আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামের বে-টার্মিনালে সিঙ্গাপুরের শিপিং কোম্পানী পিএসএ বিনিয়োগ করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিটাগাং চেম্বারের সাথে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনার’র মতবিনিময়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লো গতকাল শনিবার চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র পরিচালকমন্ডলীর সাথে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ চেম্বার কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় চেম্বার প্রেসিডেন্ট ওমর হাজ্জাজ, সহ-সভাপতি রাইসা মাহবুব, পরিচালকবৃন্দ অঞ্জন শেখর দাশ, মোঃ রকিবুর রহমান (টুটুল), মাহফুজুল হক শাহ, বেনাজির চৌধুরী নিশান, নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন, আখতার উদ্দিন মাহমুদ, মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, ওমর মুক্তাদির, এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর’র দক্ষিণ এশিয়ার ডেভেলপ্টমেন্ট পার্টনার ক্লারেন্স চং, সিঙ্গাপুরের শিপিং কোম্পানি পিএসএ’র লিম উই চিয়াং, বাংলাদেশ প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জহির বক্তব্য রাখেন। এসময় সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্যা এফেয়ার্স শীলা পিল্লাই, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর মিশেল লী ও কর্মকর্তা এস্টার লী, চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এ. কে. এম. আক্তার হোসেন, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম, এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর’র বেনজামিন চু (ইবহলধসরহ ঈযঁব) ও পিএসএ’র ওং ঝি পিং উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনার ডেরেক লো বলেন-ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সিঙ্গাপুরের জন্য বাংলাদেশের বিশেষ করে চট্টগ্রাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের বে-টার্মিনালে সিঙ্গাপুরের শিপিং কোম্পানী পিএসএ বিনিয়োগ করছে। যার মাধ্যমে চট্টগ্রামে বে-টার্মিনাল ট্রান্সফরমেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বৃহৎ বন্দরে উপনীত হবে। এর মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। হাইকমিশনার বাংলাদেশের এগ্রো এবং ফিশিং সেক্টরের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন-সিঙ্গাপুর ছোট দেশ হওয়াতে সবজি, ফলমূল এবং মিঠা পানির মাছ বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকা থেকে আমদানি করে। দূরত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে এ সকল পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন-লজিস্টিক্স সেক্টরে বিশ্বে উন্নত সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশেও রয়েছে লজিস্টিক্স সেক্টরের অফুরন্ত সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সিঙ্গাপুরের লজিস্টিক্স সেক্টর সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে। তিনি বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সিঙ্গাপুর সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সাথে সিঙ্গাপুরের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়নের লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ দূতাবাস স্থাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ বলেন-সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অংশীদার। উভয়দেশই নবায়নযোগ্য জ্বালানী, লজিস্টিক্স এবং ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের জন্য একসাথে কাজ করতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতামূলক চুক্তি করেছে। এছাড়া উভয়দেশের মধ্যে ডাবল ট্যাক্সেশন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক চুক্তিও রয়েছে। চট্টগ্রামের সাথে রয়েছে সিঙ্গাপুরের ধারুণ সাদৃশ্য। তাই চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে এশিয়ার বৃহত্তম বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে বিনিয়োগসহ বাংলাদেশের ভৌগোলিক সুবিধা, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, সুলভ মূল্যের শ্রমিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পর্যটন, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত মৎস্য, হস্তশিল্প, প্লাষ্টিক, কোল্ড চেইন, লজিস্টিক্স, খেলনা, মিঠা পানির মাছ এবং এগ্রো প্রসেসিং সেক্টরে বিনিয়োগের আহবান জানান। একই সাথে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা প্রদানে চিটাগাং চেম্বারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

চেম্বার সহ-সভাপতি রাইসা মাহবুব জনশক্তিকে মানবসম্পদে পরিণত করতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীদের যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপন ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের আহবান জানান। একই সাথে সিঙ্গাপুরের সাথে বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি বাড়াতে বাংলাদেশে মিশন শক্তিশালীকরণ এবং চট্টগ্রামে মিশন স্থাপনের আহবান জানান।
অন্যান্য বক্তারা বলেন-শিপিং খাতে অনুকরণীয় দেশ হচ্ছে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশের চলমান বে-টার্মিনাল প্রকল্পে সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ শিপিং সেক্টরের ব্যবসায়ীদের মনে আশার সঞ্চার করেছে। সিঙ্গাপুরের পিএসএ কোম্পানী বে-টার্মিনালকে আন্তর্জাতিক টার্মিনালে পরিণত করবে। তারা একই সাথে বাংলাদেশে ইলেক্ট্রোনিক খাত, ডিস্যালাইনেশন, শিক্ষা, প্রযুক্তি, কারিগরি এবং শিপিং খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীদের একক বা যৌথ বিনিয়োগের আহবান জানান বক্তারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মতিউর রহমান চৌধুরী নোয়াব সভাপতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী  মালিকদের সংগঠন- নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ