আজঃ বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ, ২০২৬

আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র : চসিক মেয়র

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শুক্রবার বাদে জুমা জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ কমপ্লেক্স উন্নয়ন ও মুসল্লি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে সাবেক মন্ত্রী মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিএনপির রাজনীতিতে তিনি ছিলেন একজন কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে তিনি ছিলেন এক অবিচল যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তার সাহসী ভূমিকা অবিস্মরণীয়। চট্টগ্রামের উন্নয়নে আবদুল্লাহ আল নোমানের অবদান চিরস্মরণীয়। চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসনীয়।তিনি চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, ইস্ট ডেল্টা ইউনির্ভাসিটি, স্বৈরাচার বিরোধী ৯০ গণ আন্দোলনে শহীদের স্মৃতি রক্ষায় প্রতিষ্ঠা করেন এন এম জে মহাবিদ্যালয়। জনগণের কল্যাণে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ আজও চট্টগ্রামের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

দোয়া মাহফিলে মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এছাড়া শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত করা হয়।মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের খতিব মাওলানা আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। মুসল্লি পরিষদের সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে মরহুম আব্দুল্লাহ আল নোমানের অবদান চট্টগ্রামবাসী আজীবন মনে রাখবে। তিনি এ অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং উন্নয়নে তাঁর উদ্যোগ আজও স্মরণীয়।চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থাপনায় তাঁর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে আবদুল্লাহ আল নোমানের অবদান অনস্বীকার্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই মসজিদটিকে ঘিরে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আবদুল্লাহ আল নোমান সেই স্বপ্নের সার্থক রূপ দিয়েছেন।

বিশেষ অতিথি আবু সুফিয়ান বলেন, আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অনন্য এক নেতা। তিনি কেবল চট্টগ্রাম নয়, বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে এক কিংবদন্তি পুরুষ। তিনি শুধু নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি ছিলেন নেতাদের নেতা, আমাদের সবার অভিভাবক। চট্টগ্রামে ৮০’র দশকে যখন শহীদ জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পরে বিএনপি অনেকটা দূর্বল হয়ে গিয়েছিল। তখন বিএনপিকে পুনর্জাগরণ করেছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সম্মুখ সারির যোদ্ধা। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে তাঁর অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। নোমান ভাই শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা। তাঁর সাহস, সততা এবং দেশপ্রেম আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয়।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, মো. মহসিন, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মুসল্লি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদুর রহমান, বিএনপি নেতা মন্জুর রহমান চৌধুরী, জাকির হোসেন, নুর হোসাইন প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ্ শরিফের ব্যবস্থাপনায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১১ মার্চ, বুধবার গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ্ শরিফের ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও হযরত শেরে খোদা মওলা আলী (র.), খাতুনে জান্নাত মা ফাতেমা (রহ.) উরশ মোবারক ও শহীদ বদর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ শরিফ ও ইফতার মাহফিল খানকাহ্ শরিফ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা কাজী হাবিবুল হোসাইন, মাওলানা মোঃ মুজিবুল হক, হাফেজ মাওলানা মোখতার হোসাইন, মাওলানা হাফেজ হারুণ রশীদ, মাওলানা একরামুল হক, কেন্দ্রীয় পর্ষদ সদস্য মোহাম্মদ আলী, ফজলুল হক, মকসেদুর রহমান হাসনু, মীর শফিউল আলম নিজাম, মহানগর সমন্বয়কারী মেজবাহ উদ্দীন, শফিকুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসাইন, ওমর ফারুক, শামসুল আলম, খানকাহ্ সভাপতি মুহাম্মদ শওকত হোসাইন রুবেল, সাধরাণ সম্পাদক খুরশিদ আলম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জুয়েল, রাজা, রিপন, ওসমান, পারভেজ, ইকবাল, রানা, বিজয়, নূর মিয়া, হাকিম প্রমুখ।

নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন: চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানি ও কার্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।চট্টগ্রামে আয়োজিত “ওয়াশ ফর আরবান পুওর” প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের ফেইজ আউট ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গত মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন। ওয়াটারএইড বাংলাদেশের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এবং দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে সমাপ্ত হচ্ছে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করার কারণে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমাদের একটি সমন্বিত সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সিটি কর্পোরেশন, প্রশাসন, উন্নয়ন সংস্থা ও সাধারণ জনগণ সবাই একসাথে কাজ করবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, নগরের স্টেডিয়াম এলাকায় এবং পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় নাগরিকদের জন্য টয়লেট নির্মিত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব হচ্ছে।

এভাবে জনবহুল এলাকাগুলোতে টয়লেট নির্মাণ করা হলে মানুষ উপকৃত হবে এবং পরিবেশ উন্নত হবে।
মেয়র বলেন, নগরের জনসাধারণের সুবিধার্থে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জনস্বাস্থ্যবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলছে। ইতোমধ্যে নগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন করা হয়েছে, যাতে মায়েরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে শিশুদের দুধ পান করাতে পারেন। কর্ণফুলী সেতুর পাশসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নগরের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন সংস্থা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একসঙ্গে কাজ করলে নগরবাসীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশন সুবিধা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নগরীর এখনও অনেক এলাকায় নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটিকে সচেতন হয়ে নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে হবে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করতে হবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা আয়োজনের জন্য তিনি ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও ডিএসকে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।কর্মশালায় ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম লিড বাবুল বালা প্রকল্পের অর্জন ও কার্যক্রম নিয়ে একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, ডিএসকে ও ওয়াটারএইডের কাজের গুণগত মান ও নান্দনিকতা দেখে বোঝা যায় প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। ভবিষ্যতে পাহাড়ি এলাকা বাদ দিয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কাজ করলে সাধারণ মানুষ আরও বেশি উপকৃত হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী বলেন, আজকের উপস্থাপনাটি অত্যন্ত তথ্যবহুল। সমাজে এখনও নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিনিয়র আর্কিটেক্ট বলেন, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও ডিএসকে গত তিন বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কাজের গুণগত মান অত্যন্ত ভালো এবং ভবিষ্যতে নিজেদের কার্যক্রমে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ রয়েছে।

ডিএসকে ঢাকার ওয়াশ বিভাগের পরিচালক এম. এ. হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক আরেফাতুল জান্নাত।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, থানা শিক্ষা অফিস, পুলিশ প্রশাসন, ফার্মেসি প্রতিনিধি, স্কুল ও মাদ্রাসা প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, সিবিও প্রতিনিধি, হাইজিন হকার এবং স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ