আজঃ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আ.লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হলেন বিধান রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিধান রক্ষিত। গত ৮ জুন শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং তথ্য ও গবেষণা বিষয় সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ এমপি স্বাক্ষরিত আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।
সাংগঠনিক সূত্রে জানা গেছে, এই উপকমিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ পূর্বক সেগুলো দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন এবং দলের প্রয়োজনে সব প্রাসঙ্গিক বিষয়ে গবেষণা কর্ম পরিচালনা ও তার ফলাফল সময়ে সময়ে সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে অবহিত করে থাকে।
এদিকে বিধান রক্ষিতকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য মনোনীত করায় তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী জননেতা ওবায়দুল কাদের, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয় সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ এমপি,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
সদস্য পদ প্রাপ্তির বিষয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ একাধারে তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা বিধান রক্ষিত বলেন, আমার বাবা দেশমাতৃকার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। কোন লোভ লালসা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। চেষ্ঠা করব বাবার আদর্শিক সম্মান-মর্যাদা চির অটুট রাখতে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার একজন বিশ্বস্ত কর্মী হয়ে জনমানুষের সেবক হতে। বিধান রক্ষিত বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য পদপ্রাপ্তি আমার জন্য আনন্দের।
জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বর্গীয় পীযুষ কুমার রক্ষিত ও সন্ধ্যা রানী রক্ষিত সন্তান বিধান রক্ষিত ব্রিটিশ ও পাক ঔপনিবেশিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে জড়িত ও চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার কানুনগোপাড়া গ্রামের এক সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ঐতিহ্য সম্পন্ন পরিবারের সন্তান বিধিান রক্ষিত। বিভিন্ন সামাজিক, সেবামুলক সংগঠনের সাথেও জড়িত বিধান রক্ষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ একাধারে তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক। কানুনগোপাড়া ডা. বিভূতি ভূষণ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি (বিজ্ঞান), কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ সরকারী কলেজ থেকে এইচ.এস.সি (বাণিজ্য) ও বি.কম. পাশ (বানিজ্য) এবং চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে মাস্টার্স (ব্যবস্থাপনা) প্রিলি সম্পন্ন করেন।
বিধান রক্ষিতের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বর্গীয় পীযুষ কুমার রক্ষিত (মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং-৩৮৬৪) ছিলেন তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধ স্বর্গীয় পীযূষ রক্ষিত স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতীর জনক “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের” পৈশাচিক হত্যাকান্ড এবং পরবর্তীতে কারান্তরালে ঘাতকদের হাতে নিহত জাতীয় চার নেতা হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে “৭৫” উত্তর সামরিক শাসকদের রোষানলে পড়েন। ১৯৭৫ এর ৪ জুন তৎকালীন রাষ্ট্রীয় বাহিনী তাঁকে চট্টগ্রামের ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার করে। মিথ্যা সাজানো সেই মামলায় ১নং অভিযুক্ত হিসেবে দেখিয়ে একতরফা প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে তৎকালীন সাময়িক শাসক ৪নং বিশেষ সাময়িক আদালতে ১৭ এম.এল.আর ধারায় একতরফা বিচার করে তাকে ফাঁসিতে ঝুলানোর নির্দেশ দেন। বিভিন্ন পেশার জনগণের তীব্র গণআন্দোলনের কারণে সাময়িক আদালত ফাঁসির রায় পরিবর্তন করে তার বিরুদ্ধে ১৯৭৭ সালের ২০ জানুয়ারী ৭ বৎসর সশ্রম কারাদন্ডের রায় ঘোষণা করে। সেই মিথ্যা মামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বর্গীয় পীযুষ কুমার রক্ষিতকে কোনরূপ আত্মরক্ষার সুযোগ এমনকি রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিলেরও সুযোগ দেয়া হয়নি। দীর্ঘ প্রহসনের সেই মামলায় ৫ বছর কারাগারে থাকার পর ১৯৮০ সালের ৭ নভেম্বর তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়। উল্লেখ্য সেই মামলার ২নং আসামী ছিলেন চট্টগ্রামের সাবেক জনপ্রিয় মেয়র, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, চট্টলবীর জননেতা মরহুম আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তাঁর অনুপস্থিতিতে উক্ত মামলায় ১৯৭৭ সালের ২০ জানুয়ারী তাঁকেও ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছিল। এছাড়া বিধান রক্ষিতে ঠাকুর দাদা ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের মাস্টার দা সূর্য সেনের সহযোদ্ধা কবিরাজ হরেন্দ্র লাল রক্ষিত ও যতীন্দ্র মোহন রক্ষিত। বিধান রক্ষিতের কাকা প্রয়াত আবৃত্তিশিল্পী রণজিৎ কুমার রক্ষিত বোধন আবৃত্তি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন। চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলাএকাডেমির পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ছিলেন।
অন্যদিকে বিধান রক্ষিত বাংলদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি-২০১৮ সালের প্রচার উপ-কমিটি সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ৬ষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেস ২০১২ শৃঙ্খলা উপ-কমিটির দাযিত্বে, ২০১৬ সালের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রচার উপ-কমিটির সদস্য, বোয়াখালী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক এডহক কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বোয়াখালী থানা শাখার সাবেক দপ্তর সম্পাাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ স্যার আশুতোষ সরকারী কলেজ শাখার সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ৯ নং আমূচিয়া ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, কানুনগোপাড় দিপায়ন খেলার আসরের সাবেক সহ-সভাপতি, বোধন আবৃত্তি পরিষদের সবেক সদস্য, শিশুদের পাঠশালার সাবেক যগ্ম-মহাসচিব, স্পপ্নযাত্রী (তারুণ্যে স্বপ্নে সুন্দর বুনন)সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কমিটির সমাজ কল্যাণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় পূজার উদযাপন পরিষদের সহ অর্থ সম্পাদক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা হিন্দু,বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের গণসংযোগ সম্পাদক, চট্টগ্রাম মহানগর লোকনাথ বাবা সেবক সংঘের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ, চট্টগ্রামের উপদেষ্টা, পটিয়া প্রীতিলতা ট্রাষ্টের আজীবন সদস্য, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এর অর্ডিনারী মেম্বার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছে। এছাড়া ২০০৮ সালে ২৯ শে ডিসেম্বর অনুষ্টিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক চট্টগ্রাম-৮ আসনে মহাজোট প্রার্থী জাসদের কার্যকরী সভাপতি মরহুম মঈনউদ্দিন খান বাদল (এমপি) এর নির্বাচনী প্রচারণা সেলের দায়িত্বে ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি : আমীর খসরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস না করা একমাত্র দল হলো বিএনপি। দেশের মানুষ চায় না কোনো বিদেশি শক্তি এ দেশ পরিচালনা করুক। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনেকে ভাবছেন আন্দোলন শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একমাত্র বিএনপিই সেই দল, যারা গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনো আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোটের মাধ্যমে জনগণকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের বার্তা দিতে হবে।

দেশের সার্বভৌমত্ব ও বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো বিদেশি শক্তির বাংলাদেশকে পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই। এটাই বাংলাদেশের মানুষ চায়। এ দেশের জনগণ তাদের নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়তে চায়, বাইরের কোনো ইশারা বা হস্তক্ষেপে নয়।

দেশের ক্রান্তিলগ্নে বিএনপির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশ যখনই কোনো ক্রান্তিলগ্ন পার করেছে, তখনই এ দেশের মানুষ একটি দলের ওপরই ভরসা রেখেছে। আর সেই দলটি হচ্ছে শহীদ জিয়ার হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি।

তিনি দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর ও নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজী প্রমুখ।

চট্টগ্রাম ত্রিমুখী লড়াইয়ে জমবে আট আসন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে জোরেশোরে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসায় চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও পাঁচলাইশ ) আসনের প্রার্থীরা প্রতিদিন মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচারণা চালাচ্ছেন।সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে বিভিন্ন দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা ভোটারদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।

চট্টগ্রাম শহরের লাগোয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও পাঁচলাইশ )সংসদীয় আসনটি। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। নগরীর পাঁচটি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭৪২ জন। বোয়ালখালী উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯৪ জন। জয়-পরাজয়ের নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বোয়ালখালী উপজেলা। তাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি নজর দিচ্ছেন বোয়ালখালী উপজেলায়।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. মো: আবু নাছের,১১-দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকে জোবাইরুল হাসান আরিফ,বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী মোমবাতি প্রতীকে সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী আপেল প্রতীকে মোহাম্মদ এমদাদুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে মোহাম্মদ নুরুল আলম ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন।ভোটার মতে, এই আসনে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রচারণায় এই ৩ প্রার্থীই দৃশ্যত এগিয়ে।

বোয়ালখালীবাসী মনে করছেন এবারের নির্বাচনে ত্রিমুখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সংখ্যালঘু, নারী ও তরুণ ভোটাররা নির্বাচনের টার্নিং পয়েন্ট। এরাই ভোটের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে দিবে। তাই বিএনপি, জামায়াত ও বৃহত্তর সুন্নি জোট প্রার্থী নানা কৌশল নিয়ে ভোট পরিচালনা করছেন।

ত্রিমুখী ভোটের লড়াইয়ে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু নাছের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে ও ভোটের ময়দানে থাকছে ‘দাঁড়িপাল্লা’। দলীয়ভাবে এনসিপির প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকে জোবাইরুল হাসান আরিফকে সমর্থন দিলেও স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ আবু নাছেরের পক্ষে মিছিল-সমাবেশ ও মাইকিং অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষ ও মোমবাতির সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে জনমতে।

বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান নতুন কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ এবং কর্ণফুলী নদীর দুই পাড়ে আইটি ফার্ম করে যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি তরুণ ভোটারদের মন জয় করছেন।

অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে এরশাদ উল্লাহ, দীর্ঘদিনের দলীয় ত্যাগ ও সাংগঠনিক শক্তিকে পুঁজি করে এগোচ্ছেন নির্বাচনী মাঠে।তিনি নারীদের ‘ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।তিনি বোয়ালখালী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।

১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দিলেন জামায়াত আমির ডা.শফিকুর রহমান।স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ দাঁড়িপাল্লা নিয়ে মিছিল-সমাবেশ ও মাইকিং নিয়ে মাঠে আছেন। স্থানীয় ছেলে হিসেবে নাছেরের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাই এই আসনটিকে ত্রিমুখী সমীকরণে ফেলে দিয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বৃহত্তর সুন্নী জোট মনোনীত প্রার্থী বিরামহীনভাবে পথসভা, উঠান বৈঠক ও বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিন প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের প্রচার–প্রচারণায় বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর যোগ্যতা, সক্ষমতাসহ সব বিষয় চিন্তা করে সাধারণ ভোটাররা যোগ্য ব্যক্তিকে তাদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবেন।

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটের মাঠে ততই উত্তাপ বাড়ছে। কৌশলগত কারণে প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য দিলেও নির্বাচনী মাঠে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় সাধারণ ভোটাররা খুশি। এলাকাবাসী ভোটের পরিবেশ শান্ত রেখে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

আলোচিত খবর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান – ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে। তবে সরকারের হাতে এখন মাত্র দুইটি কার্যদিবস বাকি রয়েছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলেই বিষয়টি এ পর্যায়ে এগোচ্ছে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ