সরগরম চট্টগ্রামের সংস্কৃতি অঙ্গন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ৮ জুন শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরগরম চট্টগ্রামের সংস্কৃতি অঙ্গন
আগামী ৮ জুন শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচন
ছবি-২
চট্টগ্রাম ব্যুরো: শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের সংস্কৃতি অঙ্গন। আগামী ৮ জুন এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন হয়েছিল ২০১৮ সালে। তিন বছর মেয়াদের ওই কমিটি ছয় বছর পার করার পর সেটি বিলুপ্ত করে সম্প্রতি এডহক কমিটি গঠন করা হয়, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে জুনে। এ অবস্থায় গত ২ মে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সাদি উর রহমান জাদিদ নির্বাচনী উপ-কমিটির রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এতে ৮ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত ৯ মে থেকে মনোনয়ন পত্র বিতরণ শুরু হয়। ১৫ মে ছিল মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষদিন। গতকাল রোববার মনোনয়নপত্র বাছাই হয়। ২৬ মে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন। বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ২৩ জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে নির্বাচন আয়োজনের তোড়জোড়ের মধ্যে আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান গত ১৪ মে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেন। জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে শিল্পকলা একাডেমির কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি। স্মারকলিপিতে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি জানান।
জানতে চাইলে রাশেদ হাসান বলেন, গঠনতন্ত্রে বার্ষিক সাধারণ সভার কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু গত ছয় বছরে সাধারণ সদস্যদের নিয়ে একটি সভাও করা হয়নি। নির্বাচনের পর সহ-সভাপতি রণজিৎ রক্ষিত মারা গেছেন। শূন্যপদ পূরণ করা হয়নি। গঠনতন্ত্রে বলা আছে, তিনবছর পর কমিটি অটো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সেই কমিটি যে আরও তিন বছর তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করল, সেটা তো অবৈধ। ছয় বছরে সদস্যদের একবারও চাঁদা পরিশোধের জন্য বলা হয়নি। অথচ গঠনতন্ত্রে বলা আছে, দুইবছর চাঁদা পরিশোধ না করলে তার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। ছয়বছর পর এতে গত ৪ এপ্রিল মেসেজ পেলাম, ২২ এপ্রিলের মধ্যে বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ করে সদস্যপদ নবায়ন করতে হবে। চাঁদা পরিশোধের সময় দিল ৪ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল। তখন ঈদুল ফিতর, পহেলা বৈশাখের বন্ধের সময়। অনেক সদস্য চাঁদা জমা দিতে পারেননি। মোট সদস্য ছিল ৬৭১ জন। যতদূর খবর পেয়েছি, নবায়ন করেছে ৫৪৩ জন। ১৫-২০ জনের মতো মারা গেছেন। তাহলে আরও একশ’রও বেশি সদস্য তাদের সদস্যপদ নবায়ন করতে পারেননি।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সাধারণ সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, হঠাৎ করে বলা হল ৮ জুন নির্বাচন। কোরবানির ঈদের মাত্র আটদিন আগে, তার ওপর হজের সময়, উপজেলা নির্বাচন চলছে, এটি কি শিল্পকলার নির্বাচন করার উপযুক্ত সময় হলো? এটা হীরক রাজার দেশ নাকি? নির্বাচন দেবেন আর সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলাপ করবেন না? সদস্যদের এত অমর্যাদা কেন করছেন ?
কমিটির আর্থিক কর্মকাণ্ডে কোনো স্বচ্ছতা ছিল না অভিযোগ করে রাশেদ হাসান বলেন, করোনার সময় শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে অনেক সদস্যকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে, এটি আমরা দেখেছি। কিন্তু কাকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে, কত টাকা এসেছে, কিভাবে বিলিবণ্টন হয়েছে এর কোনো স্বচ্ছতা নেই। গত ছয় বছরে শিল্পকলা একাডেমি বরাদ্দ করা অর্থ কীভাবে খরচ করেছে, সেটিও সদস্যদের জানানো হয়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্যবিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু বলেন, বার্ষিক সাধারণ সভা হয়নি, এটি অসত্য তথ্য। প্রথমবার সাধারণ সভা হয়েছে। এরপর করোনার কারণে দুই বছর করতে পারিনি। বর্তমান জেলা প্রশাসক দায়িত্ব নেয়ার পর কমিটি বিলুপ্ত করে এডহক কমিটি গঠন করে দেন। সেই কমিটির মেয়াদ জুন পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবেই এডহক কমিটিকে জুনের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিতে হবে। অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বিষয় বলা হচ্ছে। এখানে তো সাধারণ সম্পাদকের কোনো এখতিয়ার নেই। শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার পদাধিকার বলে কমিটির অর্থ সম্পাদক আর জেলা প্রশাসক সভাপতি। খরচের কোনো বিল-ভাউচার কিংবা চেকে সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর কিংবা মতামত নেওয়ার কোনো গঠনতান্ত্রিক বিধান নেই বলে তিনি জানান।
কিছু সদস্যপদ নবায়ন করতে না পারার অভিযোগের বিষয়ে বাবু বলেন, সদস্যপদ নবায়নের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, ফেসবুকে শিল্পকলা একাডমির পেইজে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আমরাও নিজেরা নবায়নের অনুরোধ করে নিজেদের টাইমলাইনে পোস্ট করেছি, প্রত্যেক সদস্যকে মেসেজ দেওয়া হয়েছে। এরপরও অবহিত না করার যে বিষয় বলা হচ্ছে, সেটা একান্তই তাদের ব্যক্তিগত। আর কীভাবে বললে অবগত হতেন সেটা আমার জানা নেই।
যুগ্ম সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কংকন দাশ বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত কিংবা জেলা শিল্পকলা একাডেমির যে কোনো বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি, জেলা প্রশাসক এবং এডহক কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী যদি নির্বাচন হয়, তাহলে অবশ্যই অংশগ্রহণ করবো। যদি পুনঃতফসিল হয়, তাহলে সে অনুযায়ী অংশ নেব। আমরা এখন সাধারণ সদস্য মাত্র। এখানে আমাদের সিদ্ধান্তের কোনো বিষয় নেই।
জানা গেছে, পুনঃতফসিলের দাবি জানানো রাশেদ হাসান প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি। কংকন দাশ একই সংগঠনের সহ-সভাপতি। সেই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল সদস্য পদে নির্বাচন করছেন। রাশেদ হাসানের সঙ্গে স্মারকলিপি জমা দেয়া আবৃত্তিশিল্পী সেলিম রেজা সাগরও সদস্য পদে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাইফুল আলম বাবু প্রশ্ন তুলেছেন, বার্ষিক সাধারণ সভা কিংবা আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে অভিযোগ গত চার বছরে কেন তোলা হয়নি। শিল্পকলা একাডেমি একটি সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, এটি নাচ-গানের কোনো ক্লাব নয়। গত নির্বাচনের সময়ও এ ধরনের নানা অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বলা হচ্ছে, চার বছর ধরে সাধারণ সভা হয়নি, অনিয়ম হয়েছে। তাহলে চার বছরে একজন সদস্যও কেন বিষয়টি বললেন না। ৪ এপ্রিল সদস্যপদ নবায়নের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এরপর ২২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় ছিল। কেউ তো এসে বললেন না যে, সময় বাড়াতে হবে। কেউ বললেন না আপনারা মিটিং ডাকুন।
বাবু আরও বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে স্মারকলিপি দিয়ে অভিযোগ করার দরকার ছিল না, বিষয়টা তো বসেই সমাধান করা যেত। বাইরে বাইরে কথা না বলে, আমরা তো সবাই বন্ধুবান্ধব, সংস্কৃতিকর্মী, আমরা তো একসঙ্গে বসে কথা বলতে পারতাম। এভাবে আলোচনার মাধ্যমে তো বৃহৎ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটিকে ছোট করা হচ্ছে, সংস্কৃতিকর্মীদের ছোট করা হচ্ছে, যে ৫৪৩ জন তাদের সদস্যপদ নবায়ন করেছেন, তাদেরও ছোট করা হচ্ছে।
সাইফুল আলম বাবু বলেন, আসলে আমি গত ছয় বছর ধরে মাঠে ছিলাম, করোনার সময় সংস্কৃতিকর্মীদের পাশে ছিলাম। এর ফলে আমার যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, সেটা ক্ষুন্ন করার জন্য কেউ কেউ মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যারা সকালে ডিসি অফিসে গিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন, বিকেলে তাদের কেউ কেউ আবার নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, একটা পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য এটা করা হচ্ছে। নির্বাচন বানচালের পরিস্থিতি।
জানতে চাইলে রাশেদ হাসান আরো বলেন, অনেকে বলছেন- এতদিন পর কথাগুলো কেন বলছেন? কখন বলব? ছয়বছরে একটা সাধারণ সভা হয়নি, কোথায় বলব? কেউ কেউ বলছেন- শেষ মুহূর্তে এসে কেন বলছেন? আমি বললাম- শিল্পকলার মেম্বার কী আমি একজন? আপনারা পাবলিকলি বলেননি কেন? শিল্পকলার সদস্যদের কাজ কি শুধু নির্বাচনে ভোট দেওয়া?
আমি আমার প্রতিবাদটা জানিয়ে রাখলাম। নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি করেছি এবং বিদ্যমান তফসিলে নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। এরপরও যদি নির্বাচন জোরপূর্বক করে ফেলে, তাহলে করবে। আমি তো আর রাজনৈতিক দলের কর্মী না যে, মারামারি করবো। নির্বাচন হয়ে গেলে হয়ে যাবে। শিল্পকলার সেক্রেটারি হওয়া না হওয়া আমার জন্য বড় বিষয় নয়, আমি তো রাজনৈতিক দলের সদস্য নই, আমার মূল পরিচয় আমি একজন শিল্পী।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার বলেন, শিল্পকলার নির্বাচন নিয়ে কিছু কিছু কথাবার্তা হচ্ছে শুনেছি। কেন, ঠিক কী কারণে সমস্যা, সেটা বলতে পারছি না। দুয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় কিছু নিউজ দেখেছি। সেখানে বার্ষিক সাধারণ সভা না হওয়া, আর্থিক কিছু বিষয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগগুলো যৌক্তিক, তবে যার বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে, তাদেরও বক্তব্য থাকতে পারে, সেটা দেখলাম না। যার কারণে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে। কেউ ক্ষমতায় গেল বা কোনো পোস্টে বসলো মানেই সব দায়দায়িত্ব তার, বিষয়টা এমন নয়। আমারও তো দায়দায়িত্ব আছে। দিনশেষে ক্ষমতায় যাওয়া ব্যক্তি যেমন শিল্পকলার একজন সাধারণ সদস্য, আমিও একজন সাধারণ সদস্য। আবার দিনশেষে আমরা সবাই সংস্কৃতিকর্মী। সুতরাং সমস্যা থাকলে, সেটা আমরা বসে ঠিক করে ফেলতে পারতাম। কারণ শিল্পীদের জন্যই শিল্পকলা।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। সুন্দরভাবে নির্বাচন হয়ে যাওয়াটাই কাম্য। তবে তিন বছরের নির্বাচন ছয় বছরে হওয়া কাম্য নয়। সাংবাদিকদের নির্বাচন, আইনজীবীদের নির্বাচন যদি মেয়াদের মধ্যে হতে পারে, সংস্কৃতিকর্মীদেরটা হতে পারবে না কেন? নির্বাচন যদি সঠিক সময়ে হয়ে যেত, তাহলে এসব জটিলতা তৈরি হতো না। সার্বিকভাবে বলতে পারি যে, একটা ঐক্যমত্যে পৌঁছে সুন্দরভাবে নির্বাচনটা হওয়া অসম্ভব কিছু নয়, এটার জন্য এত অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের প্রয়োজন ছিল না।
বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত নাট্যজন রবিউল আলম বলেন, একটা নির্বাচন যেহেতু হচ্ছে, এখানে পক্ষে-বিপক্ষে কথা আসবেই। এটাকে খুব বড়ো করে দেখার কিছু নেই বলে আমি মনে করি। দেশের অনেক শিল্পকলা একাডেমিতে তো নির্বাচনই হয় না। খোদ ঢাকাতেও হয় না। সুতরাং নির্বাচন হলে যে শিল্পকলায় খুব বড়কিছু হয়ে যাবে আর না হলে শিল্পকলা ধ্বংস হয়ে যাবে, সেটা আমি মনে করি না। গত ছয় বছর তো একটা কমিটি ছিল। তাদের তো খুব বেশি কর্মকাণ্ড আমি দেখিনি জাতীয় দিবসে ফুল দেয়া ছাড়া। সেক্রেটারি খুবই একটিভ ছিলেন, উনি ক্যারিশমেটিক লোক। বলতে গেলে, উনি একাই পুরো কমিটিকে ধরে রেখেছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে প্রতিমন্ত্রী, বৃক্ষ রেপন ও স্টেশনের কার্যক্রম পরিদর্শন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেল ও সড়ক পথের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব হাবিবুর রশিদ হাবিব আকস্মিক সফরে কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং স্টেশন এলাকার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
স্টেশনে পৌঁছালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. মমিনুল ইসলাম মামুন মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব লুৎফুর রহমান কাজল, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব), প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) এবং রেলওয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।সফরকালে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের পরিবেশ, অবকাঠামো এবং চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগরের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে দেখা যাচ্ছেনা ৩৬ ট্রাফিক সহায়ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক সহায়তাকারী গ্রুপ (ট্যাগ)-এর কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। যার ফলে নগরের যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নতুন করে আবারো চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অর্থ সংকটের কারণে ট্রাফিক সহায়তাকারী গ্রুপ (ট্যাগ)-এর এমন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যার ফলে নগরের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন না ৩৬ জন ট্যাগ সদস্য। তবে ট্রাফিক পুলিশ বলছেন, এই পরিস্থিতিতে সিএমপির নিজস্ব জনবল দিয়েই চলবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহায়ক সদস্যদের সম্পৃক্ততা ইতিবাচক ভূমিকা রেখে আসছিল। তাদের কার্যক্রম সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু বাজেট সংকটের কারণে তাদের কার্যক্রম হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ট্রাফিক পুলিশকে যানজট নিরসনে বেগ পেতে হবে।

এদিকে কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পরপরই সেবা পুনরায় চালুর দাবিতে সরকারের উচ্চপর্যায়, পুলিশ সদর দপ্তর ও সিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ট্যাগ সদস্যরা। আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, সংকটময় সময়ে পুলিশের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নগরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই মানবিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে কার্যক্রম পুনর্বহাল এবং সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে যখন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ সংকটে পড়ে, তখন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ট্রাফিক সহায়তাকারী গ্রুপ মাঠে নামে। এরপর থেকে ট্রাফিক কনস্টেবল, সার্জেন্ট, ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ট্রাফিক সহায়তাকারীদের দাবি, আয়তনের তুলনায় চট্টগ্রাম নগরে প্রয়োজনীয় সড়ক না থাকায় প্রতিদিনই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বন্দর নগরীর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগরের ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করে যানজট নিয়ন্ত্রণ, পথচারী ও চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করেছেন তারা।

আবেদনে দাবি করা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তারা প্রায় ১৭ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠাতে ট্রাফিক বিভাগকে সহায়তা করেছেন। এছাড়া ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায়ে ৭ হাজারের বেশি যানবাহন আটক এবং ৯ হাজারেরও বেশি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন। একই সময়ে বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে ১৫০ জনের বেশি মোবাইল চোর ও ছিনতাইকারীকে আটক করে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া অন্তত আটটি হত্যা মামলার সাক্ষী হিসেবে ট্যাগ সদস্যরা আদালতে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। ফলে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগ সদস্যদের দাবি, তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে তৎকালীন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮-এর ১০ ধারা অনুযায়ী সহায়ক পুলিশ হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি প্রস্তাব পাঠান। ওই আবেদনের সঙ্গে ৩৬ জন সদস্যের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকাও সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিষয়টি প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ট্যাগ সদস্যদের পক্ষে ইনচার্জ মো. আজিম উদ্দিন ছিদ্দিকী বলেন, আমরা শুরু থেকেই জনস্বার্থে পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নয়, অপরাধী ধরতেও সহযোগিতা করেছি। আজ অর্থ সংকটের কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেল। কিন্তু এতে শুধু আমরা নই, নগরবাসীও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।তিনি বলেন, আমরা সবাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী। এখানে যে সম্মানী পেতাম, তা দিয়েই পড়াশোনার খরচ ও পরিবারকে সহায়তা করতাম। এখন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়বেন। তাই সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকল্পটি পুনরায় চালু করা হোক।

অন্যদিকে লিখিত আবেদনে ট্যাগ সদস্যরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- মামলার সাক্ষী হওয়ায় সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ট্রাফিক সহায়তাকারী কার্যক্রম পুনরায় চালু রাখা, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও নগরবাসীর সেবার স্বার্থে প্রকল্প অব্যাহত রাখা, আর্থিক সংকটে শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা এবং নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আগের মতো দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, ট্রাফিক সহযোগী সদস্যরা মূলত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তাদের সম্মানী, ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয় জড়িত রয়েছে। এ কারণে আপাতত ট্যাগ সদস্যদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এখন সিএমপির নিজস্ব জনবল দিয়েই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হবে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ