আজঃ রবিবার ৩ মে, ২০২৬

সিলেট:

সিলেট সুনামগঞ্জে ফের বন্যা, সীমাহীন দুর্ভোগ জনজীবনে

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেট:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিলেট: সিলেটে ঈদুল আজহার আগ থেকেই ছিল বন্যা। সবকিছু পানির নিচে থাকায় বেগ পেতে হয়েছে ঈদ উদযাপনেও। তার রেশ না কাটতেই অতিভারী বর্ষণের ফলে ফের বন্যার চোখ রাঙানি। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য বলছে— দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে আগামী ৭ দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ফলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা।

এই অঞ্চলে দু’দফা বন্যার ক্ষত সারানোর আগেই তৃতীয় দফা বানের কবলে পড়েছেন লাখো মানুষ। রোববার (১ জুলাই) রাত থেকে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন নদনদীর পানি বাড়ার পাশাপাশি প্লাবিত হতে শুরু করেছে নিম্নাঞ্চল। অব্যাহত আছে পানি বাড়ার ধারা। ফলে অঞ্চলটিতে দুর্ভোগের সীমা ছাড়িয়েছে। এদিকে উত্তরের জনপদেও বাড়ছে পানি। মাঝ আষাঢ়ে যে বর্ষণ চলছে, তা সপ্তাহজুড়ে চলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আর তাতে নদীর পানি বেড়ে দেশের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র।

গতকাল সোমবার এক দিনেই সিলেটের বিভিন্ন নদীর ১০ পয়েন্টের মধ্যে চারটির পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সুরমা নদীর গোলাপগঞ্জ এলাকা, জৈন্তাপুরের বড়গাঁঙ নদী, পিয়ান ও সারি নদীর বিভিন্ন এলাকায় পানি বেড়ে লোকালয়ে ঢুকতে দেখা গেছে। দু’দিনে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানিয়েছেন, বন্যার শঙ্কা করা হচ্ছে। পানি বাড়তে থাকলে আবারও বন্যা হবে। গতকাল সোমবার সিলেটে ১৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানান সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন।

অপর দিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে সিলেট বিভাগে স্থগিত রাখা হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। এনিয়ে চার বিষয়ের পরীক্ষার নতুন রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন রুটিনে এ চার বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে আগামী ১৩ আগস্ট থেকে অনুষ্ঠিত হবে। অন্য বিষয়ের পরীক্ষা আগের রুটিন অনুযায়ী চলবে।সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরে দেখা দিয়েছে বন্যা। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর-বালিজুড়ি রাস্তা, শক্তিয়ারখলা ১০০ মিটার রাস্তা ও লালপুর সড়কটি এখন ৩ ফুট পানির নিচে। এ রাস্তায় চলাচলকারী লোকজন নৌকা কিংবা বিকল্প যানবাহনে চলাচল করছেন। তাহিরপুরে বানের পানিতে ডুবেছে চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

মৌলভীবাজারের সীমান্তঘেঁষা জুড়ী নদীর (জুড়ী-ভবানীপুর) পানি বিপৎসীমার ১৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে কুশিয়ারা নদীর মৌলভীবাজার অংশের শেরপুর পয়েন্টে উজানের ঢলের প্রভাবে পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে জেলার মনু-ধলাই নদীর পানি বাড়ছে। তবে এ দুই নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রংপুরে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল কাউনিয়ার তিস্তা রেলসেতু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

দু’দিনের বৃষ্টি এবং উজানের ঢলে গাইবান্ধার প্রধান চার নদনদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। সেখানকার তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তবে ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে নেত্রকোনার প্রধান নদী উব্ধাখালী নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে গেছে। এ ছাড়া সোমেশ্বরী ও কংশের পানিও বেড়ে চলেছে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দু’দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরে সরকারি বেশ কয়েকটি অফিসে পানি ঢুকে আসবাবের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় খাল ও নর্দমার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, উত্তরাঞ্চলে নদীর পানি সমতলে কমছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র, যমুনার পানি সমতল স্থিতিশীল আছে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় এসব নদনদীর পানি সমতলে বাড়বে। আগামী কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমারের পানি সমতলে দ্রুত বাড়বে।আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, দেশের প্রায় সব বিভাগেই অন্তত শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ‌ বলেন, শনিবার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসি পর্বত এলাকায় ৮০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ বৃষ্টির পানি পুরোটাই সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বিভিন্ন নদনদীতে ঢোকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভাঙ্গুড়ায় অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগে যুবককে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদন্ড।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভাঙ্গুড়ায় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে এক যুবক কে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার ২ মে বিকাল ৩ টার দিকে উপজেলাধীন খানমরিচ ইউনিয়ন এর মহিষবাথান এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪০), পিতা-
মো: আলহাজ্ব আফজাল প্রাং, সাং-মহিষবাথান, ভাঙ্গুড়া, পাবনা কে বালুমহাল ও মাটি ব্যাবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মিজানুর রহমান। এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার এসআই সুব্রত কুমার সহ পুলিশ টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার কার্যক্রম চলছিল, যা কৃষিজমি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মিজানুর রহমান জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ব্র্যাক ডেইরির উদ্যোগে “আদর্শ দুগ্ধ খামার ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণ” শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ খামারি, সমৃদ্ধ ডেইরি” স্লোগানকে সামনে রেখে ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্টের উদ্যোগে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় দুগ্ধ খামার কে লাভজনক ও টেকসই করতে “আদর্শ দুগ্ধ খামার ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণ” শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।রবিবার সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা হলরুমে ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্টের আয়োজনে এই কর্মশালা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে খামারিদের আধুনিক পদ্ধতিতে গরু লালন-পালন, সুষম-খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা, কৃত্রিম প্রজনন, দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর খামার পরিচালনার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে লাভজনক দুগ্ধ খামার গড়ে তুলতে বিজ্ঞান ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের প্রশিক্ষণ খামারিদের দক্ষতা বাড়াবে এবং উৎপাদন খরচ কমিয়ে আয় বৃদ্ধি করতে অনেক সহায়তা করবে।

উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ আরিফুজ্জামান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি অফিসার জনাব ডা: মোছা: রুমানা আক্তার রোমি, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা: শারমিন আক্তার। উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো: নুরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্ট এর লাইভ স্টোক সার্ভিস শাখার ম্যানেজার ডা: রিপন মিয়া ও ভেটেরিনারি সার্জন ডা: মো: ইমরান হোসেন।

উক্ত অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্ট এর শাহজাদপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ডা. মোঃ রিয়াজুল ইসলাম এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এরিয়া ম্যানেজার মো: আসাদুজ্জামান ।

প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, খামার ব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্নতা, সময় মতো টিকা প্রদান, উন্নত জাতের গবাদিপশু নির্বাচন এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশে গুনগত মান সম্মত দুগ্ধ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের দুগ্ধ শিল্প আরো উন্নত ও টেকসই হবে।

প্রশিক্ষণের বিশেষ অতিথি তার বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন যে, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এলাকার দুগ্ধ খামারিরা আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আরও উন্নত ও লাভজনক খামার গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।
এছাড়া প্রশিক্ষণের অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্টের শাহজাদপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ডা. মোঃ রিয়াজুল ইসলাম

খামারিদের মডেল ফার্ম গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ করে গাভী ছেড়ে পালন এবং গাভীকে ২৪ ঘন্টা পরিষ্কার পানি সরবরাহের মাধ্যমে গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করার কৌশল আলোচনা করেন। অন্যান্য বক্তাগণ খামারের আপদকালীন সময়ের জন্য বিশেষ করে বর্ষাকালে গাভীর খাদ্য চাহিদা পূরণ করার জন্য সাইলেজ তৈরি, কমপ্লিট মিল্কিং, খামারের হাইজিন ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করার উপর জোর দেন।

এ সময় স্থানীয় খামারি, কৃষি উদ্যোক্তা, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণকে সময়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রশিক্ষণার্থীগণ ব্র্যাক ডেইরির এ ধরনের উদ্যোগ এর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তারা ব্র্যাক ডেইরির সঙ্গে থেকে নিয়মিত দুধ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। তারা ব্র্যাক ডেইরির এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রশিক্ষণটিতে ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুর উপজেলার প্রায় ১০০ জন দুগ্ধ খামারী অংশগ্রহন করেন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ