আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

কক্সবাজার:

১২ লাখের অধিক রোহিঙ্গার বোঝা বাংলাদেশের ঘাড়ে

আবু বক্কর সিদ্দিক বিশেষ প্রতিনিধি উখিয়া:

উখিয়া-টেকনাফ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশ্ব শরণার্থী দিবস আজ। আর এই মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এটাই সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে শরণার্থী সাড়ে ৪৩ মিলিয়ন। বর্তমানে বিশে^র সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির বাংলাদেশে। উখিয়া-টেকনাফ ও ভাসানচরে আশ্রয় নিয়েছে ১২ লাখ রোহিঙ্গা। মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত এসব বাসিন্দা এখন বাংলাদেশের বোঝা হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, সুদান থেকে ইউক্রেন পর্যন্ত, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মিয়ানমার ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রসহ আরও অনেক জায়গায়, সংঘাত, জলবায়ুর বৈরী আচারণ এবং উত্থান-পতন মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে জোর করে সরিয়ে দিচ্ছে, যা গভীর মানবিক দুর্ভোগের সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৩.৫ মিলিয়ন শরণার্থী। এমতাবস্থায় আজ পালিত হচ্ছে বিশ^ শরণার্থী দিবস।
সাত বছর পেরিয়ে গেলেও নিজ দেশে ফেরার সুযোগ পাননি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা। ক্যাম্পগুলোতে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গত বছরের ১৮ এপ্রিল কুনমিংয়ে চীনের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকে এক হাজার ১৭৬ রোহিঙ্গার পাশাপাশি আরও ছয় হাজার জনকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত হলেও মৌলিক কিছু বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মতপার্থক্য থেকে যায়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৩০০ জন করে সপ্তাহের পাঁচ দিনে দেড় হাজার রোহিঙ্গাকে পাঠানোর কথা।
কুনমিংয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের রাখাইনে আমন্ত্রণ জানায় মিয়ানমার। গত বছরের ৫ মে রাখাইনের মংডু পরিদর্শন করে ২০ সদস্যের রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দল। তারা ফিরে এসে বেশকিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করে প্রত্যাবাসন নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেয়। কিন্তু এরপরও একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, আমরা চাই স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসন। যত দিন পর্যন্ত তারা ফেরত যাচ্ছে না, তাদের দেখাশোনা আমরা করব। রোহিঙ্গা সহায়তার পরিমাণ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শরণার্থীদের বৈশ্বিক সংহতি এবং মর্যাদার সঙ্গে তাদের জীবন পুনর্নির্মাণের সুযোগ প্রয়োজন। পাশপাশি তাদের সমান সুযোগ, কাজ, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রয়োজন।
উদার আশ্রয়দানকারী দেশগুলো, যেগুলো মূলত নিম্ন বা মধ্যম আয়ের দেশ, তাদের শরণার্থীদের সমাজ এবং অর্থনীতিতে সম্পূর্ণরূপে অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা ও সম্পদের প্রয়োজন।
দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বাণীতে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোকে আরও বেশি সহায়তার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন আমরা শরণার্থীদের সংঘাতগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিই, যাতে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া লোকেরা তাদের বাড়ি ফিরে যেতে পারে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফুটবল বিশ্বকাপ -২০২৬ শুভ সূচনায় মেক্সিকোর চমক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ২-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। তিনটি লাল কার্ডে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে কার্যত ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা আর কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। নবম মিনিটেই স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। পঞ্চাশ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সিথোলে পেনাল্টি বক্সের মাথায় ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। এর ফলে ১০ জনের দলে নেমে যায় সফরকারীরা।এরপর ছেষট্টি মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমিনেজ। এক গোল পেছনে পড়ে এবং একজন কম নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই তখন আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

চুরাশি মিনিটে আরও একবার লাল কার্ড দেখে বিপদ বাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ফাউল করে মাঠ ছাড়েন থেম্বা জেওয়ানে। যোগ করা সময়ের দুই মিনিটে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর সেজার মন্তেস, ফলে ম্যাচে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখা যায়।শেষ পর্যন্ত দুই গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে মেক্সিকো।

ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন অভিন্ন: ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার ত্রিবেদী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও মজবুত হবে
বলেছেন-ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।দুই দেশের মানুষের গণতন্ত্রের স্বপ্ন অভিন্ন।বৃহস্পতিবার ১১ জুন কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত নেতাজি ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ কেবল ভৌগোলিক সীমান্তের মাধ্যমে সংযুক্ত নয়, বরং দুই দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাও একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের যে স্বপ্ন,একই স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষেরও।

দুই দেশের ১৬০ কোটি মানুষের কল্যাণে যা প্রয়োজন, সেই লক্ষ্য অর্জনে একযোগে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ ও দুই দেশের জনগণের সমর্থন ও আশীর্বাদ তাঁদের পথচলায় শক্তি জোগাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু সীমান্তের মাধ্যমে সংযুক্ত নই। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। আমাদের স্বপ্ন অভিন্ন, গণতন্ত্রের অভিন্ন স্বপ্ন। তাই শুধু ভারতের ১৪০ কোটি মানুষই নয়, আমি এর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ২০ কোটি মানুষকে যোগ করি। ১৬০ কোটি মানুষের জন্য যা ভালো, আমি নিশ্চিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এই দেশের মানুষ এবং বাংলাদেশের মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করবেন, যাতে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি এবং যা অর্জন করতে যাচ্ছি, তাতে সফল হতে পারি।

শুক্রবার ঢাকায় আসার সময় ভার‌তের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর স‌ঙ্গে তার স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীও ঢাকায় আস‌বেন। বাংলা‌দে‌শে ভার‌তের নতুন হাইক‌মিশনার হি‌সে‌বে গত এপ্রিলের শে‌ষ দি‌কে আনুষ্ঠা‌নিকভা‌বে দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ