হরিণাকুন্ডুতে ক্রয়কৃত জমি দখলের চেষ্টা; থানায় অভিযোগ

রবিন মাহমুদ - ঝিনাইদহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের ভায়না গ্রামের পালপাড়া এলাকায়। ওই এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তার বিশ্বাসের ছেলে বজলুর রহমান একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে মো. মহসীন হাসান আকাশের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।

জানা যায়, বজলুর রহমানের এ জায়গার দখল নিয়ে পূর্বে হরিণাকুন্ডু থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিলো। দখলকারীরা জমিদখল ছাড়াও ভুক্তভোগী বজলুর রহমানের কাছে ১,৫০০০০/= টাকা চাঁদাদাবিসহ তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ দাখিলের পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সালিশ বৈঠকে দলিলপত্র যাচাই করে বজলুর রহমানের জায়গার সীমানা নির্ধারণ করে মহসীন হাসানের দখলকৃত জমি ছেড়ে দেয়ার কথা বলেন। তাৎক্ষণিক ছেড়ে দিলেও পরবর্তীতে সেই জায়গা আবার তার দখলে নিয়ে নেয় এবং বজলুর রহমানকে হুমকি দিয়ে আসছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৭নং ভায়না মৌজার আরএস খতিয়ান ২৮০৮/ ১০১৯৯/১১৮১৪ নং দাগে ২৮ শতক ও ১০২০০/১১৮১৫ নং দাগে ৬ শতক সর্বমোট ৩৪ শতাংশ জমি (যার দলিল নং ২২৬৬/২৩ এবং নামজারী খতিয়ান নং ২৬১৪) আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে বিভিন্ন ফলদ গাছ রোপণ করে ওই জমি ভোগ দখল করেন।

সম্প্রতি মহসিন হাসানের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল ওই জমি দখলের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন এবং তার রোপনকৃত গাছগাছালি ও জমিঘেরার কাজে ব্যবহৃত কনক্রিটের খুটি ও বেড়া উপড়ে ফেলেন সে সময় বজলুর রহমান বাঁধা দিলে তাকে মারপিট করে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বজলুর রহমানকে উদ্ধার করে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন হাসান বলেন, ক্রয়সূত্রে ওই জমির মালিক আমি। বজলুর রহমান প্রভাবশালী হওয়ায় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে জোরপূর্বক আমার জমি দখল করেছেন। আবার তিনি আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাসহ থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ ও দায়ের করেছেন। এছাড়া জমিঘেরার কাজে ব্যবহৃত কনক্রিটের খুঁটি ও বেড়া উপড়ে ফেলার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

উল্লেখ্য এ ব্যাপারে পূর্বে বজলুর রহমান হরিণাকুন্ডু থানায় অভিযোগ করলে অভিযোগ আমলে নিয়ে হরিণাকুন্ডু থানা পুলিশ অভিযুক্ত মহসিনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছিলো। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বজলুর রহমান জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জায়গাগুলো দখলমুক্ত করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে প্রতিমন্ত্রী, বৃক্ষ রেপন ও স্টেশনের কার্যক্রম পরিদর্শন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেল ও সড়ক পথের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব হাবিবুর রশিদ হাবিব আকস্মিক সফরে কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং স্টেশন এলাকার সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
স্টেশনে পৌঁছালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. মমিনুল ইসলাম মামুন মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব লুৎফুর রহমান কাজল, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব), প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) এবং রেলওয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।সফরকালে প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনের পরিবেশ, অবকাঠামো এবং চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বোয়ালখালীতে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ খোকন (৩০) নামের আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১আগস্ট)ভোরে বোয়ালখালী থানার একটি আভিযানিক দল পৌরসভার আরকান সড়কের গোমদণ্ডী ফুলতল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার প্যান্টের পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত খোকন কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর আহমদের পুত্র । পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।খোকন দীর্ঘদিন ধরে বোয়ালখালীতে বাসা ভাড়া নিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছিলেন।

বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, এ ঘটনায় বোয়ালখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।শনিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানাই তিনি।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ