নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি!

বাবুল আহমেদ মানিকগঞ্জ :

মানিকগঞ্জ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কলতা অভয়াচরণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে দুই অভিভাবক সদস্য প্রার্থীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে। এছাড়া এক প্রার্থীকে ভয় দেখিয়ে প্রত্যাহার ফরমে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অভিভাবক সদস্য প্রার্থী মোঃ সোহানুর রহমান ও মো: জুলহাস হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘিওর থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ করেন। এরমধ্যে মোঃ সোহানুর রহমান হরিরামপুর উপজেলার গালা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের লীগের সভাপতি। অপরদিকে মো: জুলহাস হোসেন নালী ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৫ জুন কলতা অভয়াচরণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন। এই নির্বাচনে অভিভাবক সদস্য পদে প্রার্থী হিসেবে গত বুধবার (২৯ মে) মনোনয়ন ফরম ক্রয় করার পর থেকে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মো. মঞ্জুর আলম খানের নির্দেশে আরিফুল ইসলাম সহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জন বিবাদী ভুক্তভোগী দুই প্রার্থী মোঃ সোহানুর রহমান ও মো: জুলহাস হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং নির্বাচন থেকে সড়ে না দাঁড়ালে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে বিবাদীগণ কলতা বাজার থেকে অন্যান্য বিবদীগণদের সহায়তায় মোঃ সোহানুর রহমানের নিকট থেকে নির্বাচন হতে সরে দাড়ানোর জন্য জোরপূর্বক একটি প্রত্যাহার নামায় স্বাক্ষর নেয় এবং মো: জুলহাস হোসেনকে আরেকটি প্রত্যাহার নামায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে। এছাড়াও বিবাদীগণ অনবরত মোঃ সোহানুর রহমান ও মো: জুলহাস হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে আসছে বলে উল্লেখ করা হয় অভিযোগ পত্রে।

অভিভাবক সদস্য প্রার্থী মোঃ সোহানুর রহমান বলেন, মন্জুর আলম খান দীর্ঘদিন সভাপতি ছিলেন। নতুন আইন অনুযায়ী কেউ দুইবারের বেশি সভাপতি হতে পারবেন না, তাই এবার তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।। এ কারণে তিনি চাচ্ছেন তার ছায়া হিসেবে কেউ সভাপতি হোক, যাকে সে নিজে নিয়ন্ত্রণ করবে। মন্জুর আলম খান তার লোকজন দিয়ে আমাকে এবং আরেকজন প্রার্থীকে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ২০-২৫টা মোটরসাইকেল নিয়ে আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে মহড়া দেওয়াচ্ছে। আমরা খুবই শঙ্কায় আছি। আমরা নিরাপত্তা চাই এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই।

আরেক অভিভাবক সদস্য প্রার্থী মো: জুলহাস হোসেন বলেন, মন্জুর আলম খান নির্বাচনের জন্য বিএনপি নেতাদের নিয়ে প্যানেল গঠন করেছে। তার প্যানেলে যুক্ত না হলে নির্বাচন করতে বাধা দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ মঞ্জুর আলম খান বলেন, কে বা কারা হুমকি দিয়েছে আমার জানা নেই। সেসময় আমি তো এলাকাতেই ছিলাম না। অভিযোগের বিষয়েও আমি কিছু জানিনা।

এ নিয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার ও ভেজাল পণ্য বিক্রির অভিযোগে চার প্রতিষ্ঠানকে ৮৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পাহাড়তলী এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।

অভিযান প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। ভোক্তাদের জন্য ক্ষতিকর বা অনিরাপদ খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চানাচুর, বুট ভাজাসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা এবং খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতে পোড়া তেল ব্যবহারের কারণে লোকনাথ ফুড প্রোডাক্টসকে ৫০ হাজার টাকা, খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহারের জন্য ক্ষতিকর কেওড়া জল বিক্রির অভিযোগে মেসার্স কাউসার এন্টারপ্রাইজকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া ফেনী স্টোরকে ক্ষতিকর রং মিশ্রিত কাশ্মীরি মরিচ বিক্রির দায়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা এবং তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে ঘি কিনে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য হিসেবে বিক্রির অভিযোগে আর এন সুপার বাঘাবাড়ি ঘি প্যাকেটজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রিতে স্বাস্থ্যবিধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা আইন মেনে চলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।

চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রাখার মামলায় যুবককে কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রাখার মামলায় মো. হাবিবুল্লাহ ওরফে হাবিব (৩৭) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক আফরোজা জেসমিন কলি এ রায় দেন।একই মামলায় তাকে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।দণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুল্লাহ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার ধানীসাফা ইউনিয়নের সাফা বাজার মাওলানা তাজাম্বার আলী হাওলাদার বাড়ির চুন্নু মিয়ার ছেলে।রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি রাখার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এছাড়া অন্য একটি ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৯ জুন নগরের চান্দগাঁও থানার পশ্চিম মোহরা শিল্পনগরী এলাকার মেহরাজ খান চৌধুরী ঘাটসংলগ্ন ইউনিক বোর্ড মিলের (হাবিব কার্টুন ফ্যাক্টরি) ভেতরে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় হাবিবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়।অভিযানে তার কাছ থেকে দুটি দেশীয় তৈরি এলজি ও তিন রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ