চট্টগ্রামে নারীসহ ৫০ জলদস্যুর আত্মসমর্পণকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

খুব শিগগির সমস্ত অঞ্চল জলদস্যু ও ডাকাতমুক্ত ঘোষণা করব

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খুব শিগগির সমস্ত অঞ্চল জলদস্যু ও ডাকাত মুক্ত ঘোষণা করব বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় র‌্যাব-৭ কার্যালয়ে ‘জলদস্যু আত্মসমর্পণ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। ওই অনুষ্ঠানে দেশে প্রথমবারের মতো একজন ‘নারী জলদস্যু’ আত্মসমর্পণ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ১২টি গ্রুপের ৫০ জন জলদস্যু ৮০টি অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছেন।

চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের সিকিউরিটির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। এসব এলাকায় জলদস্যুরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ এখানে একজন মহিলা জলদস্যুও আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা কখনও অত্যাচারিত বা নিপীড়িত হয়ে বাধ্য হয়ে এসব কাজে জড়িয়ে থাকেন। স্থানীয় প্রভাবশালী লোকেরাও তাদের বাধ্য করেন এসব কাজে জড়াতে।

সুন্দরবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সুন্দরবনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান রক্ষায় ২০১২ সালে র‌্যাবের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স গঠন করে তাদের দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। র‌্যাবের দু:সাহসিক অভিযানে সুন্দরবন জলদস্যু মুক্ত হয়। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনকে জলদস্যু মুক্ত ঘোষণা করেন। তারা যাতে আর সে কাজে ফিরতে না পারে তাদের আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। আজ তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। কেউ ব্যবসা করছে বা অন্য কাজ করছে। সুন্দরবনে জলদস্যুদের ভালো অবস্থা দেখে আজ অন্যরাও উদ্বুদ্ধ। যারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আর যারা ফিরে আসেননি, আমরা কাউকে ছাড় দেব না। যে কোনো মূল্যে অপরাধীদের দমন করব। তারা যেন অপরাধ করার চিন্তাও না করে, সে কাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করছে। তিনি বলেন, জলদস্যুতা আপনাদের জীবনে কখনও শান্তি ফিরিয়ে আনবে না। আমরা খুব শিগগির সমস্ত অঞ্চল জলদস্যু ও ডাকাত মুক্ত ঘোষনা করব। আমরা কাউকে ক্ষমা প্রদর্শন করবো না। যারা এ পেশা ত্যাগ করবে না, তারা কী দু:সংবাদ লিখে নিয়ে যাবেন সেটা মহান আল্লাহ জানেন। কাউকে ক্ষমা করা হবে না।

চরমপন্থী নির্মূলের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, পাবনাতে ৬০০, সিরাজগঞ্জে তিনশর বেশি চরমপন্থী গ্রুপের নেতাকর্মী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদেরও সরকার সহযোগিতা করেছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ও খুনের মামলা আছে তাদের কোনোভাবে সহযোগিতা করা হবে না।
র‌্যাবের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, জম্মলগ্ন থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করতে গিয়ে র‌্যাবের ৩৩ জন সদস্য জীবন দিয়েছেন। হাজার হাজার র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন। অনেকের অঙ্গহানিও হয়েছে। জনগণের কাছে র‌্যাব একটি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক।
অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, র‌্যাব সন্ত্রাসীদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। জঙ্গি নির্মূল র‌্যাবের ভূমিকা অপরিসীম। র‌্যাব অপরাধ দমনের জন্য কিছু সৃজনশীল কাজ হাতে নিয়েছে। জনগণের শান্তির জন্য পুলিশের সঙ্গে র‌্যাব কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। সুন্দরবন জলদস্যুদের আস্তানা ও আধিপাত্য ছিল। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করেছেন। যেটা র‌্যাবের মাধ্যমে হয়েছে। জলদস্যুদের সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকার বিভিন্ন কাজ করছে। জাল, নৌকা, দোকান দেওয়া হয়েছে। ঘর করে দেওয়া হয়েছে। দুবলার চরে সুপেয় পানির জন্য র‌্যাব ওয়াটার প্ল্যান্ট করে দিয়েছে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম -১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফ, র‌্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলাম, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মাহাবুব আলম, রেঞ্জ ডিআইজি নূরে আলম মিনা ও র‌্যাব-৭ অধিনায়ক মাহবুব আলম ।
দুপুর ১ টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পতেঙ্গায় র‌্যাব-৭ এর এলিট হলে আত্মসমর্পণ করেন তারা। এ ৫০ জনের মধ্যে তিনজন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত জলদস্যু। জলদস্যুদের পক্ষে ১১ জন তাদের অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে জমা দেন।
এ প্রসঙ্গে র‌্যাব বলছে, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় চিহ্নিত জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে। এসব মানুষের মধ্যে অনেকে জলদস্যুদের দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। আর এলাকার স্থানীয় অস্ত্র কারিগররা প্রতিনিয়ত জলদস্যুদের দেশীয় অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি অংশ সরবরাহ করে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের দমন, দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারিগর ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাব প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। আজকের এ আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল জলদস্যুমুক্ত হবার পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। ফলশ্রুতিতে এ অঞ্চলের সাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম আগামীর দিনগুলোতে আরও বেগবান হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালী আহলা শ্রীশ্রী জয়কালী বিগ্রহ মন্দির প্রাঙ্গনে খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়েই শারদোৎসবের প্রস্তুতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী আহলা গ্রামে অবস্থিত শ্রীশ্রী জয়কালী বিগ্রহ মন্দির প্রাঙ্গনে দুর্গাপুজো ২০২৬-এর প্রস্তুতিতে জমজমাট হয়ে উঠল ধলঘাট-আহলা মিলন সংঘ। মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হল এ বছরের দুর্গাপুজোর খুঁটি পুজো। গত শুক্রবার সকাল ১১টায় শ্রীশ্রী জয়কালী বিগ্রহ মন্দির প্রাঙ্গনে খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল শারদোৎসবের প্রস্তুতি।

এ বছর ধলঘাট-আহলা মিলন সংঘের দুর্গাপুজো পা দিচ্ছে ৫৮তম বর্ষে। ফলে এবারের পুজোকে ঘিরে শুরু থেকেই রয়েছে বাড়তি উত্তেজনা।৫৮তম বর্ষকে স্মরণীয় করে তুলতে বিশেষ আয়োজনের এবারের ভাবনা-মনের মানুষ। ভাবনা ও সৃজনে- কাল্পনিক ইভেন্টস্, মাতৃরূপায়নে- শ্যামসুন্দর স্টুডিও ও আলোক সজ্জায়: এপেক্স লাইটিং।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধলঘাট-আহলা মিলন সংঘের সাধারণ সম্পাদক সুমন দে ও শারদীয় দুর্গাপুজোর সাধারণ সম্পাদক নয়ন কান্তি দে, চিত্তরঞ্জন চৌধুরী, অনিমেষ বিশ্বাস (বাসু), সজল দে, তাপস চৌধুরী, স্বপ্নীল দে সৌরভ, উন্মেষ দে, আকাশ দে, শ্রীমন্ত দে, জয় দে, অর্ক দে, আদিত্য দে ও সকলের উপস্থিতিতে খুঁটি পুজোর অনুষ্ঠান ও ব্যানার উম্মোচনের মধ্য দিয়ে পরিণত হয় মিলনোৎসবে।

ধলঘাট-আহলা মিলন সংঘের পুজো কমিটি ২০২৬-এর সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এ বছর আমাদের পুজোর ৫৮তম বর্ষ। তাই এবারের উদযাপনকে আমরা স্মরণীয় করে তুলতে চাই। পুজোর থিম প্যান্ডেল এবং দুর্গাপ্রতিমার দুটোই হবে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। আমরা আশাবাদী, এবারের পুজো সকলের নজর কাড়বে।” শুধু উৎসব উদযাপন নয়, সম্প্রীতির বার্তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দ ও সম্প্রীতির পরিবেশে উৎসব পালনই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

খুঁটি পুজোর সঙ্গে সঙ্গেই তাই শুরু হয়ে গেল ধলঘাট-আহলা মিলন সংঘের ৫৮তম বর্ষের দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন। থিম, প্রতিমা এবং সামাজিক উদ্যোগ সব মিলিয়ে এ বছরের পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা। এখন অপেক্ষা শরতের, যখন আলো, মন্ডপ আর উৎসবের আবহে আরও একবার সেজে ধলঘাট-আহলা মিলন সংঘের শ্রী শ্রী জয়কালী বিগ্রহ মন্দির।

পূর্বধলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে তরুণ দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার পূর্বধলায় নানাবিধ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পূর্বধলা উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা তরুণ দলের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।​প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

পরবর্তীতে দলীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও আনন্দঘন পরিবেশে কেক কাটার আয়োজন করা হয়।
​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদার।

নেত্রকোনা জেলা তরুণ দলের সভাপতি শেখ ফারুকের সভাপতিত্বে এবং পূর্বধলা উপজেলা তরুণ দলের সদস্য সচিব মিজানুর রহমান মিজানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রহিম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, সায়েদ আল মামুন শহীদ ফকির, রুহুল আমিন ফকির, সেলিম উদ্দিন, আনোয়ারুল ইসলাম আনার, সালাউদ্দিন আহমেদ নওয়াব ও আশরাফ উদ্দিন তালুকদার।

​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ ঘোষ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী তুরাগ ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাজু আহমেদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ