এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান চট্টগ্রামের বাবর আলী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে ১১ বছর পর বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করলেন বাবর আলী। গতকাল রোববার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় (বাংলাদেশ সময় ৮টা ৪৫মিনিট) এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন তিনি।বেসক্যাম্প টিমের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অভিযানের প্রধান সমন্বয়ক ফরহান জামান। এছাড়া
বাবর আলীর প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে আপডেট তথ্য দেওয়া ‘ভারটিক্যাল ড্রিমার্স’ পেজেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে হিমালয়ের শীতিধার চূড়া জয়ের জন্য বাবর আলী রওনা দিয়েছিলেন ১ এপ্রিল। চূড়াটি পর্বতের ১৫ হাজার ৫০০ ফুট ওপরে। সকাল সাড়ে ৮টায় সেখানে তিনি বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান।
তবে অভিযান কিন্তু এখনও শেষ নয়, শুধু এভারেস্ট নয়, বাবরের লক্ষ্য সঙ্গে লাগোয়া পৃথিবীর চতুর্থ শীর্ষ পর্বত লোৎসেও। গতকাল রোববার ক্যাম্প-৪ এ নেমে মাঝরাতে আবারও শুরু করারর কথা রয়েছে দ্বিতীয় লক্ষ্যের পথে যাত্রার। সব অনুকূলে থাকলে পৌঁছতে পারেন এর চূড়ায়।
জানা গেছে, লিয়াকত আলী ও লুৎফুন্নাহার দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান বাবর আলী। বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে ডাক্তার হবে। ছেলে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। তার জন্ম হাটহাজারী উপজেলায়। বাবর আলী পেশায় একজন চিকিৎসক। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে শুরু করেছিলেন চিকিৎসা পেশা। এ পেশা ছেড়ে মাথায় চাপে দেশ-বিদেশ ঘোরার নেশা। সঙ্গে নানান স্বেচ্ছাসেবী কাজে যোগ দেন। করোনাকালে চিকিৎসা সেবায় ছিল এ তরুণের ভূমিকা। হেঁটে বাংলাদেশ ও সাইকেল চালিয়ে ভারতবর্ষ পাড়ি দেওয়া বাবর আলী এবার লিখলেন নতুন গল্প। এই গল্প শুধু নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নয়, দেশকে গর্বিত করারও।
সন্তানের বিজয়ে বাবরের বৃদ্ধ বাবা-মা খুশিতে আত্মহারা, একইসঙ্গে শঙ্কিতও। ছেলে ঠিকমতো শৃঙ্গচূড়া থেকে নেমে তাদের বুকে ফিরে না আসা পর্যন্ত কাটবে না এ শঙ্কা। শুধু কী বাবর আলীর স্বজনরা, চট্টগ্রামও আজ ভাসছে আনন্দে সন্তানের এমন অনন্য অর্জনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দনের বন্যা বইছে।
‘ভারটিক্যাল ড্রিমার্স’ পেজে বলা হয়, ‘অবশেষে! পৃথিবীর শীর্ষ এভারেস্ট ছুঁয়েছি আমরা! ১১ বছর প্রতীক্ষার পর আজ (গতকাল) তৃতীয় মেরুতে উড়েছে লাল-সবুজ! ঠিক শুনছেন। আমাদের স্বপ্ন সারথি বাবর আলী আজ (রোববার) সকাল স্থানীয় সময় ৮টা ৩০ (বাংলাদেশের সময় ০৮ টা ৪৫ এ) আকাশ ছুঁয়েছে। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এবং লাখো শুভাকাঙ্খীদের দোয়ায় প্রকৃতি মাতা বাবরকে ক্ষণিকের জন্য স্থান দিয়েছেন নিজের চূড়ায়।
অভিযানের সমন্বয়ক ফরহান জামান জানান, মাউন্ট এভারেস্টে অভিযান নিঃসন্দেহে দুরুহ একটা কাজ। আজ সেটি সম্পন্ন করে বাবর ২৭ হাজার ৯৪০ ফুট উচ্চতার মাউন্ট লোৎসে আরোহণে যাত্রা করবেন। বাংলাদেশ থেকে আগে এভারেস্ট আরোহণ হলেও একই অভিযানে এভারেস্ট এবং লোৎসে আরোহণের চেষ্টা হয়নি পূর্বে। সেই চ্যালেঞ্জই নিয়েছেন গত বেশ কয়েক বছর ধরে নিজেকে হিমালয়ের নানান চূড়ায় অভিযানের জন্য প্রস্তুত করা বাবর। এই অভিযানে মোট খরচ হচ্ছে ৪৫ লাখ টাকা। যাতে মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আছেন ভিজ্যুয়াল নীটওয়্যার লিমিটেড। এছাড়া সহ-পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ঢাকা ডাইর্ভাস ক্লাব, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ব্লু জে, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনী, গিরি, ভারটিক্যাল ড্রিমার্স। অভিযানের জন্য গণ তহবিল সংগ্রহে অংশ নিয়েছেন দেশ-বিদেশের নানা সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন এবং অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষী। অভিযানের সার্বিক সমন্বয় করেছে ডা. বাবর আলীর নিজের ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স।
জানা গেছে, ২০১৪ সালেই ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত নেপালে এক হিমালয় অভিযানে বাবর সামিট করেন পাঁচ হাজার মিটার উচ্চতার পর্বত। সেই তার হিমালয়ে পথচলা শুরু। এরপর পর্বতারোহণের বিশুদ্ধতম ধরন বলে পরিচিত আল্পাইন স্টাইলে ২০১৬ সালে ক্লাব থেকে সামিট হয় ভারতের মাউন্ট ইয়ানাম, যা ছিল বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার কোন ২০ হাজার ফুট উচ্চতার পর্বত সামিট এবং সেই দলের সদস্য ছিলেন তিনি। পর্বতারোহণকে ধ্যানজ্ঞান মেনে তিনি বেসিক মাউন্টেনিয়ারিং কোর্স করেন ভারতের নেহেরু ইন্সটিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং থেকে। ২০১৪ সাল থেকে প্রায় প্রতিবছর করেছেন এক বা একাধিক হিমালয় অভিযান। এছাড়াও নিজেকে উপযুক্ত করে তুলতে বাবর নিয়মিত দৌঁড়ান, করেছেন ক্রস কান্ট্রি সাইক্লিং, করেন কায়াকিং, পায়ে হেঁটে টানা ৬৪ জেলা ভ্রমণ করেছেন সিঙ্গেল ইজার প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৩ এপ্রিল কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে সাইকেলযাত্রা শুরু করেছিলেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী বাবর আলী। এক মাসের চেষ্টায় প্রায় চার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারি গিয়ে থেমেছিলেন তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষ্যে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে পেশেন্ট ফোরাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দরনগরীর সর্ববৃহৎ হাসপাতাল এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম বিশ্ব স্ট্রোক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ (২৯ অক্টোবর) একটি পেশেন্ট ফোরাম ও সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করছে।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘এভরি মিনিট কাউন্টস’ কে সামনে রেখে অ্যাক্ট-ফাস্ট ক্যাম্পেইন শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মূলত স্ট্রোকের লক্ষণ সহজে চেনা এবং রোগীকে তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসার আওতায় আনাই এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য।

এ প্রসঙ্গে, এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের চিফ অপারেটিং অফিসার বিনয় কাউল বলেন, “স্ট্রোক এমন একটি জরুরি অবস্থা, যেখানে সময়ই সবচেয়ে বড় বন্ধু ও শত্রু হতে পারে। রোগীকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছালে তার সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়বে, এবং দেরি করলে বাড়বে ঝুঁকি। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে ভালোভাবে জানা ও করণীয় সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমরা বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষ্যে এই পেশেন্ট ফোরাম ও র‍্যালি আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে পারবো বলে আশা করছি।”

এভারকেয়ার হসপিটালস বাংলাদেশ-এর মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের ডিরেক্টর ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, “এ বছরের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিটই অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। লক্ষণ বুঝতে দেরি হলে রোগীর সুস্থ হওয়া, এমনকি বেঁচে থাকার সুযোগও কমে যায়। আসুন সবার সম্মিলিত উদ্যোগে আমরা সাধারণ জনগণকে স্ট্রোক নিয়ে আরও সচেতন করে তুলি।”

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের নিউরোসার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর ডা. মোঃ আনিসুল ইসলাম খান বলেন, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছালে সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশন বা থ্রম্বোলাইসিসের মতো চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত করা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের নিউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর ডা. সোমেন চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতি চারজনের একজন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন। মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা নিস্তেজ অনুভব করা, কথা জড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণগুলো সাধারণত স্ট্রোককে ইঙ্গিত করে। স্ট্রোক হলে প্রতি মিনিটেই মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হতে থাকে। সময়মতো হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিলে রোগীর প্রাণ বাঁচানো ও সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে—এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই এই আয়োজন।

পেশেন্ট ফোরামে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের চিফ অপারেটিং অফিসার বিনয় কাউল; মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের ডিরেক্টর ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির; নিউরোসার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর ডা. মোঃ আনিসুল ইসলাম খান; নিউরোসার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আমিনুর রহমান (আজাদ); নিউরোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট এন্ড কোঅর্ডিনেটর ডা. সোমেন চৌধুরী ও ডাঃ মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী, এ্যাটেন্ডিং কনসালট্যান্ট – নিউরোলজি।

পেশেন্ট ফোরাম শেষে আগত অতিথি, চিকিৎসক, মেডিকেল স্টাফস, রোগীর স্বজন ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ