আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

মানিকগঞ্জ:

মানিকগঞ্জে তালশাঁসের জমজমাট ব্যবসা

বাবুল আহমেদ মানিকগঞ্জ :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মনিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় জমে উঠেছে তালশাঁসের জমজমাট ব্যবসা। জ্যৈষ্ঠ মাসেই দেশে সর্বত্র আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, জামরুল, গাব, আঁশফল ও তালের শাঁস পাওয়া যায়।
গ্রীষ্মকালে তালশাঁসে পানি থাকে প্রায় ৮০ শতাংশ। শাঁসের পানিতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, অল্প পরিমাণ প্রোটিন ও ফ্যাট।

এছাড়াও ভিটামিন এ, বি, সি এবং মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানসহ আরও রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার। যে কারণে এ মৌসুমি ফল তালশাঁস সব বয়সী মানুষের পছন্দ।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রীষ্মকালের খড়-তাপের ভ্যাপসা গরমে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এ গরমের মধ্যে তৃষ্ণা মেটাতে তারা খাচ্ছে সুস্বাদু তালের শাঁস।

মানিকগঞ্জ জেলার প্রায় সব উপজেলার হাট-বাজারসহ আঞ্চলিক ও মহাসড়কের ধারে তালশাঁস বিক্রি হচ্ছে। এ ফল খেতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ভিড় করছেন। আবার অনেকেই পরিবারের অন্য সদস্যের জন্য নিয়েও যাচ্ছেন।

প্রতিটি তাল বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। প্রতিটি তালের ভেতর তিন থেকে চারটি করে শাঁস হয়। তালশাঁস পুষ্টি গুণে ভরপুর এবং সম্পূর্ণ বিষমুক্ত হওয়াতেই মানুষের চাহিদা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। প্রতি ১০ ঘণ্টায় একজন তালশাঁস বিক্রেতা প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার বিক্রি করে থাকেন।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাটুরিয়া উপজেলার নয়াডিঙ্গী এলাকায় খন্দকার সেলিম নামে এক পোশাক শ্রমিক বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কারখানায় কাজ করে গলাটা শুকিয়ে গেছে। সে জন্য তালশাঁস খাচ্ছি। শাঁসের মূল্য একেবারেই সব শ্রেণি পেশার মানুষের হাতের নাগালে, যার ফলে সবাই ফলটি স্বাচ্ছন্দ্যে খেয়ে পারে।

তালশাঁস বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি গত কয়েক বছর ধরে তালশাঁস বিক্রি করি। এ শাঁসের প্রচুর চাহিদা থাকায় একা একা তাল কাটার (তালশাঁস কেটে বের করা) কাজ করাটা এখন অনেক কষ্টের হয়ে পড়েছে। সকাল থেকেই সারা দিন তালশাঁস বিক্রি করি। সম্পূর্ণ ফরমালিন মুক্ত তালশাঁসের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। আমি প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার তালশাঁস বিক্রি করি বলেও জানান তিনি।

ইব্রাহিম হোসেন নামে আরেক তালশাঁস বিক্রেতা বলেন, দিনে তালের কোথায় তাল পাওয়া যায় তার খোঁজ করি। পরে তা কিনে নিয়ে আসি। সেই তাল আমার ছেলে সারা দিন বিভিন্ন হাটে বাজারে বিক্রি করেন। এখন আর আগের মতো দেশে তালগাছ নাই, যে কয়টা গাছ আছে, তাও আর আগের মতো তাল ধরে না। প্রতিটি তাল গাছ সারা বছর হিসাবে ক্রয় করতে হয়, এ গাছের পরিচর্যা থেকে শুরু করে সব কিছু নিজেরই করতে হয়। একেকটি তাল গাছ ক্রয় করতে হয় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায়, ভাগ্য ভালো হলে প্রতি গাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার তাল বিক্রি করা যায়।

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. বলেন, তালশাঁসে ভিটামিন এ, বি, সি এবং মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে। তালশাঁস খেলে শরীরে পানি শূন্যতা পূরণ হয়। পাশাপাশি এ ফলে ত্বক ভালো রাখে, চুল পড়া বন্ধে সহায়তা করে, হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধসহ আরও নানা রোগের প্রতিষেধকের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। তার চেয়ে বড় আরেকটি বিষয় হলো এ ফলে কোনো ধরনের প্রিজারভেটিভ নেই, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালী সমিতি-ঢাকা: দ্বিবার্ষিক সভায় সহ-সভাপতি নির্বাচিত মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন বোয়ালখালী সমিতি-ঢাকা এর দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সভায় সকলের সিদ্ধান্তে ও মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনের নেতৃত্বের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব, যাত্রী আন্দোলনের প্রবক্তা ও যাত্রী সাধারণের একমাত্র সাহসী কণ্ঠস্বর, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

এটি শুধু একটি পদ নয়, বরং দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা বোয়ালখালীর মানুষের জন্য একটি গৌরবময় অর্জন। যাত্রী কল্যাণ আন্দোলনে তার সাহসিকতা, ন্যায্যতার প্রতিফলন ও মানবিক মূল্যবোধ সব সময়ই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন । তার এই অর্জন বোয়ালখালী সমিতি-ঢাকার সদস্যদের মধ্যে নতুন আশা ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।

মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী সামাজিক সংগঠন, যাত্রী কল্যাণ ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। তার দৃঢ় নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, অটল সংকল্প এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে সবার কাছে এক বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি যাত্রীদের অধিকার আদায়ে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা শুধু একটি সংগঠনের নয়, সমগ্র সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত।

এই নির্বাচনে তার নাম উঠেছে সদস্যদের উচ্চাভিলাষ ও আস্থা থেকেই। সদস্যদের বিশ্বাস, ভক্তি ও ভালোবাসার প্রতিফলন এই পদ অর্জনের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। বোয়ালখালী সমিতি-ঢাকার দ্বিবার্ষিক সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরীর নির্বাচিত হওয়ায় বোয়ালখালী সমিতি-ঢাকা আরও নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে এটাই সবাই আশা করছেন। তার নেতৃত্বে সংগঠনটি আরও বেশি জনসেবামূলক কাজ, সামাজিক সহায়তা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

এই গৌরবময় মুহূর্তে আমরা সবাই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আলহামদুলিল্লাহ একজন নিষ্ঠাবান সমাজসেবী, নির্ভীক কণ্ঠস্বর ও উদ্যমী নেতাকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নির্বাচিত হতে দেখে আমরা গর্বিত।আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে বোয়ালখালী সমিতি-ঢাকা আরও উজ্জ্বল ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

নেত্রকোনায় এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে ধান চাষের উপকরণ বিতরন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর বাস্তবায়নে নেত্রকোনার ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় কৃষক পর্যায়ে ধান চাষের উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর( ৯ জানুয়ারী২০২৬) বাদেবিন্না গ্রামে স্হানীয় চল্লিশ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বাদেবিন্না গ্রামে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে এলএসটিডি প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের ধানের বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, নেত্রকোনার প্রধান ও সায়েন্টিফিক অফিসার মোঃ খালিদ হাসান তারেক।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিতরণকৃত এসব উপকরণ ব্যবহার করে কৃষকরা নিজ নিজ জমিতে নতুন জাতের ধান ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন সহজ হবে এবং ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

কৃষকরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গবেষণাভিত্তিক এই সহায়তা ধান চাষে তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মাঠপর্যায়ে আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ