আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

গায়েব’ হওয়া সোনা ‘খুঁজবে’ দুদক

স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ ঃ ব্যাংকের এমডিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

‘ চট্টগ্রামের চকবাজার শাখা ইসলামী ব্যাংকের লকার থেকে প্রায় দেড়শ ভরি স্বর্ণালংকার গায়েবের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ব্যাংকের গ্রাহক রোকেয়া আক্তার বারী। থানা পুলিশ অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নিয়ে তদন্তের জন্য গতকাল মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে। এতে স্বর্ণালঙ্কার ‘আত্মসাতের’ অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) চার জনের বিরুদ্ধে থানায় এই অভিযোগ করা হয়েছে। এতে নাম উল্লেখ না করে ব্যাংকের পরিচালক, শাখার কর্মকর্তাসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনা জানার পাঁচ দিন পর গত সোমবার রাতে গ্রাহক রোকেয়া আক্তার বারী নগরীর চকবাজার থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।অভিযুক্তরা হলেন- ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) মোহাম্মদ মনিরুল মওলা, কোম্পানি সেক্রেটারি জে কিউ এম হাবিবউল্লাহ, ব্যাংকের চকবাজার শাখার সিনিয়র অ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক এস এম শফিকুল মওলা এবং লকারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইউনুস। অভিযোগকারী রোকেয়া আক্তার বারী চট্টগ্রাম নগরীর চট্টেশ্বরী রোডের বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত চিকিৎসক এম এ বারীর স্ত্রী।
অভিযোগে রোকেয়া আক্তার বারী উল্লেখ করেছেন, তিনি ও তার মেয়ে নাসিয়া মারজুক যৌথ মালিকানায় ২০০৬ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখায় একটি লকার ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করে আসছিলেন। লকারে নাসিয়া ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রায় ১৬০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার গচ্ছিত ছিল। তিনি গত ২৯ মে দুপুরে ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন, তার জন্য বরাদ্দ করা লকারটি খোলা অবস্থায় আছে। সেখানে রাখা স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে প্রায় ১৪৯ ভরি ‘চুরি’ হয়েছে। স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে আছে ৬০ ভরি ওজনের ৪০ পিস হাতের চুড়ি, ২৫ ভরি ওজনের চার সেট জড়োয়া, ১০ ভরি ওজনের একটি গলার সেট, ২৮ ভরি ওজনের ৭টি গলার চেইন, ১৫ ভরি ওজনের ২৫টি আংটি এবং ১১ ভরি ওজনের ৩০ জোড়া কানের দুল।
চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ওয়ালী উদ্দিন আকবর বলেন, ব্যাংকের গ্রাহক অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছেন। যেহেতু এটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শিডিউলভুক্ত। আমরা অভিযোগ গ্রহণ করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেটি দুদকে পাঠাব।
এর আগে লকারে স্বর্ণালঙ্কার না পেয়ে গত ২৯ মে রোকেয়া আক্তার বারী তাৎক্ষণিকভাবে চকবাজার থানায় গিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। চকবাজার থানার ওসি ব্যাংকে গিয়ে এর সত্যতা যাচাই করেন। তবে গ্রাহক লিখিত কোনো অভিযোগ না করায় বিষয়টি তখন প্রকাশ হয়নি। গত ১ জুন রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।
অভিযোগ দায়েরে পাঁচ দিন সময় নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাদীর ছেলে ডা. রিয়াদ মোহাম্মদ মারজুক বলেন, এ ধরনের ঘটনায় কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সেটা নিয়ে আমাদের কোনো ধারণা ছিল না। আমরা প্রথমে ব্যাংককে স্বর্ণালঙ্কারগুলো খুঁজে বের করার জন্য সময় দিয়েছিলাম। একইসঙ্গে থানায় জিডি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু থানা থেকে আমাদের মামলা করতে বলা হয়। এরপর আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করি। আইনজীবী আদালতে মামলার পরামর্শ দেন। আজ (সোমবার) আদালতে মামলা দায়েরের কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা পারিবারিকভাবে থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিই।
এদিকে, চকবাজার শাখা প্রধান ও ইসলামী ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম শফিকুল মওলা চৌধুরী জানান, গ্রাহকের অভিযোগ তদন্তে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে থানা থেকে দুদক চট্টগ্রাম পরিচালক বরাবরে অভিযোগটি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়ালী উদ্দিন আকবর। তিনি বলেন, লকার থেকে সোনা চুরির অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী রোকেয়া আক্তার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি দুদকের শিডিউলভুক্ত হওয়ায় থানায় মামলা রেকর্ড হচ্ছে না। আমরা অভিযোগটি আজকে (মঙ্গলবার) সকালে অফিসিয়ালি দুদকে পাঠিয়েছি।
অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক চট্টগ্রাম অফিসের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, পরিচালক বরাবরে আজকে মঙ্গলবার (গতকাল) চকবাজার থানা থেকে ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগটি ফাইলিং করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিকেলেই আমরা ঢাকা হেড অফিস বরাবরে তদন্ত অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছি। হেড অফিস থেকে অনুমোদিত হয়ে আসতে দুই-তিন দিনের মতো সময় লাগে। এরপরই আমরা তদন্ত শুরু করবো।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ