চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বিধ্বস্ত প্রশিক্ষণ বিমানের পাইলটের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনার পর বিমানটির পাইলট ও কো-পাইলটকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার পর পাইলটের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার (বন্দর) শাকিলা সোলতানা বিষয়টি জানিয়েছেন। নিহত স্কোয়াড্রন লিডার আমিম জাওয়াদ নগরীর পতেঙ্গায় বিমানবাহিনীর জহরুল হক ঘাঁটিতে অফিসার্স আবাসিক এলাকায় থাকতেন।
এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জহুরুল হক ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর রাশিয়ান প্রশিক্ষণ বিমান ওয়াইএকে-১৩০ কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বিধ্বস্ত হয়। এ সময় বিমানটির পেছনে আগুন জ্বলতে দেখেন স্থানীয়রা। তবে এ সময় বিমানের পাইলট ও কো-পাইলট প্যারাসুট দিয়ে নেমে যেতে সক্ষম হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দূর্ঘটনায় পতেঙ্গা বোট ক্লাবের কাছে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের বিপরীতে এইচ এম স্টিল মিলের সামনে পড়ে নদীতে তলিয়ে যায়। বিমানটিতে দুইজন পাইলট ছিলেন, উইং কমান্ডার সোহান ও স্কোয়াড্রন লিডার আমিম জাওয়াদ। আহত সোহান বর্তমানে বিমানবাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটিতে তাদের নিজস্ব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার (বন্দর) শাকিলা সোলতানা বলেন, বিধ্বস্ত হওয়ার সময় বিমানের পাইলট ও কো-পাইলট প্যারাসুট দিয়ে নেমে যেতে সক্ষম হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যুর বিষয় আমরা নিশ্চিত হয়েছি।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, বিমান দুর্ঘটনার পর কর্ণফুলী নদীর মোহনায় দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘন্টাখানেক জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। সাড়ে ১১টার পর আবার স্বাভবিক হয়েছে।
জানা গেছে, স্কোয়াড্রন লিডার অসীম জাওয়াদ ২০০৭ সালে এসএসসি ও ২০০৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ- ৫ পেয়ে সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হন সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। ২০১০ সালে বাংলাদেশ এয়ারফোর্স একাডেমিতে (বাফা) যোগদান করেন। ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে পাইলট অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলায়। তিনি ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর’স স্কুল অফ বিএএফ-এ স্টাফ ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে। অসীম জাওয়াদ নিজের ট্রেনিং জীবনে সকল বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পেয়েছেন গৌরবমণ্ডিত ‘সোর্ড অফ অনার’। সাভার ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এখন পর্যন্ত তিনিই একমাত্র ‘সোর্ড অফ অনার’ বিজয়ী। ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টরস কোর্সে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পেয়েছেন ‘মফিজ ট্রফি’। এছাড়া তার দায়িত্ব¡শীলতা ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার জন্য প্রশংসা পেয়েছেন চিফ অফ এয়ার স্টাফ থেকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে কোটি টাকা চাঁদা চেয়েই গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাব্বির

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: গত আগস্টে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা দুবাইপ্রবাসী মোহাম্মদ শওকতকে পাঠানো এক অডিওবার্তায় চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।চাঁদা না দেয়ায় ১০ আগস্ট রাতে শওকতের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় সাব্বির হোসেন সানি (৩৪) নামে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়।

ওই সময় সাব্বির ব্যবসায়ীকে ফোনে বলেন, এক ঘণ্টা পর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। সুন্দরভাবে কথা বলবে, ব্যবহার খারাপ করবে না। ভাই যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটা মাথায় রাখবে। আর যদি ছেলেপেলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তাহলে ৫০ লাখের জায়গায় এক কোটি দিতে হবে। ভাইয়ের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলে বিষয়টি ক্লিয়ার করে নাও।ঘটনার আড়াই মাস পর ওই অডিওবার্তা পাঠানো যুবককে শনাক্ত করে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার নাম সাব্বির হোসেন সানি (৩৪)। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও তিনি চট্টগ্রামের হামজারবাগ এলাকায় থাকতেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাব্বির বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী। অডিওবার্তায় যে ‘বড় ভাইয়ের’ কথা বলা হয়েছে, তিনি বড় সাজ্জাদ।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, দুবাইপ্রবাসী শওকতের কাছে চাঁদা দাবিসহ তিনটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে সাব্বিরের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া কয়েক মাস আগে আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় দুজনের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তার নাম এসেছে। জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। পাঁচলাইশ থানার মামলাগুলোতে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বড়দিঘীর পাড় এলাকায় চাঁদার দাবিতে নির্মাণাধীন একটি ভবনে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায়ও সাব্বির আসামি।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল জানিয়েছেন, গত বছর বড় সাজ্জাদের নির্দেশে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন সাব্বির। এরপর তাঁর নির্দেশে চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। এ কাজের জন্য সাজ্জাদ তাকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন দিতেন। সাজ্জাদের আরেক অনুসারী ডেভিড ইমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তার বিকল্প হিসেবে সাব্বিরকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন সাজ্জাদ।বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের মুখে সাব্বির পালিয়ে নারায়ণগঞ্জে চলে যান বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানিয়েছেন, বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের একজন বোরহান। সাব্বির ছিলেন বোরহানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন। ডেভিড ইমন গ্রেফতার হওয়ার পর বড় সাজ্জাদের আরও কাছাকাছি চলে আসেন সাব্বির।

পুর্বধলায় ৪ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক, ৩ মাসের কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. নুরুজ্জামান (২৮) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার যাত্রাবাড়ী বাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত মো. নুরুজ্জামান পূর্বধলা উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের ভটপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে নুরুজ্জামানকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে চার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলামের নির্দেশনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
​আইনি প্রক্রিয়া শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ