ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে জেনে নিন

স্বাস্থ্য প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ডেঙ্গুর জ্বর নিয়ে অনেক মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কারণ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা মৃত্যুর সংখ্যা একেবারে কম নয়।কোন শরীরে কোন লক্ষণ দেখলে আপনি বুঝবেন যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী হতে পারে?

ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো কী?

সাধারণভাবে ডেঙ্গুর লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেবার পর আবারো জ্বর আসতে পারে। এর সাথে শরীরে ব্যথা মাথাব্যথা, চেখের পেছনে ব্যথা এবং চামড়ায় লালচে দাগ (র‍্যাশ) হতে পারে। তবে এগুলো না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে।

জ্বর হলেই কি চিন্তিত হবেন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ বলছেন, এখন যেহেতু ডেঙ্গুর সময়, সেজন্য জ্বর হল অবহেলা করা উচিত নয়।
জ্বরে আক্রান্ত হলেই সাথে-সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।তিনি বলছেন, ”ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তারা জ্বরকে অবহেলা করেছেন। জ্বরের সাথে যদি সর্দি- কাশি, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কিংবা অন্য কোন বিষয় জড়িত থাকে তাহলে সেটি ডেঙ্গু না হয়ে অন্যকিছু হতে পারে। তবে জ্বর হলেই সচেতন থাকতে হবে।”
বিশ্রামে থাকতে হবে
সরকারের কমিউনিক্যাবল ডিজিজ কন্ট্রোল বা সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অন্যতম পরিচালক ড. সানিয়া তাহমিনা বলেন, ”জ্বর হলে বিশ্রামে থাকতে হবে। তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন, জ্বর নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করা উচিত নয়। একজন ব্যক্তি সাধারণত প্রতিদিন যেসব পরিশ্রমের কাজ করে, সেগুলো না করাই ভালো। পরিপূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন।
কী খাবেন?
প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন – ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা যেতে পারে। এমন নয় যে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে, পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।
যেসব ঔষধ খাওয়া উচিত নয়
অধ্যাপক তাহমিনা বলেন, ”ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে।”
চিকিৎসকরা বলছেন, প্যারাসিটামলের সর্বোচ্চ ডোজ হচ্ছে প্রতিদিন চার গ্রাম। কিন্তু কোন ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর সময় অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা নিয়ে চিন্তিত?
ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা এখন আর মূল ফ্যাক্টর নয় বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক তাহমিনা।তিনি বলেন, ”প্ল্যাটিলেট কাউন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কোন প্রয়োজন নেই। বিষয়টি চিকিৎসকের উপর ছেড়ে দেয়াই ভালো।”সাধারণত একজন মানুষের রক্তে প্ল্যাটিলেট কাউন্ট থাকে দেড়-লাখ থেকে সাড়ে চার-লাখ পর্যন্ত।
ডেঙ্গু হলেই কি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়?
ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ভাগ রয়েছে।
এ ভাগগুলো হচ্ছে – ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’।
প্রথম ক্যাটাগরির রোগীরা নরমাল থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী ‘এ’ ক্যাটাগরির।
তাদের হাসপাতালে ভর্তি হবার কোন প্রয়োজন নেই। ‘বি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের সবই স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন তার পেটে ব্যথা হতে পারে, বমি হতে পারে প্রচুর কিংবা সে কিছুই খেতে পারছে না।অনেক সময় দেখা যায়, দুইদিন জ্বরের পরে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে হাসপাতাল ভর্তি হওয়াই ভালো।’সি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ’র প্রয়োজন হতে পারে।
আরো পড়তে পারেন:
ডেঙ্গুর জ্বরের সময়কাল
সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ থাকে। কারণ এ সময়টিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে।কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের সময়কাল আরো এগিয়ে এসেছে। এখন জুন মাস থেকেই ডেঙ্গু জ্বরের সময় শুরু হয়ে যাচ্ছে।
এডিস মশা কখন কামড়ায়
ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস মশা অন্ধকারে কামড়ায় না। সাধারণত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার কিছু আগে এডিস মশা তৎপর হয়ে উঠে। এডিস মশা কখনো অন্ধকারে কামড়ায় না।
পানি জমিয়ে না রাখা
অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলছেন, ‘এডিস মশা ‘ভদ্র মশা’ হিসেবে পরিচিত। এসব মশা সুন্দর-সুন্দর ঘরবাড়িতে বাস করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।এডিস মশা সাধারণত ডিম পাড়ে স্বচ্ছ পানিতে। কোথাও যাতে পানি তিন থেকে পাঁচদিনের বেশি জমা না থাকে।
এ পানি যে কোন জায়গায় জমতে পারে। বাড়ির ছাদে কিংবা বারান্দার ফুলের টবে, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন পয়েন্টে, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা টায়ার কিংবা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি: চিকিৎসার মানের বাইরে যে প্রশ্নগুলো জরুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি হাসপাতালের সাফল্য কি শুধু কতজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হলো, কতটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলো কিংবা কত আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হলো—এসব দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব? নাকি এর পাশাপাশি দেখতে হবে, রোগী কত সহজে সেবা পেলেন, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য কতটা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলেন, অভিযোগ জানালে কত দ্রুত সাড়া পেলেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁর প্রতি কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করা হলো? বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনায় এই প্রশ্নগুলো আরও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

চিকিৎসার মান নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যসেবার মূল ভিত্তি। দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, যথাযথ রোগনির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা ছাড়া মানসম্মত সেবা সম্ভব নয়। কিন্তু রোগীর কাছে স্বাস্থ্যসেবার অভিজ্ঞতা তৈরি হয় আরও বিস্তৃত একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া, অপেক্ষা, বিলিং, চিকিৎসা-পরবর্তী নির্দেশনা—প্রতিটি পর্যায় তাঁর আস্থা ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে চিকিৎসার উৎকর্ষ এবং সেবাব্যবস্থার কার্যকারিতাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।

জবাবদিহির প্রশ্নটি এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হলে, রোগী প্রয়োজনীয় তথ্য বুঝতে না পারলে কিংবা অভিযোগের যথাযথ সমাধান না হলে শুধু অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পরিসংখ্যান দিয়ে সেই অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা যায় না। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সক্ষমতা প্রকাশ পায় তখনই, যখন সে নিজের কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে, দুর্বলতা শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের দায়িত্ব নেয়।

এ জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিমাপের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন। শুধু রোগীর সংখ্যা বা সেবার পরিমাণ নয়, অপেক্ষার সময়, অভিযোগের ধরন ও সমাধান, তথ্য প্রদানের স্বচ্ছতা, রোগীর অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী যোগাযোগের মতো বিষয়ও নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আসতে পারে। তবে এসব সূচককে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে চলবে না। সংখ্যার পেছনের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অভিজ্ঞতা শুনতে হবে এবং উন্নয়নের জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এখানে ডিজিটাল প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানকে সেবার বিভিন্ন পর্যায়ের সমস্যা শনাক্ত করতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি নিজে থেকে জবাবদিহি নিশ্চিত করে না। তথ্যের যথার্থতা, দায়িত্ব নির্ধারণ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে ডিজিটাল ব্যবস্থা কেবল আরও কিছু রিপোর্ট তৈরির মাধ্যম হয়ে থাকবে।

একই সঙ্গে জবাবদিহিকে শাস্তিমূলক সংস্কৃতি হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। ভুল বা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমস্যার কারণ বোঝা, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সংশোধন করা এবং পুনরাবৃত্তি কমানো। যেখানে অবহেলা বা অনিয়মের প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে যথাযথ তদন্ত ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন। আর যেখানে সমস্যার উৎস জটিল প্রক্রিয়া, অপর্যাপ্ত সমন্বয় বা অস্পষ্ট দায়িত্ব, সেখানে ব্যবস্থাগত পরিবর্তন জরুরি। এই দুই দিকের ভারসাম্যই একটি প্রতিষ্ঠানের শেখার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

রোগীর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও জবাবদিহির বাস্তব প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসার বিকল্প, সম্ভাব্য ঝুঁকি, খরচ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সহজবোধ্য তথ্য রোগীর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। যোগাযোগ শুধু তথ্য পাঠানোর কাজ নয়; রোগী তথ্যটি বুঝেছেন কি না, তাঁর প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন কি না এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছেন কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা গড়ে ওঠে এমন ধারাবাহিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই।

এই দায়িত্ব কোনো একক বিভাগ বা পেশাজীবীর নয়। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি প্রশাসন, রোগীসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ এবং ব্যবস্থাপনা দলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষাকে সব উন্নয়ন উদ্যোগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাই শুধু অবকাঠামো, প্রযুক্তি কিংবা চিকিৎসাসামগ্রীর দিকে তাকালে চলবে না। প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নিজেদের কাজের মান যাচাই করে, রোগীর অভিজ্ঞতা থেকে শেখে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জবাবদিহি কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের বিরোধী নয়; বরং দায়িত্বশীলভাবে তা চর্চা করতে পারলে সুনামের ভিত্তি আরও শক্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত উৎকর্ষ শুধু ভালো চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতায় নয়, বরং প্রতিটি রোগীর প্রতি দায়িত্ব পালন, নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার এবং সেবার মান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মধ্যেও নিহিত। এই মানসিকতাই স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি রোগী বাছাই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি রোগী বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৯ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও একইদিন কাটিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। চক্ষু পরীক্ষায় জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী ও শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রেফার করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ড. কিউ. এম. ওহিদুল আলম, মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. গোলাম ফারুক, চিকিৎসক ডা. অভিক দে ইমু, ডা. পূজা চৌধুরী, ডা. উম্মায় সালমা মুমু ও ডা. জনি পাল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক (আইসিও) মোশরাফাতুল জান্নাত আখি, অপটোমেট্রিস্ট (ফ্যাকাল্টি)মো. মাইন উদ্দিন খান,
অপটোমেট্রিস্ট (ফ্যাকাল্টি) সনি দাস, অপটোমেট্রি প্রশিক্ষক (আইসিও) নিশিতা আফরিন, সহকারী ফিল্ড অফিসার বোরহান উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা ও ফটোগ্রাফার মো. আবু শহীদ ফারুকী প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ড. কিউ. এম. ওহিদুল আলম বলেন, দৃষ্টিশক্তি মানুষের স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে দৃষ্টিজনিত বিভিন্ন জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি চক্ষু স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করার আহ্বান জানান।

এ কার্যক্রমটি এনায়েতপুর গণ পাঠাগার ও সমাজ কল্যাণ কেন্দ্রের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা ও চক্ষু স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ, গ্রাম চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং শূন্য থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা নিশ্চিত করতে টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে চক্ষু রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং দৃষ্টিহীনতা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ