আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

উত্তাল খুলনা পলিটেকনিক

ছাত্রদের দাবি ছাত্রাবাস ইনস্টিটিউট

কাজি রায়হান তানভীর সৌরভ.

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রায় ২৯ একর জমি নিয়ে ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, একাডেমিক ভবন ৪টি ছাত্রাবাস, কমন রুম, ক্যান্টিন সহ শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদার সকল উপাদান নিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিশাল কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন যুগ পরে হঠাৎ কোনো উপযুক্ত কারণ না দর্শিয়েই ২০০৯ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪ টি ছাত্রাবাসে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় বৈদ্যুতিক সংযোগ।
এভাবেই দীর্ঘ ১৫ টি বছর এই ছাত্রাবাস গুলো তালা বন্ধ। অনেক দীর্ঘ সময় ধরে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্করণের অভাবে এখন পরিতক্ত বর্জে পরিণত হয়েছে সরকারি কোটি টাকার স্থাপনাগুলো।
কালের বিবর্তনে বন্ধ হয়ে গিয়েছে কমনরুম। হারিয়ে গিয়েছে ক্যান্টিন। কিন্তু সাবেক এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জানা যায় সরকারিভাবে এই চারটি ছাত্রাবাস কে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে ২০১৭ সালে। তবে কেন পরিত্যক্ত ঘোষনার দীর্ঘ আট বছর আগেই ইনস্টিটিউট প্রশাসন তালা বন্ধ করেছিল এই ছাত্রাবাসগুলো তাজানা যায়নি।
সাবেক এই শিক্ষার্থী আরো জানায় যে ২০২৩ সালে চারটি ছাত্রাবাস সংস্কারের বরাদ্দ পেয়েছিল খুলনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট। কিন্তু বর্তমান
অধ্যক্ষ প্রকৌশলী অনিমেষ পাল ও শিক্ষক সমিতি এই ছাত্রাবাস বরাদ্দের বিপরীতে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর আপত্তি জানায় এবং আবেদন করে একাডেমিক ভবনের জন্য।
এ বিষয়ে খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের
অধ্যক্ষ অনিমেষ পালের কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুটা দ্বায় এড়িয়ে বলেন, তারা একাডেমিক ভবনের জন্য আবেদন করেননি। তারা এটি উপহার স্বরূপ পেয়েছেন। ছাত্রাবাস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ছাত্রাবাস হলে ইনস্টিটিউটে লেখাপড়ার মান খারাপ হয়ে যাবে। এজন্য ছাত্রাবাস না হওয়াই ভালো।
নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের বিষয়ে তাদের ভূমিকার কথা জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান যে এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট প্রশাসনের কিছু করার নেই।
কিন্তু গত ২ জুলাই খুলনার একটি আঞ্চলিক পত্রিকায় সাক্ষাৎকারের সময় তিনি বলেন- ইনস্টিটিউট প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়েছে দ্রুত এই পরিত্যক্ত ছাত্রাবাস গুলো অপসারণ করে এখানে ১০ তালা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন করার জন্য এবং সেটি অনুমোদন পেয়েছে। কমন রুমের বিষয় অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আজ বৃষ্টির কারণে কমন রুম বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যান্য সময় সেখানে শত শত শিক্ষার্থী থাকে ও তারা বিভিন্ন খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের অবসর সময় কাটায়।
কিন্তু বাস্তবে সেখানে গিয়ে দেখা মিলে ভিন্ন চিত্র। দরজার তলায় পড়েছে মরীচিকা।
কমনরুমের একটি ভাঙ্গা জালনা থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, কমন রুম পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে। দেখে বোঝাই যাচ্ছে অনেক বছর যাবতই সেখানে হয় না মানুষের বিচরণ।
এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইনস্টিটিউটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তারা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে দাবি করেছেন – সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে একাডেমিক ভবন নির্মাণ না করে করা হোক ছাত্রাবাস।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, খুবি শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি)এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই শিক্ষককে ইতোমধ্যে ডিসিপ্লিন-প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র’।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন।

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি, প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টে চলমান মামলায় দখলদারদের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে ৮টি পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরীর চেরাগি পাহাড় চত্বর এলাকায় চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন এই ধর্মঘটের আয়োজন করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী সঞ্চালনায় অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেয় বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদ, ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, রেজাউল করিম শিকদার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন।
অবস্থান র্ধমঘট চলাকালে বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী রক্ষায় তিন দফা দাবি অচিরেই বাস্তবায়ন করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যম কর্ণফুলীতে সাম্পান ও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তিনটি দাবি হচ্ছে- মহামান্য হাইকোর্টে চলমান মামলায় দখলদারদের পক্ষ নিয়ে জনস্বার্থ মামলার বিরোধিতাকারীদের প্রত্যাহার করতে হবে। হাইকোর্ট নির্দেশিত নদী জীবত্ব সত্ত্বা আদেশ অনুযায়ী কর্ণফুলী দখল দূষণমুক্ত করতে হবে এবং সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কর্ণফুলী নদীর তীরে টিকে থাকা সাড়ে তিন শতাধিক দেশিয় প্রজাতির গাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।পাশাপাশি নদী তীরে ব্যাপকহারে গাছ লাগাতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদলে গ্রাম সরকার বা ওয়ার্ড সরকার করে তাদের সমন্বয়ে দেশ পরিচালনা না করলে এই অব্যবস্থাপনা যাবে না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কর্ণফুলীর কারণে। দুখের কথা হচ্ছে- দেশের সঞ্চালক এই নদী রক্ষার জন্য সরকার ও প্রশাসন বরাবর উদাসীন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি- আপনারা কর্ণফুলী দখল দূষণমুক্ত করুন, না হয় জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। সাংবাদিক আলীউর রহমান বলেন, নতুন সরকারের নদী ও খাল রক্ষার ঘোষণায় কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হওয়ার আশায় ছিলাম। এখন অনেকে দখলদারদের পক্ষ নিয়ে কর্ণফুলীকে চিরতরে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে, যা চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ প্রতিহত করবে।

এসময় বক্তব্য দেন ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সহ-সভাপতি জানে আলম, কর্ণফুলী সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি কামাল পারভেজ, বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এম নুরুল হুদা চৌধুরী, রেজাউল করিম সিকদার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাহিদুল করিম বাপ্পি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাফর আলম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক লোকমান দয়াল, ইউনাইটেড সোশ্যাল নেটওয়ার্কের পরিচালক আমির হোসেন, হস্তচালিত বড় সাম্পান মাঝি সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন, চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান সমিতির সাধারণ সম্পাদক কোরবান আলী, মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন রায়, সমাজসেবক আরমান হোসেন প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ