আজঃ রবিবার ৩ মে, ২০২৬

নোয়াখালী:

আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে বিএনপি-জামায়াতের ২ নেতার মৃত্যু

রিপন মজুমদার স্টাফ রিপোর্টার:

নোয়াখালী:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীতে সুবর্ণচরে সড়ক দুর্ঘটনায় জামাল উদ্দিন গাজী (৫৫) ও হাফিজ উল্যাহ (৫৭) নামে দুই বিএনপি-জামায়াত নেতার মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার সুলতান নগর এলাকার চরজব্বর টু সোনাপুর সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত গাজী উপজেলার চর আমান উল্যা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের কাটাবুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান আহমদের ছেলে এবং একই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। হাফিজ উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মাওলানা নুরুল উল্যার ছেলে এবং একই ইউনিয়নের জামায়াত নেতা ছিলেন।

চর আমান উল্যা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ( মেম্বার) হোসেন আহাম্মদ দুলাল বলেন, সকালে বিএনপি নেতা গাজী তার আত্মীয় জামায়াত নেতা হাফিজ উল্যা এক সাথে মোটরসাইকেল যোগে জেলা শহর মাইজদীতে রাজনৈতিক মামলার হাজিরা দিতে যান। হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার চরজব্বর টু সোনাপুর সড়কের সুলতান নগর এলাকার পৌঁছলে পিছন দিক থেকে একটি বেপরোয়া গতির সিএনজি চালিত অটোরিকশা তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল চালক হাফিজ উল্যাহ মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে রাস্তার বাহিরে চলে যায়। ওই সময় পিছনে থাকা আরেকটি ট্রাকও তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিএনপি নেতা গাজী মারা যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গাজীকে মৃত ঘোষণা করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টায় মারা যান জামায়াত নেতা হাফিজ উল্যাহ।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউছার আলম ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে রেলের সাতটি পাহাড়ে ৫ হাজার ৩৩২টি অবৈধ স্থাপনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণহানি এড়াতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে মাইকিং। প্রতিবছর ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তাই রেলওয়ের পাহাড়গুলোতে অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য এ থেকে মাইকিং করা হয়। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রেলওয়ের পাহাড়গুলো সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল বিভাগ অবৈধ বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করেন।প্রতিবছর বর্ষা শুরুর আগে রেলওয়ে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।তারপরও তারা আবার এই অবৈধ স্থাপনায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য চলে আসে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ জিসান দত্ত বলেন, রেলওয়ের পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যারা বসবাস করছেন তাদেরকে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। পাহাড়তলী, ফয়’স লেক, আকবরশাহ, সিআরবিসহ রেলওয়ের অনেক পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকি নিয়ে অনেকে বসবাস করছেন। ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার আগে তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে মাইকিং করেছি। বেলা ১১টা থেকে আমাদের লোকজন প্রতিটি পাহাড়ে মাইকিং করেছে।জানা গেছে, চট্টগ্রামে রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে পাঁচ হাজার ৩৩২টি অবৈধ স্থাপনা হয়েছে।এসব অবৈধ স্থাপনায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ। তিন দশকের বেশি সময় ধরে এসব পাহাড়ে বসবাস করে আসছেন অনেক মানুষ।

দিন দিন এই অবৈধ বসতির সংখ্যা বাড়ছে। রেলওয়ের মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ পরিবারের বসবাস নগরীর ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নং ঝিল পাহাড়ে। এখানে চার হাজার ৪৭৬টি পরিবার থাকে। ভারী বৃষ্টিপাতের সাথে চট্টগ্রামে ভূমিধসের সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরপর রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাদের পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবৈধ বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং শুরু করে।

রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ পরিবারের বসবাস নগরীর ফয়’স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নম্বর ঝিল পাহাড়ে। এখানে চার হাজার ৪৭৬টি পরিবার থাকে। এছাড়া মতি ঝরনা ও বাটালি হিল এলাকায় বসবাস ৪৩১টি পরিবারের।

লেক সিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বিজয় নগর পাহাড়ে বসবাস ২৮৮টি পরিবারের। রেলওয়ের মালিকানাধীন ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে ৭৪টি, নগরীর জাকির হোসেন সড়কে পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৬টি পরিবার বসবাস করছে।এছাড়া জেলার উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন পাহাড়ে অবৈধ বসতি বেড়েই চলছে। জেলার সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, পটিয়া, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ড এলাকায় বিভিন্ন পাহাড়ে অসংখ্য অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে।

জানা গেছে, ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ১২৭ জনের মৃত্যুর পর ৩৬ দফা সুপারিশ দিয়েছিল তদন্ত কমিটি। এর ১০ বছর পর ২০১৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে ১৬৮ জনের মৃত্যুর পর ৩৫ দফা সুপারিশের মধ্যেও একই ধরনের সুপারিশ ছিল। কিন্তু বৃষ্টি হলে কিছু লোকজনকে সাময়িক সরিয়ে নেওয়া ছাড়া কার্যত কোনো সুপারিশই বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রশাসন। সর্বশেষ ২০২২ সালের ১ নম্বর ঝিলে পাহাড়ধসে মারা গিয়েছিলেন একই পরিবারের দুজন।

বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজের সংঘর্ষে আটকা প্রায় ২ হাজার ৮০০ কনটেইনার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুটি জাহাজের সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উভয় জাহাজই। এতে আটকা পড়া প্রায় ২ হাজার ৮০০ একক কনটেইনার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আমদানিকারক ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ দুটির চলাচল স্থগিত থাকবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল জাহাজ দুটি। এর মধ্যে একটি বিশ্বের শীর্ষ শিপিং কোম্পানি ‘মায়ারস্ক’-এর এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালিত ‘এইচ আর তুরাগ’। শুক্রবার সকালে বহির্নোঙর থেকে জাহাজ দুটি বন্দরের জেটিতে আনার প্রস্তুতিকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর জাহাজ দুটির মূল কাঠামোতে দৃশ্যমান ক্ষতি দেখা গেছে। তবে পানির নিচের অংশে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জাহাজ দুটি জেটিতে নিয়ে আসতে গেলে প্রবেশমুখে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে আপাতত সেগুলো বহির্নোঙরেই রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বন্দরের পাইলট ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন জানান, জাহাজের কাছে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে জাহাজে উঠে ক্ষতির চিত্র দেখে নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় জেটিতে না এনে ফিরে আসেন তারা। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ