আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

পরিবেশগত এবং সামাজিক সুরক্ষা, শ্রমের মান এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করুন

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সেফগার্ড পলিসি সংশোধনের মাধ্যমে মুনাফার বদলে মানুষ এবং পৃথিবীকে সুরক্ষিত করার দাবী

প্রেস রিলিজ

এডিবির লাভজনক কার্যক্রমকে সুরক্ষিত করা বন্ধ করুন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন আইএসডিই বাংলাদেশ, উপকূলীয় জীবনযাত্রা এবং পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি) এর একটি ভিন্নধর্মী জোট, নাগরিক সমাজের সদস্যবৃন্দ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে একটি প্রতিবাদী প্রতিকী প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সুরক্ষা নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে ২৫ এপ্রিল ২০২৪ইং চট্টগ্রামের সিআরবি চত্ত্বরে এই প্রচারাভিযান আয়োজন করা হয়।প্রোটেক্ট পিপল অ্যান্ড প্ল্যানেট ওভার প্রফিট” শিরোনামের এই ক্যাম্পেইনটির লক্ষ্য এডিবি’র সুরক্ষা কাঠামোর ঘাটতি এবং ত্রুটিগুলির উপর যুক্তিযুক্ত সমালোচনায় আলোকপাত করা এবং বৃহৎ আকারের উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে যে আক্রান্ত জনগোষ্ঠির অধিকার এবং পরিবেশকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে তা সকলের সামনে তুলে ধরা।এই অভিনব প্রতিকী প্রচারাভিযানের মাধ্যমে, জলবায়ু কর্মীরা দাবি করেন যে, “এডিবি-এর সুরক্ষা নীতি ‘জেন্ডার, পরিবেশ এবং জীবনজীবিকা’ এর জন্য হুমকিস্বরূপ। এডিবি জীবাশ্ম গ্যাস এবং অন্যান্য ভুয়া প্রযুক্তির সমাধানে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখছে। তাই পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা, শ্রমের মান এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে।”আলোচকরা দাবী করেন যে, “এডিবি-এর সুরক্ষা নীতি আন্তর্জাতিক পরিবেশ রক্ষার জন্য যে নিয়ম বা পদ্ধতি মানা হয় তেমন মান সম্পন্ন নয় কারণ এটি জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারে সম্মতি দেয়।” তারা আরো বলেন, “এই প্রতিবাদী কর্মসূচীটি মূলত আয়োজন করা হয়েছে এডিবি ও এর প্রকল্প অংশীদারদের অর্থায়নের ফলে সৃষ্ট যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশগত বা সামাজিক প্রভাবে তাদের দায়বদ্ধতাকে তুলে ধরা এবং শক্তিশালী জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য।”২০০৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে, এডিবি জ্বালানিতে প্রায় ১২ বিলিয়ন ইউএস ডলার বিনিয়োগের জন্য নির্দেশ দিয়েছে, যা আপাত দৃষ্টিতে এই অঞ্চল জুড়ে ৪৫ মিলিয়নেরও বেশি পরিবারকে উপকৃত করেছে। এডিবি বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক সহায়তার একটি মূল উৎস, যা ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে ২ বিলিয়ন ইউএস ডলার প্রদান করে। এই প্রচারাভিযানের লক্ষ্য হল এডিবিকে তার সুরক্ষা নীতির সংস্কার এবং সাধারণ জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের অধিকার ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য এর নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।প্রচারাভিযান অনুষ্ঠানে মন্তব্য করতে গিয়ে আইএসডেই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসেন দাবি করেন, “এডিবি কর্তৃক গৃহীত সুরক্ষা নীতির ফলে সারা বিশ্বের জেন্ডার, পরিবেশ, জীবন জীবিকা, মানবাধিকার আজ হুমকির মুখে। সুরক্ষা নীতি দ্বারা মানবতাকেই সমাহিত করা হয়েছে।”। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রেহেনা হবগম রানু বলেন, “এডিবি’র বিদ্যমান সুরক্ষা নীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত ক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষা করা।”। তিনি অবিলম্বে শক্তিশালী সুরক্ষা নীতি গ্রহণের জন্য এডিবিকে আহ্বান জানিয়েছেন। প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণকারীরা যুক্তি দেখান যে মানবাধিকার, শ্রম অধিকার ও পরিবেশ রক্ষায় যে প্রতিকূলতাগুলোর মুখোমুখী হতে হয় সেগুলোকে উপেক্ষা করে একটি সত্যিকারের প্রগতিশীল স্বচ্ছ সুরক্ষা নীতি হতে পারে না।সাধারণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং মুনাফা নয়, পৃথিবী এবং মানুষকে রক্ষা করো” শীর্ষক প্রচারাভিযানটি এডিবির সুরক্ষা নীতিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উন্নয়নের জন্য আরও ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের পক্ষে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রতিনিধিত্ব করে৷ বাংলাদেশের চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ প্রচারাভিযানটি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত আন্দোলনের একটি অংশ যা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সুরক্ষা নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে শক্তিশালী পরিবেশগত এবং সামাজিক সুরক্ষার জন্য দাবী জানিয়ে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিবেশবিদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা ডঃ অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, হারুন গফুর ভুইয়া, সালাহউদ্দীন আহমদ, শাহীন চৌধুরী, রাজনীতিবিদ মিথুল দাস গুপ্ত, সেলিম জাহাঙ্গীর, জানো আলম, সাংবাদিক এম এ হোসেন, যুব সংগঠক আবু হানিফ নোমান, নারী অধিকার কর্মী ফেরদৌসী বেগম মৌসুমী, সুমাইয়া আফরোজ, এডাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী ফোরকান মাহমুদ, তরুন সমাজের প্রতিনিধি রাইসুল ইসলাম, মোহাম্মদ রায়হান, শুভ আহমেদ সাকিব, নাজমুস সাকিব হৃদয়, ইমদাদুল ইসলাম প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কুতুবদিয়ায় আজাদ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ঈদ উপহার পেয়ে খুশি গ্রাম-পুলিশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেছেন কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় দক্ষিণ ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ। এসময় উপহার পেয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গ্রাম পুলিশের সদস্য কাইচার আলম, জয়নাল আবেদীন, হারুন রশীদ, পারভেজসহ অন্যান্য সদস্যরা।

জানা যায়, স্থানীয় দক্ষিণ ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্রাম পুলিশদের মাঝে এ ঈদ উপহার বিতরণ করেন। উপহার হিসেবে দেওয়া হয় পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ।

উপহার গ্রহণকালে গ্রাম পুলিশের সদস্য কাইচার আলম বলেন, “ঈদের আগে এ ধরনের সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এতে আমাদের পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ আরও বাড়বে।”

এসময় স্থানীয় দক্ষিণ ধূরুং ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, “গ্রাম পুলিশরা সবসময় জনগণের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ঈদের আগে সামান্য উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”

ঈদ জামাত সকাল ৮টায়, প্রস্তুত চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ময়দান :চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদ-উল-ফিতরের কেন্দ্রীয় জামাত উপলক্ষে চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বুধবার জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। পরিদর্শনকালে মেয়র নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং রমজানের শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে চট্টগ্রামের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মোস্তফা মনসুর আলম খান, চসিকের জনসংযোগ ও প্রটোকল কর্মকর্তা আজিজ আহমদ, নির্বাহী প্রকৌশলী আনু মিয়া, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া এবং সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে এবং নিচে কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে ওপরে টারপলিন দেওয়া হয়েছে, যাতে আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও ঈদের জামাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। এছাড়া প্রায় ২৫০টি পাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, ৫০টি মাইক এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত সাত দিন ধরে চসিকের উদ্যোগে এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন।

ডা. শাহাদাত বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লি এই কেন্দ্রীয় জামাতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মুসল্লির কথা বিবেচনায় রেখে দুটি জামাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে-প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।তিনি আরও বলেন, মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য তিনটি গেট খোলা রাখা হবে, পাশাপাশি পেছনের গেটটিও ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের ভিড় বা হুড়োহুড়ি না হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে চসিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় চলছে এবং নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গত ১৬ মাসে চট্টগ্রামে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা একটি ‘সেফ সিটি’ বা নিরাপদ নগরী গড়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

মাঠ পরিদর্শনকালে মেয়র আরো বলেন, প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব আলহাজ্ব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক আল কাদেরী।এছাড়া নগরীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে সকাল ৮টায় ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে যথাক্রমে লালদীঘি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রঃ) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুবাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদ (সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সংলগ্ন)।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ