আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

বৈধ ইটভাটা ৪০৬, অবৈধ ৩২১টি

আট মাসে ২৯টি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা

বিশ্বজিৎ পাল, চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ব্যাঙের ছাতার মত একের পর এক গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা। নিয়মিত অভিযান, জরিমানার মাঝেই কোনোভাবেই ইটভাটার লাগাম টানা যাচ্ছে না। বেশিরভাগ ইটভাটা কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে গাছের গুঁড়ি, কাঠ ব্যবহার করায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। এতে কৃষিজমির মাটি যেরকম উর্বরতা হারাচ্ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে বনজ সম্পদ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইটভাটায় পোড়ানো গাছ-কয়লা থেকে নির্গত হওয়া ধোঁয়ার সঙ্গে পার্টিকুলেট কার্বন, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড বের হয়, যা মানুষের চোখ, ফুসফুস ও শ্বাসনালীতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ২০১০ ও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৩-এ বলা হয়েছে, বসতি এলাকা, পাহাড়, বন ও জলাভূমির এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা করা যাবে না। কৃষিজমিতেও ইটভাটা অবৈধ। কিন্তু ইটভাটার মালিকরা এ আইন মানছে না।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে মোট ইটভাটা আছে ৪০৬টি। এর মধ্যে মাত্র ৮৫টির বৈধতা আছে। বাকি ৩২১টি ইটভাটা অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর।
পরিবেশ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রামে ফিক্স চিমনি (৮৯-১২০ ফুট উঁচু) ভাটা আছে ২৭৯টি, জিগজ্যাগ চিমনি আছে ১১৬টি এবং পরিবেশ ফ্রেন্ডলি টেকনোলজির ইটভাটা আছে মাত্র ১১টি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ১২টি ইটভাটার মধ্যে সবগুলোর অনুমোদন আছে। আনোয়ারায় দুটির মধ্যে একটি, পটিয়ায় দুটির মধ্যে একটি, সন্দ্বীপে ১১টির মধ্যে নয়টি, বাঁশখালীতে ১২টির মধ্যে ১০টি, বোয়ালখালীতে পাঁচটির মধ্যে চারটি, মিরসরাইয়ে ১৫টির মধ্যে নয়টি অবৈধ। এছাড়া সীতাকুণ্ডে আটটির মধ্যে ছয়টি, চন্দনাইশে ৩২টির মধ্যে ২৫টি, লোহাগাড়ায় ৪৮টির মধ্যে ৪৫টি, ফটিকছড়িতে ৫৫টির মধ্যে ৪৩টি, সাতকানিয়ায় ৭০টির মধ্যে ৪৫টি, রাউজানে ৩৭টির মধ্যে ২৯টি, রাঙ্গুনিয়ায় ৬৯টির মধ্যে ৬৬টি ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ৩৫টির মধ্যে ২০টি ইটভাটা অবৈধ বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলার উপ পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা চালালে দুই বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদফতর থেকে সবসময় অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে ইটভাটার মালিকরা হাইকোর্টে গিয়ে মামলার বিরুদ্ধে রিট করে ভাটা পরিচালনা করে।
এদিকে পাহাড় কাটা, খাল-জলাধার ভরাট ও ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগে গত আট মাসে ২৯টি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর, যার বেশিরভাগই অনুমোদনহীন, অবৈধ।
পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, ইটভাটা সাধারণত বেশি সক্রিয় থাকে বছরের অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত। এ সময়কে ইট তৈরির মৌসুম বলা হয়। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত যেসব ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে, এর বেশিরভাগেই কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে গাছের গুঁড়ি, কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছিল। ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল ফসলি জমির মাটি। এতে কৃষিজমির মাটি যেরকম উর্বরতা হারাচ্ছে, তেমনি ধ্বংস হচ্ছে বনজ সম্পদ।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েও সুফল মিলছে না। সেগুলোর মালিকপক্ষ রাজনৈতিক-সামাজিকভাবে খুবই প্রভাবশালী। আইনের ফাঁক গলে ঠিকই ইটভাটাগুলো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছে।
পরিবেশ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত লোহাগাড়া উপজেলায় নয়টি, সাতকানিয়ায় তিনটি, সীতাকুণ্ডে চারটি, ফটিকছড়িতে একটি, বাঁশখালীতে দুটি, রাউজানে পাঁচটি, রাঙ্গুনিয়ায় চারটি ও আনোয়ারায় একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার আরো বলেন, ইট প্রয়োজনীয় জিনিস। চাহিদার কারণেই দিন দিন ইটভাটার পরিমাণ বাড়ছে, অধিকাংশের লাইসেন্স নেই। ইচ্ছেমতো ইটভাটা পরিচালনা করছে তারা। পাহাড়ের ও ফসলি জমির মাটি কেটে এসব ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া লোকালয়ের আশেপাশে ইটভাটা পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই। তবুও অনেক ইটভাটা লোকালয়ের পাশেই গড়ে উঠছে। আমরা প্রতি মাসেই এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখন জরিমানার চেয়ে মামলা বেশি করছি। ইটভাটার মালিকরা চায় আমরা তাদের জরিমানা করি। এতে অতি সহজেই তারা পার পেয়ে যায়। তাই আমরা জরিমানা করি সর্ব্বোচ্চ তিন থেকে চারটি ইটভাটাকে। মামলা করলে তারা শাস্তির মুখে পড়ে।
এদিকে লোহাগাড়া উপজেলার মেসার্স আকতারিয়া ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারের ছাড়পত্র না থাকায় চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মামলা করে পরিবেশ অধিদফতর। মামলায় ইটভাটার আট অংশীদারকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে একজন মো. ইসমাইল।
ইসমাইল বলেন, করোনার পর আমরা আট জন মিলে একটি ইটভাটা চালু করি। তখনই আমরা পরিবেশ অধিদফতরের কাছে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করি। কিন্তু তারা আমাদের জানায় সরকার তখন কোনো ইটভাটাকে লাইসেন্স দিচ্ছে না। আমাদের ইটভাটার আশেপাশে কোনো জনবসতি নেই। পাহাড়ের বা ফসলি জমির মাটিও আমরা কাটি না। শুধু লাইসেন্স না থাকায় পরিবেশ অধিদফতর আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়।
পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক আফজারুল ইসলাম বলেন, শীতকালে পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ ইটভাটা। অন্যান্য সময়েও দূষণ হয়। তবে শীতকালে হয় বেশি। জরিমানা করেও এসব ইটভাটার মালিককে কিছু করা যাচ্ছে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভাঙ্গুড়ায় ন্যায্য মূল্যে কৃষকের ধান সংগ্রহের সময় শেষ, সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়ে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করেছে খাদ্য বিভাগ।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় কর্তৃক তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্য থেকে আগে আসলে আগে বিক্রয় ভিত্তিতে ধান ক্রয় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি বিভাগের নিবন্ধিত কৃষকরা কৃষি কার্ড ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পান। সংগ্রহ নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণের পর মূল্য সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমেছে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন।
উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৭০০ নিবন্ধিত কৃষকের কৃষি কার্ড ও কৃষক হিসাব রয়েছে। ধান বিক্রি করা অনেক কৃষক জানান, বাজারমূল্যের তুলনায় সরকারি মূল্য বেশি হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে অতিরিক্ত আয় করতে পারায় তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ জানায়, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। কৃষকদের পরিচয়, কৃষি কার্ড এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পরই ধান গ্রহণ করা হয়েছে। সব অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হয়েছে।ভাঙ্গুড়া খাদ্যগুদামের উপ-পরিদর্শক নিরঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করে ধান গ্রহণ করা হয়েছে এবং কৃষকদের নিজস্ব হিসাবেই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানান, সরকার চলতি বোরো/২০২৬ মৌসুমে গত ৩ মে থেকে সারাদেশে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করে। ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নির্ধারিত ৭৭৫ মেট্রিক টন ধান ইতোমধ্যে সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে ধানের দাম কিছুটা কম থাকায় কৃষকরা প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী হয়েছেন। ফলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ বর্ম্মন বলেন, ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের কৃষি কার্ড ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পরই বিল অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের আশা, আগামী মৌসুমেও সরকার একইভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। এতে কৃষকরা উৎপাদনে আরও উৎসাহিত হবেন এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের খাদ্যশস্য সংগ্রহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ