আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

মানিকগঞ্জ:

মানিকগঞ্জে তালশাঁসের জমজমাট ব্যবসা

বাবুল আহমেদ মানিকগঞ্জ :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মনিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় জমে উঠেছে তালশাঁসের জমজমাট ব্যবসা। জ্যৈষ্ঠ মাসেই দেশে সর্বত্র আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, জামরুল, গাব, আঁশফল ও তালের শাঁস পাওয়া যায়।
গ্রীষ্মকালে তালশাঁসে পানি থাকে প্রায় ৮০ শতাংশ। শাঁসের পানিতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, অল্প পরিমাণ প্রোটিন ও ফ্যাট।

এছাড়াও ভিটামিন এ, বি, সি এবং মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানসহ আরও রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার। যে কারণে এ মৌসুমি ফল তালশাঁস সব বয়সী মানুষের পছন্দ।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রীষ্মকালের খড়-তাপের ভ্যাপসা গরমে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এ গরমের মধ্যে তৃষ্ণা মেটাতে তারা খাচ্ছে সুস্বাদু তালের শাঁস।

মানিকগঞ্জ জেলার প্রায় সব উপজেলার হাট-বাজারসহ আঞ্চলিক ও মহাসড়কের ধারে তালশাঁস বিক্রি হচ্ছে। এ ফল খেতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ভিড় করছেন। আবার অনেকেই পরিবারের অন্য সদস্যের জন্য নিয়েও যাচ্ছেন।

প্রতিটি তাল বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। প্রতিটি তালের ভেতর তিন থেকে চারটি করে শাঁস হয়। তালশাঁস পুষ্টি গুণে ভরপুর এবং সম্পূর্ণ বিষমুক্ত হওয়াতেই মানুষের চাহিদা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। প্রতি ১০ ঘণ্টায় একজন তালশাঁস বিক্রেতা প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার বিক্রি করে থাকেন।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাটুরিয়া উপজেলার নয়াডিঙ্গী এলাকায় খন্দকার সেলিম নামে এক পোশাক শ্রমিক বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কারখানায় কাজ করে গলাটা শুকিয়ে গেছে। সে জন্য তালশাঁস খাচ্ছি। শাঁসের মূল্য একেবারেই সব শ্রেণি পেশার মানুষের হাতের নাগালে, যার ফলে সবাই ফলটি স্বাচ্ছন্দ্যে খেয়ে পারে।

তালশাঁস বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি গত কয়েক বছর ধরে তালশাঁস বিক্রি করি। এ শাঁসের প্রচুর চাহিদা থাকায় একা একা তাল কাটার (তালশাঁস কেটে বের করা) কাজ করাটা এখন অনেক কষ্টের হয়ে পড়েছে। সকাল থেকেই সারা দিন তালশাঁস বিক্রি করি। সম্পূর্ণ ফরমালিন মুক্ত তালশাঁসের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। আমি প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার তালশাঁস বিক্রি করি বলেও জানান তিনি।

ইব্রাহিম হোসেন নামে আরেক তালশাঁস বিক্রেতা বলেন, দিনে তালের কোথায় তাল পাওয়া যায় তার খোঁজ করি। পরে তা কিনে নিয়ে আসি। সেই তাল আমার ছেলে সারা দিন বিভিন্ন হাটে বাজারে বিক্রি করেন। এখন আর আগের মতো দেশে তালগাছ নাই, যে কয়টা গাছ আছে, তাও আর আগের মতো তাল ধরে না। প্রতিটি তাল গাছ সারা বছর হিসাবে ক্রয় করতে হয়, এ গাছের পরিচর্যা থেকে শুরু করে সব কিছু নিজেরই করতে হয়। একেকটি তাল গাছ ক্রয় করতে হয় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায়, ভাগ্য ভালো হলে প্রতি গাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার তাল বিক্রি করা যায়।

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. বলেন, তালশাঁসে ভিটামিন এ, বি, সি এবং মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে। তালশাঁস খেলে শরীরে পানি শূন্যতা পূরণ হয়। পাশাপাশি এ ফলে ত্বক ভালো রাখে, চুল পড়া বন্ধে সহায়তা করে, হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধসহ আরও নানা রোগের প্রতিষেধকের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। তার চেয়ে বড় আরেকটি বিষয় হলো এ ফলে কোনো ধরনের প্রিজারভেটিভ নেই, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ জিংক ব্রিধান-১০২ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ -এর বাস্তবায়নে “রিয়েক্টস-ইন” প্রজেক্টের আওতায় পুষ্টিসমৃদ্ধ “জিংক ব্রি ধান-১০২” চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ইএসডিও’র আয়োজনে ও পরিচালনায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের সাটিয়া ঈদগাঁ মাঠে কৃষক মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষক মাঠ দিবসে উপস্থিত শতাধিক কৃষকের মাঝে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ -এর প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ শাহিনুল কবির এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট ফোকাল কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল আলম মানবদেহে জিংক এর প্রয়োজনীয়তা এবং জিংকের অভাব পূরণে জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান১০২, ব্রিধান-১০০, ব্রিধান৮৪ এবং ব্রিধান৭৪ এর ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তারা তাদের বক্তব্যে সকলের প্রতি জিংক ধানের চাষাবাদ পদ্ধতি, জিংক ধানের আবাদের সম্প্রসারণ ও জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শোয়েবুর রহমান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মোছা: মাহফুজা খাতুন, সিঙ্গারোল সরকারি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ ওমর ফারুক মন্ডল, উক্ত গ্রামের ঈদগাঁ পাড়া জামে মসজিদের ইমাম সাহেব মোঃ কামরুজ্জামান এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান সহ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ব্রি ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ -এর বাস্তবায়নে ও রিয়েক্টস-ইন প্রজেক্টের আওতায় পুষ্টিসমৃদ্ধ জিংক ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ইএসডিও’র আয়োজনে ও পরিচালনায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর  ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ গ্রামে কৃষক মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়। 

কৃষক মাঠ দিবসে উপস্থিত শতাধিক কৃষকের মাঝে হারভেস্টপ্লাসের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ শাহিনুল কবির এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট ফোকাল কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল আলম মানবদেহে জিংক এর প্রয়োজনীয়তা এবং জিংকের অভাব পূরণে জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান১০২,  ব্রিধান১০০, ব্রিধান৮৪ এবং ব্রিধান৭৪ এর ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।তারা তাদের বক্তব্যে সকলের প্রতি জিংক ধানের চাষাবাদ পদ্ধতি, জিংক ধানের আবাদের সম্প্রসারণ ও জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে আহ্বান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহীন আলী ও উত্তম কুমার বর্মন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মোছা: জিন্নাতুন নেছা, মাদারগঞ্জ সরকারি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন, উক্ত গ্রামের মাদারগঞ্জ পাড়া জামে মসজিদের ইমাম সাহেব মোঃ হায়দার আলী এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট অফিসার মোঃ আবু তালহা শিশির সহ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। 

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ