আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চিটাগাং চেম্বারে শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে মানের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন, চট্টগ্রাম এবং দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি (সিসিসিআই)’র যৌথ উদ্যোগে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে মানসম্মত পণ্যের প্রাপ্তি নিশ্চিতকল্পে বিএসটিআই এর ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা গতকাল সোমবার সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। চেম্বার সহ-সভাপতি রাইসা মাহবুব এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি বিএসটিআই’র মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম, বিশেষ অতিথি কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), চট্টগ্রামের সভাপতি জনাব এস এম নাজের হোসেন বক্তব্য রাখেন। মতবিনিময় সভায় আলোচনায় অংশ নেন চেম্বার পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, মাহফুজুল হক শাহ, সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন’র যুগ্ম সম্পাদক গোলাম রব্বানী ও কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল হক খান স্বপন, ক্যাব’র সাধারণ সম্পাদক ইকবাল বাহার সাবেরী, বিএসপি ফুড প্রোডাক্টস লিঃ’র অজিত কুমার দাশ, এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি’র এএসএম সোলায়মান, অরবিস ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল’র জাফর উল্লাহ, আবুল খায়ের গ্রুপের জহিরুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম, আখতার উদ্দিন মাহমুদ ও ওমর মুক্তাদির, বিএসটিআই’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিএসটিআই’র মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম বলেন-ঐতিহাসিকভাবে চট্টগ্রাম ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। তাই চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সাথে আগামীতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে কিভাবে মানসম্মত পণ্যের প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্টেকহোল্ডারদের মতামত জানতে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের মাথায় রাখতে হবে মানসম্মত পণ্য যদি বিদেশে রপ্তানি করতে না পারি তাহলে দেশের সুনাম যেমন নষ্ট হবে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের ব্যবসায়ীগণ। আবার আমদানিকৃত পণ্যের সাথে ভেজাল ও অসাধুতা অবলম্বন করে মানুষের স্বাস্থ্যহানি ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া যাবে না। তাই যেকোন পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে মানের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তিনি চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের পণ্য পরীক্ষণে সময়ক্ষেপন কমিয়ে আনা, চট্টগ্রাম বন্দরে নমুনা সংগ্রহের সময় সকাল ১০.০০ টা থেকে বিকেল ৬.০০ টা পর্যন্ত, শনিবারও কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দেন। একই সাথে সোনালী ব্যাংকের গেটওয়ে ব্যবহার করে নমুনা পরীক্ষার ফি জমাদান এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমেও ফি জমাদান করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন। পাশাপাশি জনবল সংকট নিরসনে লোকবল পদায়ন এবং ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে চট্টগ্রামে নতুন নির্মিত বিএসটিআই ভবনে প্রতি সপ্তাহে ১দিন করে অফিস করার ঘোষণা দেন।

ক্যাব সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন-বিএসটিআই জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান। এজন্য এখানকার গভর্নিংবডিতে রাখা হয়েছে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাসহ বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিদের। তাই আমরা ভোক্তাদের প্রতিনিধি হিসেবে এবং জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বিএসটিআই’র সাথে কাজ করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে বিএসটিআই এর সক্ষমতা বাড়াতে হবে, বাড়াতে হবে ল্যাব সুবিধা। যাতে করে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের যেন চট্টগ্রাম থেকে নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় যেতে না হয়। কারণ ব্যবসায়ীদের কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বেড়ে গেলে তার চাপ পড়বে ভোক্তাদের উপর। তিনি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও তার প্রতিকার দ্রুতকরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

চেম্বার সহ-সভাপতি রাইসা মাহবুব বলেন-ব্যবসায়ীদের সততা নিয়ে কাজ করতে হবে। গুটি কয়েক অসাধু ব্যবসায়ীদের দায়ভার সকলে বহন করবে না। আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি যাতে না বাড়ে তা মাথায় নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। একই সাথে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানোর জন্য এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে কমন টেস্টিং সুবিধা বাড়ানোর জন্য মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এছাড়াও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন এর অংশহিসেবে পণ্যের গুণগতমান বজায় রেখে কিভাবে বিদেশে রপ্তানি বাড়ানো যায় তা উদ্যোক্তাদের জানানোর জন্য চিটাগাং চেম্বারের সাথে যৌথভাবে নলেজ শেয়ারিং ও প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করেন চেম্বার সহ-সভাপতি।

বক্তারা বলেন-দ্রুত জনবল সংকট নিরসন, ল্যাব ফ্যাসিলিটি আধুনিকায়ন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবগুলোর সাথে সমন্বয় করা, দ্রুত ছাড়পত্র প্রদান করা, নমুনা পরীক্ষার সময় কমানো, ক্ষেত্রবিশেষে বিএসটিআই’র ছাড়পত্র কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গ্রহণ না করা, শনিবারও নমুনা সংগ্রহ এবং ফি জমাদান চালু রাখা, বন্দরভিত্তিক পণ্যগুলোর নমুনা পরীক্ষা জরুরীভিত্তিতে রাখার উপর মতামত তুলে ধরেন তারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ