আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে চতুর্থ দিনের মতো শান্তি পূর্ণ অবরোধ পালন করছে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা

এম ইমরান বিন ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রামের রাউজানে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা চতুর্থ দিনের মতো শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালন করছেন।
গত রবিবার সন্ধ্যার দিকে দুই সহপাঠীর মৃত্যুতে পুরো চুয়েট এলাকা এখন থমথমে অবস্থা। চতুর্থ দিনের মতো চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ করছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। এদিকে ঘাতক বাসচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সকাল ১০টা থেকে চুয়েটের মূল ফটকে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা ১০ দফা দাবি আবার তুলে ধরে বলেন, বাস মালিক সমিতি ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছে। এ টাকা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করা হলো। নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে চার কোটি টাকা দিতে হবে। কারণ, শাহ আমানত পরিবহন সড়কে বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার জিয়ানগর এলাকায় ওভারটেক করতে গিয়ে বাসের চালক দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা পাঁচটি নতুন বাস ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বাস ও একটি অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য হলো, তারা চারটি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ক্যাম্পাসে দেখতে চান। আর বাস কেনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরে দ্রুত চিঠি পাঠানো এবং এসব চিঠি নোটিশ আকারে শিক্ষার্থীদের মেইলে পাঠাতে হবে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম পুননির্ধারণ করে নোটিশ আকারে জানানোর দাবি তোলেন শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নে চুয়েট ক্যাম্পাস অবস্থিত। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের একটি অংশ পড়েছে চুয়েট ক্যাম্পাসে।
ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত সড়কে গাছের গুঁড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার জিয়ানগরে বাসের ধাক্কায় মারা যান চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত সাহা এবং একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিক হোসাইন। এ ছাড়া আহত হন একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাকারিয়া হিমু। দুর্ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। সেদিন সন্ধ্যা সাতটায় প্রথম দফায় সড়ক অবরোধ করা হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় শাহ আমানত পরিবহনের একটি বাস। পাশাপাশি আরো দুটি বাস ভাঙচুর করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে রাত নয়টার দিকে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেদিন রাত তিনটায় নতুন আন্দোলনের কর্মসূচি ঠিক করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক বাসের চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার নগরীর কোতোয়ালী এলাকা থেকে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার তাজুল ইসলাম চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের আবদুল খলিলের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে চলাচলকারী শাহ আমানত পরিবহনের বাসের চালক। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, চুয়েট শিক্ষার্থীদের চাপা দেওয়া বাসের চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,ঘটনার পর থেকে এখনো পর্যন্ত চুয়েটের উভয় পাশে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছে মালবাহী ট্রাক। দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ জনগণ। চট্টগ্রাম শহর থেকে সিএনজি করে এসে চুয়েটের গেইট এর আগেই নেমে চুয়েট এলাকা পার হয়ে আবার গাড়িতে উঠতে হয় সাধারণ জনগণের এতে করে দুর্ভোগে পড়েছে অনেক দূরযাত্রীর মানুষ ।

অন্যদিকে দেখা যায়, চুয়েটের শিক্ষার্থীরা সিএনজি করে আসা বিভিন্ন যাত্রীদের সাথে থাকা মালামাল নিজ দায়িত্বে পারাপার করে দিতে। তারা বলে আমরা এখানে শান্তিপূর্ণ ভাবে অবরোধ পালন করতেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের দিকনির্দেশনা আসলেই আমরা অবরোধ উঠিয়ে নিব। তবে এখনও পর্যন্ত আমরা আমাদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার কোন ধরনের আশ্বাস পাই নাই।

সাধারণ জনগণ বলেন, আমরা এই প্রখর রোদের মধ্যে এক গাড়িতে করে নিজের গন্তব্য স্থানে পৌঁছাতাম। কিন্তু এখন চুয়েটে এলাকায় এসে মালামাল সহ গাড়ি চেঞ্জ করতে হয়। ঘটনার আজ চতুর্থ দিন চলতেছে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের কোন নজরদারি নেই। সাধারণ জনগণ সরকারকে দুষছেন। আমরা জানি না প্রশাসন কেন নীরব। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া মেনে নিলেই শিক্ষার্থীরা অবরোধ উঠে নিতে পারত। মধ্যে স্থানে আমরা সাধারণ জনগণই দুর্ভোগে পড়ছি। আমাদেরও দাবি অতি দ্রুত সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ বিপদ ও ভয়মুক্ত হোক।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ