আজঃ শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তিন শর্তে প্রাথমিক অনুমোদন

নগর পরিবহন বহরে যুক্ত হচ্ছে ২০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে পরিবহন বহরে যুক্ত হচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস সার্ভিস। ‘চট্টলা চাকা’ নামে বাসগুলো সড়কে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে ‘শান্তি এক্সপ্রেস লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা। প্রথম ধাপে সংস্থাটি ২০টি বাস নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে সড়কে বাসগুলো নামানোর কথা রয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন এলাকার যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি (আরটিসি) তিন শর্তে বাসগুলো নামানোর প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। শর্তগুলো হল-প্রতিটি গাড়ি ৪০ সিটের হতে হবে। গাড়ি ছাড়ার শুরু এবং শেষ প্রান্তে অর্থাৎ কাপ্তাই রাস্তার মাথা এবং কাটগড় প্রান্তে বাস রাখার নিজস্ব ডিপো থাকতে হবে, ডিপো ভাড়া নেয়ার চুক্তিপত্র বিআরটিএর কাছে জমা দিতে হবে এবং লোকাল যাত্রী নিতে পারবে না।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিসের রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, শর্তসাপেক্ষে কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে কাটগড় পর্যন্ত ‘শান্তি এক্সপ্রেস লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে এসি বাস নামানোর প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে আরটিসির সভায়। সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাসগুলোকে রুট পারমিট দেয়া হবে। মতিউর আরো জানান, গাড়িগুলো কেনার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য বিআরটিএতে আবেদন করতে হবে। এছাড়া গাড়িগুলো বিআরটিএর কাছে প্রদর্শন করতে হবে। এরপর বিআরটিএর একটি টিম আরটিসির দেয়া শর্তগুলো পূরণ করেছে কিনা তা দেখতে সরেজমিন পরিদর্শনে যাবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বাসগুলোতে রুট পারমিটের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে।
জানা গেছে, নগরীর ১৮ রুটে ১৫৪৫টি বাস মিনিবাস চলাচলের অনুমোদন দেয়া হলেও ১০৪০টি গাড়ি চলাচল করছে। আরো ৫০৫টি বাস মিনিবাস চলাচল করতে পারবে রুটগুলোতে। একইভাবে নগরীতে অটোটেম্পোর রুট রয়েছে ২১টি। রুট গুলোতে ২৩৯৭টি গাড়ি চলাচলের অনুমতি দিয়েছে আরটিসি। সেখানে রুট পারমিট নিয়েছে ১৮৩৯টি। আরো ৫৫৮টি অটোটেম্পোর রুট পারমিট নেয়ার সুযোগ রয়েছে। ১৮টি রুটে ১৪৫৬টি হিউম্যান হলার চলাচলের রুট পারমিট অনুমোদন দিয়েছে আরটিসি। সেখানে চলাচল করছে ৯৯৪টি। আরো ৪৬২টি হিউম্যান হলার পারমিট নিতে পারবে। এরবাইরেও প্রায় ২০০ বাস মিনিবাস আটশোর বেশি হিউম্যান হলার ও টেম্পো নগরীর বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে।
এর আগে ২০১৬ সালে প্রিমিয়ার ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি নগরীর ১৪ নম্বর রুটে ছয়টি পরিবহন নিয়ে এসি বাস সার্ভিস চালু করেছিল। সেটি স্থায়ী হয়নি। কয়েক মাসের মধ্যে সড়ক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নগরীর তিনটি রুটে এসি বাস চালুর উদ্যোগ নেন। সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এসব বাস চালুর জন্য কর্পোরেশনের ৫২তম সাধারণ সভায় সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। প্রথম দিকে তিনটি রুটে ১০০টি বাস নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এরমধ্যে কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা, ভাটিয়ারী থেকে লালদিঘি এবং নিউমার্কেট থেকে ফতেয়াবাদ রুটে বাসগুলো নামানোর কথা ছিল। পরে এই উদ্যোগ সফল হয়নি। আট বছর পর আবারও নতুন করে এসি বাস নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আরটিসির সভায় অনুমোদনও পেয়েছে ‘শান্তি এক্সপ্রেস লিমিটেড’।
শান্তি এক্সপ্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, আরটিসির সভায় আমরা ২০টি বাস চলাচলের প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছি। কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে কাটগড় পর্যন্ত এসব বাস চলাচল করবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে সড়কে বাস নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শর্তসাপেক্ষে বাস নামানোর অনুমোদন প্রসঙ্গে শাহজাহান জানান, আরটিসি আমাদের তিনটি শর্ত দিয়েছে। সব শর্তপূরণ করেই সড়কে গাড়ি নামানো হবে। ইতিমধ্যে কাপ্তাই রাস্তার মাথা এবং কাটগড়ে বাস পার্কিংয়ের জন্য জায়গা দেখা হচ্ছে। আশা করছি জুলাই মাসের আগে সবকিছু হয়ে যাবে। নিজস্ব পার্কিংয়ের স্থান না থাকলে গাড়িগুলো সড়কে রাখা যাবে না। এরমধ্যে নিজস্ব ডিপোর ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে। রোজার ঈদের পর বাসগুলো নামানোর কথা থাকলেও ডলার সংকটের কারণে বাসগুলোর চেসিস ভারত থেকে আমদানি করা সম্ভব হয়নি। এখন জুলাই মাসের শুরুতে নামাতে পারবো বলে আশা করছি। ইতোমধ্যে ১০টি বাস প্রস্তুত হয়েছে। চেসিস ভারতীয় কোম্পানি টাটা মোটরসের হলেও বডিগুলো ঢাকায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন। প্রতিটি বাসে আসন থাকবে ৪০টি। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড় থাকবে, অর্থাৎ নির্ধারিত ভাড়ার অর্ধেক দেবেন তারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নির্বাচিত হয়ে সংসদে ষাচ্ছেন যে সাত বিজয়ী নারী প্রার্থী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্বাচিত হয়ে সংসদে ষাচ্ছেন যে সাত বিজয়ী নারী প্রার্থী।
১. মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতা,
২. ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো,
৩. সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা,
৪. ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ,
৫. ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ কামাল,
৬.নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন পুতুল এবং
৭. ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

চট্টগ্রাম-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশার জয়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশার জয়।

আলোচিত খবর

নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ৮ লাখ। কর্মকর্তা- ইসি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিশাল এক কর্মীবাহিনী মাঠে নামিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের কর্মযজ্ঞ সফল করতে সারা দেশে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা সরাসরি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল তালিকায় প্রিজাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার পর্যন্ত সর্বমোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন দক্ষ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।  

নির্বাচন পরিচালনার ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রায় ৯ লাখ পোস্টাল ব্যালট প্রতিটি কেন্দ্রের প্রধান দায়িত্ব সামলাবেন একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার, সেই হিসেবে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার এখন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়াও ভোটকক্ষগুলোতে দায়িত্ব পালনের জন্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসারকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ