আজঃ শুক্রবার ১২ জুন, ২০২৬

মধ্যরাতে স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজল নেত্রকোনা

রিপন গুন নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনা:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তীব্র দাবদাহের পর ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় মধ্যরাতে স্বস্তির পরশ ছড়িয়ে নামল বৃষ্টি।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে রবিবার মধ্যরাত থেকে আজ (২৭ মে) সোমবারেও ঝরছে বৃষ্টি সঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া। এতে কয়েক দিনের অব্যাহত ভ্যাঁপসা গরম কমে কিছুটা শীতলতা অনুভূত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। তবে, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, থেমে থেমে আসা দমকা হাওয়ায় সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে স্বস্তি মিললেও ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবী ও স্কুল- কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। অফিসগামীরাও পড়ছেন ভোগান্তিতে। কেউ ছাতা কেউবা রেইনকোট পরিধান করে বের হয়েছেন। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কাজে বের হয়েছেন দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ। দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিতে যাত্রী কম হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা।

নেত্রকোনা সদরের তেরী বাজার মোড়ের রিকশাচালক রহিছ মিয়া বলেন, রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ভোর রিকশা লইয়া (নিয়ে) বাইর অইতাম (বের হতে) পারি নাই। মাঝখানে একটু থামছিল, পরে আবার শুরু হইছে। রাস্তায় যাত্রীও কম।

বড়বাজার এলাকার ব্যবসায়ী সুজন ব্যাপারী বলেন, বৃষ্টি হওয়াতে ভ্যাপসা গরম কমেছে। তবে টানা বৃষ্টি ও এমন দমকা হাওয়ার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। চলতে ফিরতে সমস্যার কারণে কাস্টমার আসছে কম।

বারহাট্টা উপজেলার বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ তাহেরুল ইসলাম বলেন, ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি থাকায় স্কুল এবং কলেজের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা অনেক কম। তাই ৪র্থ ঘন্টার পর ছুটি দিয়ে দিয়েছি।

নেত্রকোনা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সোমবার সারাদিনই বৃষ্টি হবে। এমনকি মঙ্গলবারও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি বয়ে চলেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি, জরিমানা গুনল দুই কারখানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও এফআইডিসি রোডের স’ মিল এলাকার আলিফা আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।অস্বাস্থ্যকর, নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে বিভিন্ন রাসায়নিক, নিম্নমানের রং, ফ্লেভার ব্যবহার করে আইসক্রিম তৈরি ও বাজারজাত করায় এই জরিমানা দায়ের করা হয়। এছাড়া নিম্নমানের রং, ফ্লেভার ও নিম্নমানের আইসক্রিমে লাভেলো কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে বাজারজাত করার অপরাধে শহীদ পাড়ার আম্মাজান আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকেও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ( চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত চান্দগাঁও থানার এফআইডিসি রোড ও শহীদ পাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে। এতে নেতৃত্ব দেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা।একই অভিযানে মূল্যতালিকা না থাকায় এক মুদি দোকানিকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়ার বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর রেলস্টেশনে ট্রেনের আসন বৃদ্ধির দাবি উত্থাপন করেন জাতীয় সংসদে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর এলাকায় ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি বৃদ্ধি এবং আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ৩৩০,পাবনা ও সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

তিনি বলেন, এই দাবি বাস্তবায়িত হলে ৭০,পাবনা-০৩ আসন (ভাঙ্গুড়া,চাটমোহর ও ফরিদপুর) সহ আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমে আসবে।জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকে ট্রেনে যাত্রী পরিবহনে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর রেল স্টেশন অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ স্টেশন।
রাজধানী ঢাকা যাতায়াতে পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর উপজেলা সহ আশেপাশের অঞ্চলের জনগণ বড়াল ব্রিজ রেল স্টেশন বেশি ব্যবহার করে। অন্যদিকে পাবনা সদর, আটঘরিয়া ও চাটমোহরের যাত্রীরা ঢাকা যাতায়াতে চাটমোহর রেল স্টেশন ব্যবহার করে।

বর্তমানে দুটি রেল স্টেশনে ঢাকাগামী পাঁচটি ট্রেনের যাত্রা বিরতি হয়। ভাঙ্গুড়ার বড়াল ব্রিজ রেল স্টেশনে পাঁচটি ট্রেনে প্রায় ১৮০টি ও চাটমোহর স্টেশনে প্রায় ২৮০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এ দুটি রেল স্টেশনে প্রতিদিন বরাদ্দের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ যাত্রী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন রেল স্টেশনে যাতায়াত করেন। ফলে অধিকাংশ যাত্রী কে আসন বিহীন টিকিটে যাত্রা করতে হয়।

এতে যাত্রীদের যেমন ভোগান্তি ও তেমনি সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয়। বিষয়টি বিবেচনা করে সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা এই রুটে ঢাকাগামী সব ট্রেনের যাত্রা বিরতি ও অধিক আসন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদে।এ বিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, কৃষি, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এসব প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষ কে নিয়মিত ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করতে হয়। ট্রেন পথ এ অঞলের মানুষের ঢাকা যাতায়াতের প্রধান ও সাশ্রয়ী মাধ্যম।

কিন্তু ট্রেনে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ কে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই তিনি এই রুটের সব ট্রেনের যাত্রা বিরতি ও আসন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন জাতীয় সংসদে।জৈনক ভাঙ্গুড়া বাজারের বাসিন্দা বলেন, যাত্রীদের চাপের বিবেচনায় বড়াল ব্রিজ রেল স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কম। ফলে অনলাইনে টিকিট বরাদ্দের পরপরই শেষ হয়ে যায়। এতে অধিকাংশ যাত্রীকে দাঁড়িয়ে ট্রেনে যাতায়াত করতে হয়,যা অত্যন্ত কষ্টের। তাই সংসদ সদস্যের এই দাবিকে সাধুবাদ জানাই।

বড়াল ব্রিজ রেল স্টেশনের ইনচার্জ শফিউল ইসলাম বলেন, এই রেল স্টেশনে আসন বরাদ্দের চেয়ে যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। ফলে সংসদ সদস্যের এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও জনকল্যাণকর। ফলে এটি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ