি মাত্র নৌকা। তাও জোলাখালি খেয়াঘাটে সন্ধ্যা ০৭ টার পর বন্ধ,আর খাসের হাট খেয়া ১০ টার পর বন্ধ হয়ে যায়।
নদী বেষ্ঠিত এবং বরিশাল পটুয়াখালী  মহা সড়ক এর সাথে সংযুক্ত না হওয়ার কারনে মালামাল বা রোগী পরিবহনে তেমন গাড়িও চলাচলের ব্যবস্থা নেই।বরিশাল নিতে হলেও তাদের একমাত্র পথ রানিরহাট ব্রিজ হয়ে যাওয়া, কিন্তু ততক্ষনে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে যায়।একটি সেতুর অভাবে তাদেরকে প্রায় পনের কিলোমিটার বাড়তি পথ ঘুরতে হয়,যারফলে মুমূর্ষু অবস্থায় রোগীদের বাচানোও সম্ভব হয় না।
এছাড়াও এই বিচ্ছিন্ন এলাকাটিতে ব্যবসা বানিজ্যে অন্যতম সমস্যা পন্য পরিবহনে, যদি ছোট্ট এই সেতুটি নির্মাণ করা হয় তাহলে পন্য পরিবহনে ভোগান্তি লাঘব হলে ব্যাবসা বানিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ হবে।
এছাড়াও  চরাদি থেকে প্রায় সকল ছাত্র ছাত্রীদের দপদপিয়া স্কুল এবং কলেজে পড়ালেখা করতে খেয়া পার হয়ে আসতে হয়।যাদের সব সময়ই অনেক ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়,বিশেষ করে বর্ষাকালে সেই ঝুঁকি বেড়ে যায় কয়েক গুন।অনেক সময়ই পা পিছলে পরে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, বই খাতা নস্ট হয়ে যাচ্ছে।
মানববন্ধনে নলছিটির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা সমাজকর্মী বালী তূর্য বলেন, চরাদী এলাকাটি বাকেরগঞ্জের অধীনে হলেও তাদের ওঠাবসা,পড়াশোনা  সব নলছিটির দপদপিয়ার সাথে।কিন্তু ছোট একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন এই জনপদের মানুষ অবর্ননীয় কস্টে এবং ভোগান্তিতে রয়েছেন।এদের বাচ্চাদের পড়ালেখায় ঝুঁকি, চিকিৎসা করাতে ঝুঁকি, যাতায়াতে ঝুঁকি, এত ঝুঁকি নিয়ে তারা কিভাবে মূল ধারায় সংযুক্ত হবে। যদি এখানে সেতুটি নির্মান করা হয় তাহলে এটি বরিশাল বিভাগের এবং মূল মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত হয়ে গেলেই তাদের ব্যাপক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে।কৃষি এবং শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন হবে,এতে স্থানীয়দের জীবনধারার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।বর্তমান সরকার, উন্নয়নের সরকার, তাই আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে দ্রুতই এই সমস্যাটির সমাধান করা হয়।
এছাড়াও চরাদি এলাকার সমাজসেবক মো:ফিরোজ আলম বলেন,ছোট বেলা থেকেই এই একটি সেতুর অভাবে অবর্ননীয় কস্টে এবং ভোগান্তিতে জীবন কাটছে আমাদের।বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসার জন্য বরিশালে নিতেও ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়।এক প্রকার বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো হওয়ায় আমরা বিভাগীয় শহর এবং মহাসড়কের পাশে থেকেও সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছি।আমরা এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন চরাদী এলাকার জুয়েল সিকদার,কামাল সিকদার,তোফায়েল ফকির,জাকির সিকদার,রুবেল মৃধা,হুমায়ুন সিকদার,কবির হোসেন মাঝী।
মানববন্ধন শেষে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও বরিশাল -০৬ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য বরাবর স্মারক লিপিও পেশ করা হয়।
ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে প্রায় তিন শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন। সরেজমিনে  জোলাখালি খেয়াঘাটে এবং খাসেরহাট খেয়াঘাট ঘুরে দেখে স্থানীয়দের সাথে কথা বলতে গেলে তাদের দূর্ভোগের করুন চিত্র ফুটে ওঠে।
এই সেতুটি ঝালকাঠি -০২ এবং বরিশাল -০৬ দুই সংসদীয় আসনের সংযোগ  হওয়ায় উভয় সংসদ সদস্যই জনগণের এই প্রানের দাবিটি বাস্তবায়ন করতে যথাযথ চেষ্টা করবেন বলে প্রত্যাশা সকলের।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলিং সিস্টেমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ : এমডি প্রকৌশলী সেলিম মো: জানে আলম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ওয়াসার ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ‘বিলিং সিস্টেম উন্নয়ন কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত
২২ জুলাই ২০২৬ চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (চট্টগ্রাম ওয়াসা) গ্রাহকসেবা আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করার লক্ষ্যে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম ওয়াসার যৌথ উদ্যোগে ‘বিলিং সিস্টেম উন্নয়ন কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন ভবনের ৩য় তলার সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় ৩৬ জন মিটার পরিদর্শক, চট্টগ্রাম ওয়াসার ১২ জন কর্মকর্তা উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক(অর্থ) মিজ্ শারমিন অাক্তার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় বিদ্যমান বিলিং প্রক্রিয়া, বর্তমানে ম্যানুয়ালি পরিচালিত বিভিন্ন সেবা এবং প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় মিটার পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় মতামত তুলে ধরেন। তাঁদের এসব পরামর্শ চট্টগ্রাম ওয়াসার সেবাদানের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি উন্নয়নে সহায়ক হবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসাকে ডিজিটাল সেবাব্যবস্থায় রূপান্তরিত হতে হবে এবং এ লক্ষ্যে ওয়াটারএইডের প্রস্তাবটি ইতিবাচক।

আমরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে চট্টগ্রাম ওয়াসার স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে চাই এবং ডিজিটালাইজেশন ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবার মান উন্নত করতে চাই। বিলিং সিস্টেম উন্নত হলে গ্রাহক সেবার মানও উন্নত হবে এটা নিশ্চিত।
তিনি ডিজিটাল ব্যবস্থাটি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও মতামত প্রদানের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে রাজস্ব সংগ্রহের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন। এ ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠীর রাজস্ব সংগ্রহে ওয়াটারএইডের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিলিং সিস্টেম উন্নয়ন কর্মশালাটি ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম ওয়াসার মধ্যকার সহযোগিতা আরও জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মিটার পরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব: এরশাদ উল্লাহ এমপি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ৮ আসনের এমপি ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে এ্যাব চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দ অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছেন। কেউ যেন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আজ ২০ জুলাই সোমবার বিকেলে এ্যাব চট্টগ্রামের উদ্যোগে ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের চালিতাতলী ও ওয়াজেদিয়ার বিগত টানা বর্ষনে জলাবদ্ধ এলাকায় উপহার সামগ্রী বিতরণ কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন,”দুর্যোগ সাময়িক, কিন্তু আমাদের মানবিকতা স্থায়ী। আমরা জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্হাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, এ্যাব চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দ অতীতের ন্যায় আপনাদের দুর্দিনে পাশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। আজকের এই ত্রাণসামগ্রী হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সব কষ্ট দূর করতে পারবে না, তবে তাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনে সব সময় পাশে আছে। আসুন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহবানে আমরা সবাই মিলে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসি এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াই। এ্যাব চট্টগ্রামের উপহার সামগ্রী ২০০ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয় যার পরিমাণ ১ টন ৬০০ শত কেজি। ৩ নং ওয়ার্ডের চালিতাতলী দারোগা বাপের বাড়ী এবং ওয়াজদিয়া বোর্ড অফিস এলাকায় এসব উপহার দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি ও এ্যাব চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম এর সভাপতিত্বে ও আইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সন্মানি সম্পাদক প্রকৌশলী খান মোঃ আমিনুর রহমান সুমনের পরিচালনায় উপহার সামগ্রী বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম পিআরইউ’র আহ্বায়ক ও দৈনিক দিনকাল চট্টগ্রামের ব্যুরো চীফ হাসান মুকুল, বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কমিটি’র সদস্য মোহাম্মদ ইউসুফ, চুয়েট ছাত্রদলের সাবেক ভিপি প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, প্রকৌশলী রাশেদ আলম, প্রকৌশলী রফিকুন নবী, প্রকৌশলী কামরুল হাসান, প্রকৌশলী আবুল বাশার, প্রকৌশলী ইমাদুল হক শাহিন, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, প্রকৌশলী শাহীন, পিআরইউ’র সদস্য লেখক জহিরুল ইসলাম জহির, বিএনপি’র নেতা মোহাম্মদ ইসমাইল,
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসাজ্জাদ হোসেন খাঁন, ২ নং জালালাবাদ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকজাভেদ ওমর, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহি রুবেল, ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রদল নেতা মোঃ জাহেদ হোসেন ইফতি‌, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল থানার সাধারণ সম্পাদিকা মিসেস নাসিম আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ