আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

কাঁচের চুড়ি তৈরিতে ব্যস্ত ভোলার বোরহানউদ্দিনের শ্রমিকরা

আরিফ পণ্ডিত :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1. হাতে একজোড়া চুড়ি পরা যেন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রাচীন সভ্যতায় একটি বাক্য খুব প্রচলিত ছিল, বিবাহিত নারীরা চুড়ি না পরলে স্বামীর অমঙ্গল হয়। এসব কুসংস্কার হলেও বাঙালী নারীরা নিজেদের ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিতেই বাক্যটি সত্য হিসেবেই মেনে নিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এমন নারী খুঁজে পাওয়া ভার যার হাতে একজোড়া চুরি নেই।

কিশোরী থেকে বৃদ্ধা সবার হাতেই চুড়ি। কিনে দে রেশমি চুড়ি, নইলে যাব বাপের বাড়ি, দিবি বলে কাল কাটালি, জানি তোর জারিজুড়ি… আশা ভোষলের গাওয়া জনপ্রিয় এই গানে স্রোতারা আজও বিমুগ্ধ। চুড়ি বা বালা যে নামেই ডাকা হোক না কেন, বাঙালী নারীদের কাছে এর জনপ্রিয়তা যুগ থেকে যুগান্তর অবধি থাকবে। এটি নারীর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। আর এই সৌন্দর্যের চুড়ি তৈরিতে রয়েছে  শ্রমিকদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম।

ঈদুল আযাহ সামনে রেখে কাঁচের চুড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার নতুন বাজার (হাকিমদ্দিন রোড)  চুড়ি তৈরির কারখানার শ্রমিকরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে এই কর্মব্যস্ততা। বসে নেই নারী শ্রমিকরা। পুরুষদের সাথে সমান তালে কাজ করে চলেছেন নারী শ্রমিকরা। বছরের দুটি ঈদকে কেন্দ্র করেই ৬ মাস চালু থাকে চুড়ি তৈরির কারখানাটি।

৪ বছর আগে কাচের চুড়ি তৈরির কারখানাটি গড়ে উঠে। এ কারখানাটির পাশাপাশি একই স্থানে গড়ে উঠেছে আরো একটি কারখানা। চুড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল হিসেবে কাঁচ ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া ভোলার কয়েকটি স্থান থেকেও এ চুড়ি তৈরিতে কাচ সংগ্রহ করা হয়। কারখানাগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে বিশাল একটি চুল্লীতে আগুন জ্বালিয়ে এ কাচ গলানো হয়। পরে বিভিন্ন মেশিনের মাধ্যমে তৈরি করা হয় কালো ও সাদা রংয়ের কাঁচের চুড়ি। সেগুলোকে ব্রুজ হিসেবে ঢাকায় বাজারজাত করা হয়। ঢাকায় নিয়ে এ চুড়িগুলোকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়া হয়। প্রথমে এ চুড়িগুলোকে জোড়া লাগানো এবং পরে বিভিন্ন রংয়ে রঙিন করে তোলা হয়। এরপর তা বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজারে বাজারজাত করা হয়।

এ কারখানাটিতে প্রতিদিন ২৫০-৩০০ ব্রুজ চুড়ি তৈরি করা হয়। প্রতি ব্রুজ কাঁচের চুড়ি ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। এ প্রতিষ্ঠানে ১০-১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অন্য জেলা থেকে এসে কাজ করছেন। অন্য জেলা থেকে আসা কারিগররা চুড়ি তৈরির কাজের সাথে বহু বছর ধরে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছেন। এক শ্রমিক জানান, চুড়ি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বহন করে। বাংলার নারীদের কাছে আহ্বান, তারা যেনো এই ঐতিহ্য ধরে রাখে। স্থানীয় লোকজন বলেন, স্থানীয়ভাবে কারখানাটি নির্মাণ হওয়ার কারনে স্থানীয় বেকার লোকজনের বেকারত্ব দূর হয়েছে। এখানকার পুরুষেরা বেশিরভাগ নদীতে কাজ করে। তাই সংসারের হাল ধরতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা সংসারের কাজের ফাঁকে ওই কারখানায় কাজ করে বাড়তি আয় করছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ফুটপাতে উদ্ধার নবজাতকের চিকিৎসা শেষে জিম্মায় দিল পুলিশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় পরিত্যক্ত এক নবজাতককে উদ্ধার করে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে আইনি প্রক্রিয়ায় নিরাপদ জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ।

কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালী থানাধীন ব্রিজঘাট সংলগ্ন এস আলম বাস কাউন্টারের বিপরীত পাশের ফুটপাতে পরিত্যক্ত অবস্থায় একদিন বয়সী একটি ছেলে নবজাতক উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটিকে গামছা ও তোয়ালে জড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দুর্বল থাকায় কোতোয়ালী থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নূরে আল মাহমুদ জানান, প্রায় ২০ দিনের চিকিৎসা শেষে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে হাটহাজারী উপজেলার চিকনণ্ডী ইউনিয়নের বাদামতল এলাকার বাসিন্দা জেসমিন আক্তারের জিম্মায় দেওয়া হয়। শিশুটির সার্বিক খোঁজখবর নিয়মিত রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

পথশিশুদের আইন দিয়ে নয় আদর দিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনুন – আমীরুল ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পথশিশুদের প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের ডিসি আমীরুল ইসলাম। তিনি বলেন, পথশিশুরা আমাদেরই সন্তান। অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে উঠলেও এদের মধ্যেও রয়েছে অসীম মেধা ও সম্ভাবনা। সঠিক পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনা পেলে তারাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে “আমরা চাটগাঁবাসী” সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত পথশিশু ও কিশোরদের জন্য ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং ভালোবাসা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে পথশিশুদের কাছে টানতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে সমাজে অপরাধ প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবিএম ইমরানের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি গোলাম মওলা মুরাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমী, পাঁচলাইশ থানার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম এবং প্রোগ্রামের স্পন্সর ওয়াহিদ ইলেক্ট্রিশিয়ান্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বাতেন।

আমরা চাটগাঁবাসীর যুগ্ম সম্পাদক জানে আলম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাঁচলাইশ থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল আবসার, স্বর্ণলতা স্কুলের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রবিউল হোসেন, আরটিআর তারেক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠক তাহসান হাবিব, অধরা মেঘ কলি ও মোঃ আলীসহ অনেকে।অনুষ্ঠানে পথশিশুদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয় এবং তাদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।অনুষ্ঠান শেষে ডিসি মহোদয় বাছাইকৃত শিশু-কিশোরদের নিজ কার্যালয়ে তুলে এনে ঈদের জামা উপহার দেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ