আজঃ বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

বৈধ ইটভাটা ৪০৬, অবৈধ ৩২১টি

আট মাসে ২৯টি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা

বিশ্বজিৎ পাল, চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ব্যাঙের ছাতার মত একের পর এক গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা। নিয়মিত অভিযান, জরিমানার মাঝেই কোনোভাবেই ইটভাটার লাগাম টানা যাচ্ছে না। বেশিরভাগ ইটভাটা কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে গাছের গুঁড়ি, কাঠ ব্যবহার করায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। এতে কৃষিজমির মাটি যেরকম উর্বরতা হারাচ্ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে বনজ সম্পদ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইটভাটায় পোড়ানো গাছ-কয়লা থেকে নির্গত হওয়া ধোঁয়ার সঙ্গে পার্টিকুলেট কার্বন, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড বের হয়, যা মানুষের চোখ, ফুসফুস ও শ্বাসনালীতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ২০১০ ও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩-এ বলা হয়েছে, বসতি এলাকা, পাহাড়, বন ও জলাভূমির এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা করা যাবে না। কৃষিজমিতেও ইটভাটা অবৈধ। কিন্তু ইটভাটার মালিকরা এ আইন মানছে না।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে মোট ইটভাটা আছে ৪০৬টি। এর মধ্যে মাত্র ৮৫টির বৈধতা আছে। বাকি ৩২১টি ইটভাটা অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর।
পরিবেশ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রামে ফিক্স চিমনি (৮৯-১২০ ফুট উঁচু) ভাটা আছে ২৭৯টি, জিগজ্যাগ চিমনি আছে ১১৬টি এবং পরিবেশ ফ্রেন্ডলি টেকনোলজির ইটভাটা আছে মাত্র ১১টি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ১২টি ইটভাটার মধ্যে সবগুলোর অনুমোদন আছে। আনোয়ারায় দুটির মধ্যে একটি, পটিয়ায় দুটির মধ্যে একটি, সন্দ্বীপে ১১টির মধ্যে নয়টি, বাঁশখালীতে ১২টির মধ্যে ১০টি, বোয়ালখালীতে পাঁচটির মধ্যে চারটি, মিরসরাইয়ে ১৫টির মধ্যে নয়টি অবৈধ। এছাড়া সীতাকুণ্ডে আটটির মধ্যে ছয়টি, চন্দনাইশে ৩২টির মধ্যে ২৫টি, লোহাগাড়ায় ৪৮টির মধ্যে ৪৫টি, ফটিকছড়িতে ৫৫টির মধ্যে ৪৩টি, সাতকানিয়ায় ৭০টির মধ্যে ৪৫টি, রাউজানে ৩৭টির মধ্যে ২৯টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৬৯টির মধ্যে ৬৬টি ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ৩৫টির মধ্যে ২০টি ইটভাটা অবৈধ বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলার উপ পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা চালালে দুই বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদফতর থেকে সবসময় অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে ইটভাটার মালিকরা হাইকোর্টে গিয়ে মামলার বিরুদ্ধে রিট করে ভাটা পরিচালনা করে।
এদিকে পাহাড় কাটা, খাল-জলাধার ভরাট ও ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগে গত আট মাসে ২৯টি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর, যার বেশিরভাগই অনুমোদনহীন, অবৈধ।
পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, ইটভাটা সাধারণত বেশি সক্রিয় থাকে বছরের অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত। এ সময়কে ইট তৈরির মৌসুম বলা হয়। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত যেসব ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে, এর বেশিরভাগেই কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে গাছের গুঁড়ি, কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছিল। ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল ফসলি জমির মাটি। এতে কৃষিজমির মাটি যেরকম উর্বরতা হারাচ্ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে বনজ সম্পদ।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েও সুফল মিলছে না। সেগুলোর মালিকপক্ষ রাজনৈতিক-সামাজিকভাবে খুবই প্রভাবশালী। আইনের ফাঁক গলে ঠিকই ইটভাটাগুলো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছে।
পরিবেশ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত লোহাগাড়া উপজেলায় নয়টি, সাতকানিয়ায় তিনটি, সীতাকুণ্ডে চারটি, ফটিকছড়িতে একটি, বাঁশখালীতে দুটি, রাউজানে পাঁচটি, রাঙ্গুনিয়ায় চারটি ও আনোয়ারায় একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার আরো বলেন, ইট প্রয়োজনীয় জিনিস। চাহিদার কারণেই দিন দিন ইটভাটার পরিমাণ বাড়ছে, অধিকাংশের লাইসেন্স নেই। ইচ্ছেমতো ইটভাটা পরিচালনা করছে তারা। পাহাড়ের ও ফসলি জমির মাটি কেটে এসব ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া লোকালয়ের আশেপাশে ইটভাটা পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই। তবুও অনেক ইটভাটা লোকালয়ের পাশেই গড়ে উঠছে। আমরা প্রতি মাসেই এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখন জরিমানার চেয়ে মামলা বেশি করছি। ইটভাটার মালিকরা চায় আমরা তাদের জরিমানা করি। এতে অতি সহজেই তারা পার পেয়ে যায়। তাই আমরা জরিমানা করি সর্ব্বোচ্চ তিন থেকে চারটি ইটভাটাকে। মামলা করলে তারা শাস্তির মুখে পড়ে।
এদিকে লোহাগাড়া উপজেলার মেসার্স আকতারিয়া ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারের ছাড়পত্র না থাকায় চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মামলা করে পরিবেশ অধিদফতর। মামলায় ইটভাটার আট অংশীদারকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে একজন মো. ইসমাইল।
ইসমাইল বলেন, করোনার পর আমরা আট জন মিলে একটি ইটভাটা চালু করি। তখনই আমরা পরিবেশ অধিদফতরের কাছে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করি। কিন্তু তারা আমাদের জানায় সরকার তখন কোনো ইটভাটাকে লাইসেন্স দিচ্ছে না। আমাদের ইটভাটার আশেপাশে কোনো জনবসতি নেই। পাহাড়ের বা ফসলি জমির মাটিও আমরা কাটি না। শুধু লাইসেন্স না থাকায় পরিবেশ অধিদফতর আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়।
পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক আফজারুল ইসলাম বলেন, শীতকালে পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ ইটভাটা। অন্যান্য সময়েও দূষণ হয়। তবে শীতকালে হয় বেশি। জরিমানা করেও এসব ইটভাটার মালিককে কিছু করা যাচ্ছে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে তোপের মুখে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ।চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলীর এইচ এম ভিলা থেকে বের হওয়ার সময় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক মেয়র মনজুর আলম। এর আগে বিএনপির মনোনয়নপত্র নিয়ে তিনি ২০১০ সালে সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০১৫ সাথে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাসির উদ্দিনের কাছে পরাজিত হন । তাক এবার এনসিপির ব্যানারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে, এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে জুলাইযোদ্ধা ও বিএনপি নেতাকর্মীরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এলাকায় উত্তেজনা চলতে থাকে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের।

পরবর্তীতে পুলিশ প্রটোকল ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহায়তায় হাসনাত আবদুল্লাহ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক এবং এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। একই সঙ্গে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।ঘটনাস্থলে মহানগর যুবদলের সহসভাপতি সাহেদ আকবর, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিবুল হক বাপ্পি, মহারম আলী, আকবরশাহ থানা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিম উদ্দিন এবং ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রদলের ইমনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এনিয়ে মনজুর আলমের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

স্বপ্ন নিয়ে গেল প্রবাসে, ফিরল লাশ হয়ে- শেষযাত্রায় হাজারো মানুষের অশ্রুস্রোত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অভাব ঘুচিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তার। সেই স্বপ্ন বুকে নিয়েই সুদূর প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন তরুণ সোহান। কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতা তাকে ফিরিয়ে আনল নিথর দেহ হয়ে এক রক্তাক্ত পরিণতির নির্মম সাক্ষ্য রেখে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ছয় দিন পর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চিকনমাটি গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায় ২১ বছর বয়সী সোহানের মরদেহ। লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

শেষবারের মতো একনজর দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে তার বাড়িতে। কান্না, আহাজারি আর নিঃশব্দ বেদনায় ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ। নিহত সোহান ওই গ্রামের দুলাল মিয়ার একমাত্র ছেলে। সংসারের হাল ধরতে ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ এক বুক হাহাকারে পরিণত হয়েছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের অদূরে কতলেহং এলাকায় ঘটে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। সেখানে একটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন মুদি দোকানে কর্মরত ছিলেন সোহান। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নামাজের পর হঠাৎ লোডশেডিং হলে চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। সেই সুযোগে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দোকানে ঢুকে পড়ে। দোকানের মালিক পেছনের দিকে গেলে একা থাকা সোহানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয় এই তরুণের।

শুক্রবার সকালে সোহানের মৃত্যুসংবাদ গ্রামে পৌঁছালে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন মা। স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো চিকনমাটি গ্রাম। দীর্ঘ ছয় দিন পর প্রিয় সন্তানের মরদেহ হাতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের বাবা দুলাল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলের লাশ দেখতে হবে কখনো ভাবিনি। ধারদেনা করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম ভাগ্য বদলাতে, এখন সব শেষ হয়ে গেল।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং একই দিন জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। প্রবাসে জীবনযুদ্ধে নামা অসংখ্য তরুণের মতো সোহানও স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন দূরদেশে। কিন্তু তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল প্রবাসের পথ শুধু সম্ভাবনার নয়, অনেক সময় তা অনিশ্চয়তা আর ঝুঁকিতে ভরা এক কঠিন বাস্তবতা।

আলোচিত খবর

ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ গত রোববার ১২ এপ্রিল বিকালে তেল পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এরপর ক্রুড তেলের সংকটের কারণে মজুত ক্রুড তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে এমনটাই জানা যায়।

পরিশোধনের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয় সংকট মোকাবিলায় মার্চ মাস থেকেই। যেখানে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হতো, সেখানে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মজুত শেষ হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ