আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

জামালপুর:

দেওয়ানগঞ্জে ইউএনওর নির্দেশে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারীকে বেঁধে রাখার ঘটনায় ৩ আনসার সদস্যকে স্ট্যান্ড রিলিজ

কামরুজ্জামান কানু জামালপুর:

দেওয়ানগঞ্জ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ইউএনওর নির্দেশে বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মচারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার ঘটনায় তিন আনসার সদস্যকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। এদের একজনের নাম মো. আনারুল ইসলাম, জানা গেলেও বাকীদের নাম জানা যায়নি।

২১ জুন রাতে জামালপুর জেলা প্রশাসক মো. শফিউর রহমান মুঠোফোনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, ২০ জুন উপজেলা পরিষদে দুই বছরের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যান বিদ্যুৎ অফিসের দুজন কর্মচারী। এতে ক্ষুব্ধ হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স। পরবর্তীতে তার নির্দেশে একজন কর্মচারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
২১ জুন ২০২৪ – সকাল থেকে এ ধরনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বারান্দার লোহার পাইপের সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক কর্মচারীকে বেঁধে রাখা হয়েছে। তার পাশেই আরেক কর্মচারী বসে রয়েছেন। এক ব্যক্তি ফোনে এ দৃশ্যের ভিডিও করেছেন। ভিডিওতে পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীকে বলতে শোনা যায়, আমি সরকারি কাজ করতে এসেছি, আমি কি সরকারি লোক না? আমাকে এভাবে চোরের মতো বেঁধে রাখতে বেন না। পাশ থেকে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, আপনাকে বলার পর লাইন কেটেছেন কেন? ইউএনওর নির্দেশে আপনাকে বেঁধে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পল্লী বিদ্যুতের লাইন টেকনিশিয়ান ইকবাল হোসেন। তিনি জানান, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কোয়ার্টারের বেলী-১, হাসনাহেনা-১ ও আনসার ব্যারাকের পল্লী বিদ্যুতের দুই বছরের বিল বকেয়া রয়েছে। বৃহস্পতিবার পল্লী বিদ্যুৎ দেওয়ানগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম শেখ ফরিদের নির্দেশে তিনি ও লাইন টু লেবেল-১ শাহজামাল ইয়াছিন বকেয়া বিলের জন্য উপজেলা চত্বরে যান। সেখানে দায়িত্বশীল কাউকে না পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফোনে বিষয়টি জানালে তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেন দেন। নির্দেশ পেয়ে ব্যারাকের কর্তব্যরত আনসারদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা জানালে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাহিদ হাসানকে ফোনে বিষয়টি জানান। একপর্যায়ে ইউএনওর নির্দেশে আনসার সদস্যরা ইকবাল হোসেনকে ব্যারাকের বারান্দার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন।

জামালপুর জেলা প্রশাসক মো. শফিউর রহমান বলেন, এই ঘটনার সাথে তিনজন আনসার সদস্য জড়িত থাকায় তাদেরকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। ইউএনও’র নির্দেশে যেহেতু এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে’।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

বোয়ালখালীতে বসতঘর চুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীর বসতঘরে ভেন্টিলেটর ভেঙে নিয়ে গেছে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার। উপজেলার পোপাদিয়ার আকুবদন্ডী মিনা গাজী মাজার এলাকার প্রবাসী জয়নাল মাস্টারের ঘরে এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পরিবারের সদস্যরা নগরী থেকে বাড়িতে এসে এ ঘটনা জানতে পারেন।

পরিবারের সদস্য প্রবাসী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন মানিক জানান, তার বড় ভাই জয়নাল মাস্টার গত সপ্তাহে পরিবার নিয়ে নগরের হালিশহরে মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেমি-পাকা ঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙে চোরের দল প্রবেশ করেছে। তারা আলমারি ভেঙে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণের গয়না ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে এবং ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো করে রেখেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘জয়নাল মাস্টার ঘরে না থাকার সুবাদে চোরের দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ