আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম পিটিআইতে সমন্বয় সভায় উপ-পরিচালক

মামলার জট কমাতে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ বর্তমান সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) লুৎফুন নাহার বলেছেন, সারাদেশে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিম্ন ও উচ্চ আদালতে মামলার জট কমাতে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ বর্তমান সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। গ্রাম আদালতে প্রান্তিক মানুষের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বাস্তব পরিস্থিতি দেখে ন্যায় বিচার করতে হবে। ফৌজদারী মামলা ৩০ দিনে ও দেওয়ানী মামলা ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। সরকারী ছুটির দিনে মামলা পরিচালনা করা যাবে না। জেলার গ্রাম আদালতগুলোতে অনেক মামলা পেন্ডিং রয়েছে। প্রত্যেক গ্রাম আদালতে মাসে কমপক্ষে ৫টি মামলা নিষ্পত্তিসহ রেজিষ্টার্ডভূক্ত করে জেলা কার্যালয়ে প্রতিবেদন আকারে পাঠাতে হবে। চেয়ারম্যান, ইউপি সচিব ও মেম্বারগণ আরও আন্তরিক হলে গ্রাম আদালতের সার্বিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নগরীর পিটিআই মিলনায়তনে আয়োজিত চট্টগ্রাম জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সভার আয়োজন করেন। জেলার ১৫ উপজেলার ১৯১টি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবগণ সভায় উপস্থিত থেকে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (স্থানীয় সরকার) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহীদ ইশরাকের সঞ্চালনায় অনষ্ঠিত সভায় মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে ২০২৩-২০২৪ কার্যক্রমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জসমূহ, শিক্ষনীয় দিকসমূহ, গ্রাম আদালতে বিচার প্রক্রিয়া, মামলার নথি প্রস্তুুত ও রেজিস্টার সমূহের ব্যবহার এবং সুবিধাভোগীর ভিডিও উপস্থাপন করেন ইউএনডিপি’র এভিসিবি-৩ প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মোঃ সাজেদুল আনোয়ার ভূঁঞা।
বক্তব্য রাখেন মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরীন, প্রকল্প বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা-ইপসা’র প্রধান নির্বাহী মোঃ আরিফুর রহমান, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজাহান হোসাইন, পটিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস ও আনোয়ারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুছাইন মুহাম্মদ।
স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) বলেন, মানুষ যাতে গ্রাম আদালতের বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থা না হারায় সে জন্য হারায় সে জন্য জনপ্রতিনিধিদেরকে নিরপেক্ষভাবে বিচারকাজ সম্পন্ন করতে হবে। তাহলে বিচার প্রার্থীরা নিম্ন ও উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবে না। কোন কোন ইউনিয়নে মামলা একেবারেই জিরো, এলাকা শান্তিপূর্ণ থাকলে ভালো, নইলে এটা আমাদেও কাম্য নয়। গ্রাম আদালতে ফরমেটগুলো গ্রহণের মাধ্যমে যথাযথভাবে মামলা পরিচালনা করতে হবে। তাহলে গ্রাম আদালত আইন বাস্তবায়ন হবে। আগে গ্রাম আদালতে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিচারিক এখতিয়ার ছিল, এখন ৩ লাখ। মিথ্যা মামলা করলে সেটিরর জরিমানার বিধান রয়েছে আইনে।
তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের এজলাসগুলোকে জুডিশিয়াল আদালতের এজলাসের আদলে তৈরী করা হয়েছে। এখানে ১৯১টি ইউনিয়েনের মধ্যে ১১৯টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত এজলাস রয়েছে, এগুলো সুন্দর ও পরিপাটি এবং ৩০টিতে ভবন নেই। বাকী গ্রাম আদালতের এজলাস ও ভবনগুলোর কাজ এ প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন হবে। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণগণকে অবহিত করতে র‌্যালি ও প্রচার-প্রচারণামূল কার্যক্রম আরও বেগবান করা হবে। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করতে আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে ইউপি সচিব, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও গ্রাম পুলিশদেরকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। গ্রাম আদালত সক্রিয় করলে গ্রামে শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠির সহজে, কম খরচে, স্বল্প সময়ে, সঠিক বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।
এভিসিবি-৩ প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মোঃ সাজেদুল আনোয়ার ভূঁঞা জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল মাস পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলার গ্রাম আদালতে পেন্ডিং মামলার সংখ্যা ২২৭টি, জেলায় মোট মামলা দায়ের ১০৩১টি (সরাসরি ইউপিতে দায়ের ৮৮৯টি ও জেলা আদালত থেকে প্রেরিত ১৪২টি)। বিধি-৩১,প্রাক বিচার শুনানীতেনিষ্পত্তি ৫২৯টি, বাতিল খারিজ ৪৭টি ও বর্তমানে অনিষ্পত্তিকৃত মামলা ৬৮২টি। সরাসরি দায়েরকৃত মোট ৮৮৯টি মামলার মধ্যে পুরুষ আবেদনকারী ৬৫৭ (৭৩ দশুমক ৯১ শতাংশ, নারী আবেদনকারী ২৩২ (২৬ শতাংশ এবং ১৩১ (৫৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ) নারী গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিচার পেয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শ্রীবরদীর জামায়াতের সেক্রেটারি নিহতের ঘটনায় ঢাবি ছাত্রদের প্রতিবাদ মিছিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১০টায় তিনি মারা যান। এই প্রাণহানির ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব র‍্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যাফেল ড্র–এর বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, পাঠাগার সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আব্দুল্লাহ, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী ও আরিচ আহমেদ শাহসহ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বিজয়ী মোট ৩০ জন সদস্যের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় করেছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সদস্যগণ পেশাগত জীবনে র‍্যাফেল ড্র’তে পুরস্কারপ্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে তাদের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ