ভৌতিক বিলের খপ্পর

চট্টগ্রামে মিটার-সংযোগবিহীন গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৭ লাখ টাকা

বিশ্বজিৎ পাল,

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 কর্ণফুলী পিডিবি অফিস থেকে এক গ্রাহকের নামে পাঠানো ৪টি বিলের যোগফল ৬ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৩ টাকা। যে গ্রাহনের নামে বিল পাঠানো হয়েছে ওই গ্রাহকের কোন মিটার নেই, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এমন ভৌতিক বিলের খপ্পরে পড়া ভুতুড়ে কাণ্ডটি ঘটেছে কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ইঞ্জিনিয়ার খাইর আহমেদ সড়কের প্রকৌশলী আলহাজ্ব মো. সোলায়মানের সঙ্গে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গ্রাহক মো. সোলায়মানের পুত্র ভুক্তভোগী মো. জোবায়ের বাহাদুর বলেন, পিডিবি যে মিটারের বিল দিচ্ছে তার বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, মিটার নেই, নেই ব্যবহার তবুও বিদ্যুৎ বিল আসছে লাখ লাখ টাকা। অথচ আমরা কিছু জানি না। কারণ বাড়ি বিক্রি আমরা চলে এসেছি। এ ঘটনায় প্রতিবেদক বিদ্যুৎ বিল পর্যালোচনা করে দেখেন কর্ণফুলীর এই গ্রাহক কে গত তিন বছরে (২০২২-২০২৪) বিল পাঠানো হয়েছে চারটি। পৃথক পৃথক পাঠানো চারটি বিলের যোগফল প্রায় ৭ লাখ মতো।
অনুসন্ধানে আরো তথ্য মিলে, গত ২৮ মার্চ সর্বশেষ ইস্যু হওয়া বিলে গ্রাহক প্রকৌশলী মো. সোলায়মানের বিল আসে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩২৩ টাকা। যার বিল নম্বর-২৭২১৮০০৫। বুক নম্বর-৯২১। একাউন্ট নম্বর-এ-৮৯০০। মিটার নম্বর-১৪৩১২৯।
বিলের বিস্তারিত পেমেন্ট বকেয়াতে আরো লিখা রয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারীর বকেয়া ১ লাখ ৭১ হাজার ৮০৪ টাকা। এতে বর্তমান রিডিং দেখানো হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৬৯ ইউনিট। পুর্বের ইউনিট দেখানো হয়েছে একই রিডিং। কনজুম ইউনিট দেখানো হয় ৫০০। এ বিলে ভ্যাট ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৬১৭ টাকা। ইলেকট্রিসিটি চার্জ, ডিমান্ট চার্জ ও ৫ শতাংশ ভ্যাটসহ আরও ইউনিট আরো ৪ হাজার ৩৭২ টাকা।
অনুসন্ধানে তথ্য মিলে, এরপুর্বে ২৭ ফেব্রুয়ারী ইস্যু হওয়া বিলে একই গ্রাহকের বিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৪২ টাকা। যার বিল নম্বরটি ছিল-২৭১৫১১৫৯। এতে বর্তমান রিডিং ও পুর্বের রিডিং দেখানো হয়েছে অপরিবর্তিত। কনজুম ইউনিট দেখানো হয় ৫০০ ই। এ বিলে ভ্যাট ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪০৯ টাকা।
এমনকি বিলের বিস্তারিত পেমেন্ট বকেয়াতে লিখা রয়েছে, ২০২৩ সালের জুন হতে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে ৪ হাজার ১৮৮ টাকা করে বিল এসেছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৪ টাকা। অথচ ইউনিটের কোন পরিবর্তন হয়নি। তবুও ইলেকট্রিসিটি চার্জ, ডিমান্ট চার্জ ও ৫ শতাংশ ভ্যাটসহ আরও ইউনিট বিল ৪ হাজার ৩৭২ টাকা।
একই গ্রাহক কে আবার ২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বরে পাঠানো বিল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৯২ টাকা। রিডিং আবারো অপরিবর্তিত। এমনকি ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে ৪ হাজার ১৮৮ টাকা করে গড় বিল দেখানো হয় ১ লাখ ৪২ হাজার ৪৮৯ টাকা। এই বিলেও ইলেকট্রিসিটি চার্জ, ডিমান্ট চার্জ ও ৫ শতাংশ ভ্যাটসহ বিলে যোগ হয়েছে আরও ৩ হাজার ৯৯৭ টাকার বিল সংযুক্ত।একই গ্রাহককে ২০২২ সালের ২৮শে অক্টোবরে পাঠানো বিল ১ লাখ ১৯ হাজার ১১৬ টাকা। ওখানেও বরাবরের মতো বর্তমান ও পূর্বের রিডিং অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বিলে বিস্তারিত তথ্যে বলা আছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারী হতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে ৩ হাজার ৬১৫ টাকা করে বিল ৯০ হাজার ১৯১ টাকা। ইলেকট্রিসিটি চার্জ, ডিমান্ট চার্জ ও ৫ শতাংশ ভ্যাটসহ আরও ৩ হাজার ৪৫১ টাকা ২৫ পয়সা।
এই বিল লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এই বিলের কপিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কতৃক নীল সিল করে গ্রাহক কে জানানো হয়েছে ‘আপনার বকেয়া বিদ্যুৎ পরিশোধ না করায় মামলার জন্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বিলটি পরিশোধ করুন।’ কিন্তু মামলার খবর না পেলেও বিলের খবরে বিস্মিত পরিবারটি।
এদিকে, ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করতে গিয়ে সোলায়মানের বড়পুত্র মোহাম্মদ জোবায়ের বাহাদুর আরো বলেন, আমার বাবা মারা গেছেন আজ থেকে প্রায় ৯ বছর আগে। উনি মারা যাবার পর আমরা আমাদের বাড়িটি বিক্রি করে দিয়েছি। মাহবুব আলম নামে এক ব্যক্তির কাছে। বাড়িটি ছিলো এক তলা সেমিপাকা ভবন। এখন তিন তলা বাড়ি। এমনকি বাড়িতে থাকা আগের বিদ্যুৎ মিটার সারেন্ডার করে দিয়েছি। কিন্তু প্রতিবেদকের কাছে স্বপক্ষে কাগজ দেখাতে পারেনি।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর মইজ্জ্যারটেক উপ-কেন্দ্রের বিল প্রস্তুতকারী রনির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।তবে পটিয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রণয় আচার্য্য বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে। যদিও তখন আমি ছিলাম না। এছাড়া আদৌও গ্রাহক সোলায়মানের পরিবার মিটারটি সারেন্ডার করেছিলো কিনা তাও জানার বিষয়। তবে বাড়ির নতুন মালিক মাহবুব আলম আমার কাছে এই বিষয়িটি নিয়ে কয়েকবার এসেছিলেন। আমি সমাধান করে দেবো জানিয়ে ঈদের পরে আসতে বলেছিলাম তিনি আসেননি।
একই বিষয়ে চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ইঞ্জিনিয়ার খাইর আহমেদ সড়কের প্রতিবেশী মো. আজাদ বলেন, তাহলে পিডিবির মিটারটি গেল কোথায়? কে গায়েব করেছে তা খুঁজে বের করা পিডিবির দায়িত্ব ছিলো। তা না করে পিডিবি কিভাবে একই বাড়িতে নতুন দুটি মিটার দিলেন। বুঝা যাচ্ছে সর্ষে-ভূত। আবার ৪ বছর আগে মাহবুব আলম লিখিত অভিযোগ দিলেও পিডিবি তদন্ত করেনি কার স্বার্থে? নিশ্চয় সবকিছু পিডিবির লোকজন জানতেন। তারাই মোটা অঙ্কের সুবিধা নিয়ে এসব করেছে। যা উচ্চ তদন্ত দরকার।
পটিয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী প্রকৌশলী আ. স. ম. রেজাউন নবী বলেন, ‘বিষয়টি আপনি বলার পরে জেনেছি। আমি খোঁজ নিচ্ছি। অবশ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে দক্ষিণ জোনের পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল বিউবো’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) উজ্জ্বল কুমার মোহন্ত ভালো বলতে পারবেন। পরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহন্ত’র মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের সমস্ত ডকুমেন্টস পাঠিয়েও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের দ্বিতীয় ছেলে মোহাম্মদ নওশের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে মিটার আমরা ব্যবহার করিনি, যে মিটার আমরা ৪ বছর আগে ছেড়ে দিছি। বাড়ি বিক্রি করে রাস্তাঘাটে ঘুরছি। এমনকি মিটারের গ্রাহক মারা গেছেন ২০১৬ সালে। জমি বিক্রি করেছি ২০২০ সালে। এরপরেও মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কেন বিল দিচ্ছে কর্ণফুলী পিডিবি অফিস জানে। এসব আমরা জানি না।
এ প্রসঙ্গে বাড়িটির বর্তমান মালিক মাহবুব আলম বলেন, আমি গত ২০২০ সালে মৃত মো. সোলায়মানের ওয়ারিশ থেকে বাড়িসহ ১০ শতক জমি ক্রয় করি। তখন আমাকে জানানো হয় বাড়িতে থাকা সোলায়মানের মিটারটি পিডিবি’র কাছে সারেন্ডার করা হয়েছে। আমিও কোন মিটার দেখিনি। পরে নিজের নামে মিটারের জন্য আবেদন করি। পিডিবি অফিস সরেজমিনে তদন্ত করে আমার নামে দুটি মিটার স্থাপন করে দেন। যেহেতু বাড়িতে কোন অন্য মিটার ছিলো না। এরপর আমার নামীয় মিটারের নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছি। আমার কোন সমস্যা নেই। অথচ পুর্বের মালিকের নামে এখনো লাখ লাখ টাকার বিল আসছে।
পিডিবিকে বিষয়টি জানিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে ভুক্তভোগী মাহবুব আলম আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে সে সময় আমি বিষয়টি হেড অফিসের বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের পরিচালক মো. আবু ছাইদ সাহেব কে জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু সাড়ে তিন বছরেও তারা তা তদন্ত করেনি। সমাধান করেনি। অথচ এরমধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি হয়েছে কয়েকজন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকার ন্যাম ভবন থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ন্যাম ভবনের ৫নং ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনও জানা যায়নি।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, রুমের জানালা দিয়ে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। তবে কখন, কীভাবে কেন এ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের দেয়া তথ্যে জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের পর ফরেনসিকের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে দুপুরের খাবার খেয়েছেন। এরপর তারা বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আলাদা আলাদা রুমে যান। পরে ৫টার পরে ছোট স্ত্রী মরিয়মকে ডাকতে গেলে দরজা বন্ধ পান। পরে জানালা দিয়ে দেখেন আলোচিত দ্বিতীয় স্ত্রী ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন। পরে তিনি থানা পুলিশকে জানান। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয় বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

রোগীর চাপ সামাল দিতে আরও হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা সিআইএমসি’র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রোগীর চাপ সামাল দিতে আরও এক হাজার শয্যার নতুন হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ (সিআইএমসি)। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কলেজ কনফারেন্স হলে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন সেলিব্রেশন’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,

রোগীর চাপ সামাল দিতে আরও এক হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে ৩০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের পেপারওয়ার্ক শুরু হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কষ্টসাধ্য হওয়ায় সরকার, দাতা সংস্থা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এছাড়া একই ক্যাম্পাসে গত ২২ বছর ধরে দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ৬৫ ইউনিটের ডেন্টাল হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে দৈনিক গড়ে ১৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। সেই সঙ্গে গত আট বছর ধরে সুনামের সঙ্গে নার্সিং কলেজও পরিচালিত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এবং সিআইএমসির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম মোহসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বডির সভাপতি ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, ইসি সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. নুরুন্নবী, প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও একাডেমিক অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা. মো. টিপু সুলতান এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিনা আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২২ সালে জাতীয় সংসদে অ্যাক্রেডিটেশন আইন পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) গঠন করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশি মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের বিশ্বমঞ্চে অবস্থান সুদৃঢ় করা। কারণ অ্যাক্রেডিটেশন ছাড়া বাংলাদেশের কোনো মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বহির্বিশ্বে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সুযোগ পাবেন না। এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কা, ভারত, নেপাল, পাকিস্তানসহ প্রায় সব প্রতিবেশী দেশ এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

২০২৬ সালের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান বিএমইএসি স্বীকৃতি পাবে না, তাদের কোনো শিক্ষার্থী দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষা ও প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। এজন্য দেশের ১২৪টি সরকারি-বেসরকারি ও আর্মি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ২১টি কলেজ আবেদন করে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম দফায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ এবং দ্বিতীয় দফায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ও নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ স্বীকৃতি পায়।

তৃতীয় দফায় স্বীকৃতি পাওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। এর মাধ্যমে দেশে মোট বৈশ্বিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেডিকেল কলেজের সংখ্যা দাঁড়ালো আটটিতে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সিআইএমসি প্রতিষ্ঠার ১৩তম বর্ষ অতিক্রম করছে। এরই মধ্যে কলেজের উদ্যোগে চারটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ১৫টি দেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। মালয়েশিয়া, তুরস্ক, চীন ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে। বর্তমানে কলেজের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল। যেখানে ২১টি বিভাগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। প্রায় সময়ই শয্যা পরিপূর্ণ থাকায় এর অভাবে রোগী ফেরত দিতে হয়। এই হাসপাতালে ১০ শতাংশ রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ