আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগর

২ লক্ষ ১০ হাজার ৯৮৪টি হোল্ডিং থেকে লক্ষ্যমাত্রার ৫৪ শতাংশ পৌরকর আদায়

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এর নিজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান খাত পৌরকর আদায়। আপিলে হোল্ডিং ট্যাক্স ‘সহনীয়’ করাসহ নানা উদ্যোগ নেয়ায় এবার চসিকে সর্বোচ্চে পৌরকর আদায় হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ উন্নয়ন কাজে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ম্যাচিং ফান্ডের যোগান দিতে হয় চসিককে। এই অর্থের সংস্থানে রাজস্ব আদায়ের উপর নির্ভর করতে হয়। ফলে পৌরকর আদায়ে বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে চসিক।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরে বর্তমানে ২ লক্ষ ১০ হাজার ৯৮৪টি সরকারি–বেসরকারি হোল্ডিং রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫১৬টি সরকারি এবং ২ লক্ষ ৯ হাজার ৪৬৮টি বেসরকারি হোল্ডিং রয়েছে। এসব হোল্ডিংয়ের বিপরীতে ৩৮৪ কোটি ৭৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ টাকা পৌরকর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। বিপরীতে ২০৮ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ৮০৫ টাকা। যা লক্ষ্যমাত্রার ৫৪ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি ১১৫ কোটি ২৬ লাখ ৩৯ হাজার ২১টা পৌরকর এসে বেসরাকরি হোল্ডিংয়ে বিপরীতে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ শতাংশ। সরকারি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে আদায় হয় ৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৮৪ টাকা।
এর আগের অর্থবছরের (২০২২–২০২৩) লক্ষ্যমাত্রার ৪৭ শতাংশ পূরণ হয়। অর্থবছরটিতে ৩৯৭ কোটি ৫০ লাখ ৭৪ হাজার ৯৪২ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ১৮৬ কোটি ৯৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৩ টাকা। ওই হিসেবে পূর্বের অর্থবছরের চেয়ে বিদায়ী অর্থবছরে ২১ কোটি ৮৬ লাখ ৬৫ হাজার ২৩২ টাকা বেশি পৌরকর আদায় হয়েছে।
চসিকের প্রধান রজস্ব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সহনীয় পর্যায়ে আপিল নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি নিয়মিত টাস্কফোর্স পরিচালনা, করদাতাদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের কঠোর মনিটরিংসহ নানা উদ্যোগ নেয়ায় গত ২৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পৌরকর আদায় হয়েছে।
জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশন অ্যাক্ট ২০০৯ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে চসিক পৌরকর আদায় করে। বর্তমানে ২৫টি ওয়ার্ড থেকে ১৭ শতাংশ এবং ১৬টি ওয়ার্ড থেকে ১৪ শতাংশ পৌরকর আদায় করে চসিক। ১৭ শতাংশ পৌরকরের মধ্যে ৭ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাঙ (গৃহকর), ৩ শতাংশ বিদ্যুতায়ন রেইট এবং ৭ শতাংশ আর্বজনা অপসারণ রেইট রয়েছে। যেসব ওয়ার্ড থেকে ১৪ শতাংশ পৌরকর আদায় করা হয় ওসব ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ রেইট নেয়া হয় ৩ শতাংশ।
এদিকে পৌরকরের বাইরে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ ৯২ হাজার ৭০৩ টাকা ট্রেড লাইসেন্স ফি, ৮৫ কোটি ৬৬ হাজার ৭৮১ টাকা ভূমি হস্তান্তর কর, ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬০ টাকা বিজ্ঞাপন কর, ৫ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার ১১৪ টাকা সপসাইন ফি, ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬৪ টাকা প্রমোদকর ফি, ৫ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ টাকা যান্ত্রিক যানবাহন ফি ও ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৪ টাকা অযান্ত্রিক ফি আদায় করে বিদায়ী অর্থবছরে। এছাড়া এস্টেট শাখা থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৪ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার ৬১১ টাকা। সবমিলিয়ে বিদায়ী অর্থবছরে ৩৭২ কোটি ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৬ টাকা রাজস্ব আদায় করে চসিক। যা পূর্বের ২০২২–২০২৩ অর্থবছরের চেয়ে ১৬ কোটি ১৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বেশি। পূর্বের অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৫৫ কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার ২৬৯ টাকা।
চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স সহনীয় করার জন্য আমি যে পন্থার ঘোষণা দিয়েছিলাম সেটা অবলম্বন করেছি। আপিলে করদাতাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহনীয় করে দিয়েছি। এতে করদাতারা সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে উৎসাহী হন। আমি হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি না করে আওতা বৃদ্ধির পক্ষে। তাই মানুষের উপর হোল্ডিং ট্যাক্সের চাপ কমেছে। তিনি বলেন, করদাতাদের পৌরকর আপিল নিষ্পত্তিকরণের লক্ষ্যে ৬টি রিভিউ বোর্ড গঠন করা হয়। উক্ত রিভিউ বোর্ডে আমি নিজে উপস্থিত থেকে গণশুনানির মাধ্যমে করদাতাদের চাহিদামতো সহনীয় পর্যায়ে কর মূল্যায়ন করায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে করদাতারা আগ্রহ নিয়ে আপিল শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বকেয়া কর পরিশোধের সুবিধার্থে সারচার্জ মওকুফের সুবিধা দেওয়া হয়েছে বিধায় করদাতারা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করছেন। নগরবাসীর গৃহকর নিয়ে যে অসন্তোষ ছিল তা প্রশমিত হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ