বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গড়তে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে : বিভাগীয় কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোঃ তোফায়েল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিজ্ঞানমনষ্ক হয়ে উঠতে হবে। দেশকে বিশ্বের সামনে উপস্থাপনার জন্য শিশু কিশোরদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দিকে নিজের মেধাকে বিকশিত করতে হবে। বিজ্ঞানমনস্ক জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে হলে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে পরিচিতি করে দিতে চাই।

গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মহানগরীর জামালখানস্থ ডা. খাস্তগীর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ২ দিন ব্যাপী ৪৫তম বিজ্ঞান মেলা, ৮ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও ৮ম বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবনের নামে হ্যাকার সৃষ্টি বা ধ্বংস্বাত্মক কার্যক্রম যাতে না হয় সে দিকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে পজিটিভ পরিবর্তন যাতে আসে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা ও শিক্ষা-দীক্ষায় বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠলে ২০৪১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে পারবো।
জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার (শিক্ষা) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদ ইশরাকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলার আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইয়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ সাদি উর রহিম জাহিদ ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার উত্তম খীসা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নগরীর জামালখানস্থ ডা. খাস্তগীর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও.এফ,এম ইউনুছ।
জেলা প্রশাসক বলেন, তথ্য প্রযুক্তিতে আমাদের দেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা স্টিম এডুকেশন অর্থ্যাৎ সাইয়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথম্যাথিকস্ বিষয়ে পড়ালেখা করলে বিশ্বের যে কোন দেশ তাদের জন্য শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে উন্মুক্ত। তোমরাই গ্লোবাল সিটিজেন। বিশ্বে সাইয়েটিস্টের অনেক চাহিদা রয়েছে। তাই পুঁথিগত জ্ঞান নয়, প্রযুক্তির মাধ্যেমে বিশ্বে টিকে থাকতে হলে স্কিল ডেভেলপ করতে হবে, বিভিন্ন দেশের ভাষা শিখতে হবে। তিনি আরো বলেন, পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার চিন্তা করলে সুনাগরিক হওয়া যাবে না। প্রযুক্তিগতভাবে স্কিল ডেভেলপ করতে পারলে আমরা উন্নত দেশ গড়তে পারবো। এখন আমাদের মাথাপিছু গড় আয় সাড়ে ৩ হাজার মার্কিন ডলার। আজ থেকে ১৭ বছর পর ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ হলে আমাদের মাথাপিছু গড় আয় হবে সাড়ে ১২ হাজার মার্কিন ডলার। তাই কুসংস্কার থেকে দুরে থেকে বিজ্ঞান মনস্ক জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। নতুন প্রজন্মের হাতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবনেই সমৃদ্ধি’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। মেলায় ১০টি সরকারী বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বেসরকারী স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা ৬০টি স্টলে তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবন প্রদর্শন করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও রং মেশানো চানাচুর বিক্রি চট্টগ্রামে জরিমানা গুনল ৩ প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও রং মেশানো চানাচুর বিক্রি, নকল চাল বাজারজাত এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করাসহ বিভিন্ন অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী বাজারে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানে এ বি এম ফুডকে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট ও রং মেশানো চানাচুর বিক্রির দায়ে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। হাজী শফিউল বশর নামের প্রতিষ্ঠানকে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এ ছাড়া মেঘনা স্টোরকে নামবিহীন প্যাকেটে নকল চাল বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।বাজারে ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম বিভাগে কিশোর গ্যাং-ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার-৮৫৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৮৫৭ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে পরিচালিত অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন ১২০ জন। একই সময়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৪৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, আটক ৪৩৪ কিশোরের মধ্যে ৩৭২ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে ৭৩, কক্সবাজারে ৩২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯, চাঁদপুরে ৬৯, নোয়াখালীতে ৯১, ফেনীতে ১২, লক্ষ্মীপুরে ৯৫, রাঙামাটিতে ১৬ এবং খাগড়াছড়িতে ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিয়মিত মামলায় ৮৪, পূর্ববর্তী মামলায় ৫৭, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ৩২, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সাত এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।এছাড়া পরোয়ানামূলে ১২৮, সাজা পরোয়ানামূলে ২৯ এবং মাদক মামলায় ৫৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মাদক মামলায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন মাদক বহনকারী ও ৫৭ জন সেবনকারী।
নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় আরও ৬১ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযানে মোট গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ১২০ জনকে।

এদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৭০০ টাকা। এ সময়ে ৪৮টি মাদক মামলা করা হয়েছে।অভিযানে ২ হাজার ৭৬১টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯০ কেজি ৪২০ গ্রাম গাঁজা, ৩৫ লিটার চোলাই মদ, ৯০ বোতল বিয়ার, ৫৮ বোতল বিদেশি মদ এবং ৬৭ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মিনি কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়েছে।কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১৩ সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে চার, কুমিল্লায় দুই, নোয়াখালীতে পাঁচ, ফেনীতে একজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।

আলোচিত খবর

২৯ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়।

এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ