চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলন জনসংখ্যার তুলনায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা খুবই কম

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনসংখ্যার তুলনায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা খুবই কম বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সেচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এসময় স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরেন তিনি।
আসিফ ইব্রাহিম বলেন, যে পরিমান জনসংখ্যা রয়েছে তার তুলনায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা খুবই কম। যা গত কয়েক বছর ধরে নিম্নমুখী ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য লভ্যাংশের ওপর দ্বৈত কর প্রত্যাহার করা জরুরি। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর মূলধনী লাভের ওপর কর প্রত্যাহার এবং এক্ষেত্রে নতুন করারোপ থেকে বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করতে গেলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি, তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার হ্রাস, মূলধনী লাভকে কর অব্যাহতি প্রদান এবং লভ্যাংশ আয়কে করমুক্ত করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আসিফ ইব্রাহিম। সিএসইর পরিচালক মেজর এমদাদুল ইসলামের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের এমডি সাইফুর রহমান মজুমদার। এসময় সিএসই পরিচালক নকিব উদ্দিন খান এবং আক্তার পারভেজ হিরু উপস্থিত ছিলেন।
এসময় সিএসই চেয়ারম্যান আরও বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের সুবিধার্থে বিভিন্ন কৌশল নেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে প্রচলিত অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড এবং ছোট ক্যাপ বোর্ডে তালিকাভূক্তি উৎসাহিত করতে ৩ বছরের জন্য কর অব্যাহতি প্রদান করা যেতে পারে। এছাড়া কমোডিটি এবং ইকুইটি ডেরিভেটিভ সহজভাবে চালু করতে বিনিয়োগকৃত হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের ওপর সকল ধরনের কর প্রত্যাহার এবং সহজভাবে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করতে কমোডিটি এক্সচেঞ্জে পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি প্রদান করা জরুরি।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের এমডি সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, দেশের করপোরেট ফিন্যান্সিংটা ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে কিছু মিসম্যাচ দেখা যাচ্ছে। যদি ক্যাপিটাল মার্কেটকে একটা টেকসই অবকাঠামো দিতে না পারি তাহলে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা সেটা কমানো সম্ভব হবে না। আর সেখান থেকে সরে আসতে গেলে একটি শক্তিশালী বাজার কাঠামো দরকার। আর শক্তিশালী বাজার কাঠামো করতে গেলে ক্যাপিটাল মার্কেটের যে উইংগুলো আছে সেগুলো শক্তিশালী করতে হবে। ক্যাপিটাল মার্কেটের একটা যুতসই সম্প্রসারণ দরকার । আর সেই সম্প্রসারণের জন্য যে কৌশল সেটা বাজেট কাঠামোর মধ্যে নিতে হবে।
বর্তমান পুঁজিবাজার ইকুইটি মার্কেট নির্ভর উল্লেখ করে এমডি বলেন, ইকুইটি মার্কেট নির্ভর বাজার হওয়ায় বাজারে যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তেমনি এটি পুঁজিবাজার সম্প্রসারণের অন্তরায়। এই লক্ষ্যে কার্যকর কৌশলের মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতি সমসাময়িক কান্ট্রিগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে মার্কেট ক্যাপ জিডিপি রেশিও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্থানীয় এবং বিদেশী বিনিয়োগে উৎসাহিত করার একটি প্যারামিটার হিসেবে বিবেচিত হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এস আলমের ১১ কারখানা বন্ধ ঘোষণা,

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এস আলমের ১১টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সবগুলো কারখানা চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে। ধাপে ধাপে কারখানা গুলোর নোটিশ বোর্ডে বন্ধ সংক্রান্ত নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ ১ আগস্ট থেকে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে। বন্ধ হওয়া ৬ হাজার শ্রমিক কর্মচারীকে পর্যায়ক্রমে তাদের পাওনা বুঝে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।গত বছরের আগস্টে কোম্পানির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ এবং ব্যাংক হিসাবের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পর থেকেই কারখানাগুলো নানামুখী সংকটে পড়ে যায়।

বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, একটি ফিড মিলসহ আরও কয়েকটি শিল্প ইউনিট।কারখানাগুলোর অধিকাংশই চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী শিল্প এলাকায় অবস্থিত
বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর অধিকাংশই চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী শিল্প এলাকায় অবস্থিত।

চট্টগ্রাম মহানগরে আকাশ ছুঁতে চায় সবজির বাজার, দূর্ভোগ ক্রেতাদের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অতিসম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে আবারও বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সবজির বাজার আকাশ ছুঁতে চায়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা। সকল রেকর্ড ভেঙে শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা, ফুলকপি ৩০০ টাকা। করোলা ১৬০, টমেটো ১৪০, বেগুন-বাঁধাকপি-মুলা-শসা ১২০ টাকা কেজি। ঝিঙ্গে ১০০ টাকা! ১০০ টাকার নিচে বিক্রি হওয়া সবজির দাম শুনেন এবার। পটল-মিষ্টি কুমড়া ৮০ টাকা, লাউ ৭০, আলু ৩৫। এতো বেশি দামে এসব তরি-তরকারি আর কখনো বিক্রি হয়নি। অতি বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে এ অস্থিরতা।
কাজীর দেউড়ি কাঁচা বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা শেখ হাবিবা-হাসিবা ট্রেডার্সের পরিচালক শেখ মহিউদ্দিন বাবু জানালেন, বাজারের প্রায় সব সবজির দাম এখন ১০০ টাকার ওপরে। সপ্তাহের বাজার করতে আগের চেয়ে কয়েক’শ টাকা বেশি লাগছে। এভাবে সংসার চালানো খুব কষ্টকর।

জানা গেছে, ১৫ দিন আগেও এসব সবজি ২০ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি। ১০ দিন আগেও যেসব সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই এখন ১০০ টাকার ঘর অতিক্রম করেছে। বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিকভাবেই বেশি দাম এখন প্রতিটির সবজির।
বাজারে দামের এ আগুন কতদিন চলতে থাকবে কেউ কিছু বলতে পারছে না। সাধারণ ক্রেতারা বাজারে এসেই চমকে যাচ্ছেন দাম শুনে। এ দাম নিয়ে আলোচনা চলছে আড্ডায়, অফিসে, বাসায়।

এদিকে ১০০ টাকার নিচে এখন মধ্যবিত্তের জন্য বিকল্প বলতে লাউ, আলু আর পটল। একসময় যে পরিবারগুলো এক বাজারে পাঁচ-ছয় ধরনের সবজি কিনে সপ্তাহ পার করত, তারা এখন হিসাব কষে মাত্র দুই-একটি সবজি নিয়েই ফিরছে।
বাজারে আসা এক গৃহিনী বলেন, আগে পাঁচ-ছয় ধরনের সবজি কিনতাম। এখন দুই-তিন ধরনের বেশি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ভালো মানের সবজির দিকে দামের কারণে তাকানোই যাচ্ছে না।

সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ শফিক (মিন্টু) বললেন, বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার সবজির খেত নষ্ট হয়েছে। আড়তে পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে, সেটাও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
শহরে অধিকাংশ সবজির যোগান এসে থাকে দোহাজারী, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি, নাজিরহাটসহ বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা থেকে। সম্প্রতি সেই সব এলাকায় বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে সবজির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে গেছে। এ পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ