চট্টগ্রামে বৌদ্ধ বিহারে দুর্ধর্ষ চুরির অভিযোগ

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী মুকুটনাইট ধাতুচৈত্য বিহারে গতরাতে বিহারের তালা কেটে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল বিহারের কয়েকটি তালা সুকৌশলে কেটে বিহারের ভিতরে কাচের গ্লাস বাধাঁ অবস্হায় রক্ষিত কয়েকশো বছরের পুরোন মূল্যবান বড় একটি বৌদ্ধমূর্তি চুুরি করে নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর প্রবীণ কয়েকজনের সাথে বৌদ্ধ মুর্তি ছুরির বিষয়ে কথা বলে জানাগেছে মূর্তিটি আসলে সোনালি কালারের হওয়ায় এটি অনেকেই পিতলের মূর্তি মনে করলেও আসলে মূর্তি একটি অষ্টধাতুর মহামূল্যবান বৌদ্ধমূর্তি। এটা কয়েক প্রজন্ম আগে মুকুটনাইট ধাতুচৈত্য বিহার প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা এখানে দেখে আসতেছি।

গতরাতের চুরি হওয়া বিহার থেকে মূল্যবান অষ্টধাতুর বৌদ্ধমূর্তি ছাড়াও বিহারের দানবাক্সের তালা কেটে মানুষের দান করা আনুমানিক ৩০/৪০ হাজার ক্যাশ টাকাও অন্যান্য জিনিষপত্র নিয়ে গেছে। আজ ০২ জুন মঙ্গলবার ভোর সকালে বিহার চুরির ঘটনা একালায় জানাজানি হলে এলাকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারীপুরুষ তাদের শত বছরের এই বৌদ্ধমূর্তির জন্য বিহারে জড়ো হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং যেকোনো ভাবে তারা তাদের পূর্বপুরুষের স্মৃতি এলাকার কৃষ্টি কালচারের অংশ বৌদ্ধমূর্তিটি উদ্ধার করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এব্যাপারে মুকুটনাইট ধাতুচৈত্য বিহার কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মিলন কান্তি বড়ুয়া’র সাথে কথা হলে উনি জানান আমরা সকালে বিষয়টি পটিয়া থানার ওসিকে ফোনে জানিয়েছি,পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্স জসিম উদ্দীন ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন চুরির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশাস্খা করেন। মূর্তিটি উদ্ধারের আশ্বাস দেন।আমরা আজকে বিহার কমিটির সকলে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েই রাতে বা সন্ধ্যায় পটিয়া থানায় মামলা করবো। বীরমুক্তিযোদ্ধা মিলন বড়ুয়া বলেন আমরা আপনাদের মাধ্যমেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্হানীয় সংসদ সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি যাতে ধর্মীয় উপসালয় চুরির মতো এই জঘন্য ঘৃণিত ঘটনায় দোষীদের তদন্ত পূর্বক চিহ্নত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হয়।

এবিষয়ে সাবেক পুলিশের ডিআইজি বিহার কমিটির উপদেষ্টা মুকুটনাইট গ্রামের কৃতি সন্তান বাবু প্রিয় রঞ্জন বড়ুয়া (পিআর বড়ুয়া) জানান আমি এই জঘন্য ঘটনার খবর শুনামাত্র পটিয়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের ব্যাপারে কথা বলতেছেন। ঘটনার খবর শুনে দুপুরে মুকুটনাইট বিহারে ঘটনাস্থল পরিদর্শন আসেন পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ দিদারুল আলম, ধলঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রণবীর ঘোষ টুটুল,স্হানীয় বিহার কমিটি

উপদেষ্টা বিবেকানন্দ বড়ুয়া দীপু, স্বপন কান্তি বড়ুয়া, অনুজ চৌধুরী, বিষু বড়ুয়া,সুমন বড়ুয়া, রূপন কান্তি বড়ুয়া সহ স্হানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু, ইউপি সচিবকে ৩ বছরের কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যুর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মোহাম্মদ নূরুল আলমকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ নূরুল আলম (৪৭), কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর এলাকার মৃত আবু সালামের ছেলে।তিনি পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব।মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

খালাসপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম এবং পেকুয়া উপজেলার তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সৌভ্রাত দাশ। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাই তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন সচিব মোহাম্মদ নূরুল আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে চারজন ভুয়া ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করেন। তিনি নিজে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ছৈয়দ আহমদ, মো. ইউনুছ, শামসুন্নাহার ও রহিম উল্লাহ নামে চারজনের জন্মনিবন্ধন তৈরি করেন, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এসব জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়। দুদকের তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।

দুদকের পিপি মোকাররম হোসাইন বলেন, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে সাবেক ইউপি সচিব মোহাম্মদ নূরুল আলমের বিরুদ্ধে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যুর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

জলাবদ্ধতামুক্ত নগরীতে রূপান্তরে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি : মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগরীতে রূপান্তর করতে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নগরীর চকবাজার ফুলতলা এলাকার রসুলবাগ (চাক্তাই) খাল পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় চলমান খনন, পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন মেয়র। খালের পানিপ্রবাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি। এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে খাল পুনরুদ্ধার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মেয়র।

পরিদর্শন শেষে মেয়র বললেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগরীতে রূপান্তর করতে খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। খাল শুধু পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম নয়, বরং নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই খাল পুনরুদ্ধার, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

ডা. শাহাদাত জানান, রসুলবাগ খালে চলমান খনন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি সন্তোষজনক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মেয়র বলেছেন, উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি ভবিষ্যতে খালের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গুণগত মান বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ