আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে ভবন মালিককে খুনের পর লাশ গুম, যাবজ্জীবন কেয়ারটেকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ভবন মালিককে খুন করে লাশ গুমের মামলায় কর্মচারীকে সাজা দিয়েছেন একটি আদালত। গতকাল রোববার চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞা এ রায় দেন। এর মধ্যে খুনের অপরাধে তাকে যাবজ্জীবন এবং লাশ গুমের অপরাধে তাকে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত মোহাম্মদ হাসান (৪৫) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পূর্ব আজিমপুর আদর্শবাজার এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে। ঘটনার সময় নগরীর খুলশী থানার শতাব্দী হাউজিং সোসাইটির রাসেলের কলোনীতে তার বাসা ছিল। খুন হওয়া ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনে তিনি কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে কাজ করতেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো.আনোয়ার হোসেন আদালতে হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ১৯ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে আদালত এ রায় দিয়েছেন। রায়ে খুনের দায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হাসানকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া লাশ গুমের অপরাধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় হাসানকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর আদালতের নির্দেশে সাজামূলে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে বেঞ্চ সহকারি ওমর ফুয়াদ জানিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর নগরীর খুলশী থানার পশ্চিম খুলশীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকার জমির হাউজিং সোসাইটিতে নির্মাণাধীন একটি ভবনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থেকে ওই ভবনের মালিক নিজাম পাশার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ৬৫ বছর। বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধুরং ইউনিয়নে। খুনের ঘটনায় খুলশী থানায় মোহাম্মদ হাসানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন নিজাম পাশার স্ত্রী সেলিনা ইয়াছমিন।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন- ২০১৯ সাল থেকে জালালাবাদ জমির হাউজিং সোসাইটিতে একটি সাততলা ভবন নির্মাণ করছিলেন তার স্বামী নিজাম পাশা। ভবনটির নির্মাণ কাজের তদারকির জন্য মোহাম্মদ হাসানকে নিয়োগ দেন তিনি। হাসান বিভিন্ন সময় তার লোকজনকে নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করতে নিজাম পাশাকে বাধ্য করতেন। এ নিয়ে হাসানের সঙ্গে নিজাম পাশার মনোমালিন্য হয়। হাসানকে বিদায়ের পরিকল্পনা নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরে নিজ বাড়ি ফটিকছড়ি থেকে নিজাম পাশা শহরে আসেন নির্মাণাধীন ভবনের কাজ দেখতে। কিন্তু রাত ১০টা ৩৯ মিনিটে দারোয়ান হাসান ভবন মালিকের মোবাইল থেকে নিজামের মেয়েকে ফোন করে জানায় তার বাবা ভবনে আসেননি। লোক দিয়ে নির্মাণ সামগ্রী পাঠিয়েছেন। কিন্তু মোবাইল ফোন তার কাছে কেন- সে প্রশ্ন করায় উত্তরে হাসান জানায়, সেটিও লোক মারফত তার কাছে পাঠিয়েছে। এ সময় হাসান তাকে ২০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে।
হাছানের অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ জাগে নিহত নিজামের মেয়ের। এরপর তার স্ত্রী ও স্বজনরা রাতেই ফটিকছড়ি থেকে চট্টগ্রামে রওনা করে রাত ২টার দিকে নির্মাণাধীন ভবনে পৌঁছান। বিভিন্ন দিকে খোঁজাখুঁজির পর নিজামকে না পেয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তারা দ্বারস্থ হয় পুলিশের। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে আশেপাশে খোঁজাখুঁজির পর নিজামের নির্মাণাধীন ভবন সংলগ্ন একটি স্থানে আবর্জনার স্তুপের ভেতর থেকে নিজাম পাশার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন হাসান। হত্যাকাণ্ডের দুইদিন পর ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে নগরীর কোতোয়ালী থানার রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে খুলশী থানা পুলিশ। সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল, ভবনের রঙের কাজ নিজের লোক দিয়ে করানোর প্রস্তাবে নিজাম পাশা রাজি না হওয়ায় তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন হাসান। এরপর লাশ টেনেহিঁচড়ে নিজের কক্ষ থেকে বের করে ময়লা-আবর্জনার ভেতর লুকিয়ে রাখে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

চট্টগ্রামে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলার আরও দুই আসামি গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নরুমপুর এলাকার শাহজাহান মোল্লা প্রকাশ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মিজান (৫৩) ও সন্দ্বীপ থানার কালাভানিয়া এলাকার মৃত বোরহান উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন (৩৮)।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, র‌্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ জানুয়ারি নগরের খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১৬ নম্বর এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ২৬ জানুয়ারি ভোরে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকায় পৃথক অভিযানে সন্দেহভাজন পলাতক আসামি মো. মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব-৭ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে চারজন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজন র‌্যাব সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এ ঘটনায় র‌্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ