ওসিকে পিটাইছি এমন মন্তব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী; আছকির মিয়ার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজার:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আছকির মিয়া বলেছেন, শ্রীমঙ্গলের সম্মান রক্ষার স্বার্থে আমি নির্বাচনে আসছি। আজ শ্রীমঙ্গলে কার কাছে যাবেন, কে জানে। পুলিশ যখন সুযোগ পায়, তখন মানুষের ওপর নির্যাতন করে। সামরিক আইনে আমি থানায় ঢুকেও ওসিরে পিটাইছি। আপনারা সবাই জানেন। এসব আপনাদের জানা আছে, এ কারণে তিনদিন হাজত খাটলেও নিরপরাধ প্রমাণিত হয়ে আসছি। আমরা চাই, সকল অপরাধমুক্ত সমাজ হোক। সমাজে কোনো অপরাধী না থাকুক, মানুষ শান্তিতে থাকুক।

গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের হুগলিয়া বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা সভায় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ভানুলাল রায়কে ইঙ্গিত করে তিনি এ কথা বলেন। তার বক্তব্যের পর উপজেলা জুড়ে এক ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। সাথে যোগ হয়েছে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ভিন্ন মাত্রার এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নির্বাচনী মাঠে বেশ উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

আছকির মিয়া বলেন, সরকারি বরাদ্দ আসে আপনাদের জন্য। তা যেন সঠিকভাবে ব্যবহার হয়। পিকনিকে নয়। এবারের পিকনিক হয়েছে সরকারি টাকায়। তখন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। এখন একটা পিকনিক করুক, এখন তো আর ক্ষমতা নাই। সরকারি টাকাও নাই। কোটি টাকা সরকারের অপচয় হয়েছে। এই হিসাব সে ক্ষমতা থেকে যাক, তারপর আপনাদের সঙ্গে নিয়ে হিসাব বের করা হবে।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবরা অফিসে বসে অনেক হানাহানি করছে। তর্কবিতর্ক করেছে। ভূনবীরের চেয়ারম্যান, কালাপুরের চেয়ারম্যান দু’জন অনেক তর্কবিতর্ক করেছে। সরকারি টাকা আসলো আমাদের বরাদ্দ কোথায়? সরকারি টাকা ইউনিয়নে সঠিকভাবে বরাদ্দ না দিয়ে বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিকে বরাদ্দ দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেছেন। দালাল কেনার চেষ্টা করেছেন। আমাদের সাবধান হতে হবে। আমরা আমাদের সরকারি বরাদ্দের টাকা সঠিকভাবে যাতে ব্যবহার করতে পারি, কাজে লাগাইতে পারি এবং মানুষ ভালোভাবে চলাফেরা করতে পারে সে জন্য নির্বাচনে প্রার্থী এবার হয়েছি। বীর মুক্তিযোদ্ধা আছকির মিয়া এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। তিনি এরশাদ জমানায় প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য। এর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিরও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

দ্বিতীয় দফায় ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ২৯শে মে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের আরও তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তারা হলেন- বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়, উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান চা জনগোষ্ঠীর সন্তান প্রেম সাগর হাজরা ও শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আফজাল হক।

এ প্রসঙ্গে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রার্থী ভানুলাল রায় বলেন, উনি এসব বিভ্রান্তিকর মিথ্যা ও বানোয়াট কাল্পনিক তথ্যের ওপর বক্তব্য দিয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত আছেন। পুলিশ প্রশাসনের একজন কর্মকর্তাকে থানায় ঢুকে তিনি মেরেছেন, এ ধরনের বক্তব্য রেখে নিজেকে কি জাহির করতে চেয়েছেন? যা তার অতীত রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস পর্যালোচনা করে শ্রীমঙ্গলবাসী জানতে পারবেন। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হোক এমন বক্তব্য তিনি সব জায়গায় রাখছেন। যাতে সংখ্যালঘু ভোটারগণ শঙ্কিত হয়ে সেন্টারে না আসেন। ভুনবীরে এক সংখ্যালঘু নারীকে নানাভাবে হুমকি ধামকি প্রদানের বিষয়ে থানায় জিডিও করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পদ্মার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ দুর্যোগের সময়ে বানভাসি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে চিলমারী ইউনিয়নের বাংলা বাজার-উদয়নগর এলাকায় বিজিবির কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) উদ্যোগে ৫০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী (চাল, ডাল, তেল, আটা ও লবণ) বিতরণ করা হয়।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন এবং কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।

দুর্যোগের এই সময়ে বিজিবির পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উদয়নগর গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চারদিকে পানি উঠায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব বিপদে আছি। না ছিল খাওয়ার ব্যবস্থা, না ছিল চলাচলের উপায়। এই কঠিন সময়ে বিজিবির কর্মকর্তারা নিজ হাতে আমাদের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর রাখছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বানভাসি মানুষদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে আমাদের এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। দুর্গম ও প্লাবিত এলাকাগুলোতে বিজিবির টহল ও পর্যবেক্ষণ জোরদার রয়েছে।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেষে বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির অর্পিত দায়িত্বের অংশ। পদ্মার পানি বাড়ায় এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমরা সাধ্যমতো খাদ্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি এবং বন্যাকবলিত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত -সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই রায়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তারা। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ