আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

চিটাগাং চেম্বারে শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যতম বড় বাধা হচ্ছে সাইবার অপরাধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি (সিসিসিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স-বাংলাদেশ (আইসিসি-বি)’র উদ্যোগে “ডিজিটালাইজিং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অব বাংলাদেশ ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক গতকাল বুধবার সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় চিটাগাং চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স-বাংলাদেশ’র মহাসচিব আতাউর রহমান, চেম্বার পরিচালকবৃন্দ অঞ্জন শেখর দাশ, মাহফুজুল হক শাহ, মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, লুব-রেফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন’র পরিচালক মামুনুর রশিদ, বাংলাদেশ ব্যাংক এর যুগ্ম পরিচালক মোঃ রাফিউল মনির, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ’র যুগ্ম কমিশনার মারুফুর রহমান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র সহকারী পরিচালক মোরশেদুল হক, রেডসী গেটওয়ে টার্মিনাল’র হেড অব কমার্শিয়াল সৈয়দ মোহাম্মদ তারেক, এপিএল (বাংলাদেশ) প্রাঃ লিঃ’র হেড অব অপারেশন এনামুল হক ও বিএসআরএম’র হেড অব কমার্শিয়াল আলী মাহবুব হোসেন বক্তব্য রাখেন। অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এ. কে. এম. আক্তার হোসেন, মাহবুবুল হক মিয়া, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, বাফা’র সহ-সভাপতি খায়রুল আলম (সুজন), ট্রাস্টেড শিপিং লাইন্স লিঃ’র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ওয়াহিদ আলম, জিপিএইচ ইস্পাত প্রতিনিধি ওসমান গণি চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিয়ানমি স্টিলফেন, লিড ফর রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল রিফর্ম, ডিজিটাল স্ট্যান্ডার্ড ইনিশিয়েটিভ (ডিএসআই), ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স (আইসিসি), সিঙ্গাপুর।
চিটাগাং চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ বলেন-বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম অর্থনীতির দেশ। ফলে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের সাথে আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বাড়ছে বাংলাদেশের। কিন্তু বাংলাদেশের ৯০% আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে কাস্টমস এর মাধ্যমে। বাংলাদেশ এখন সর্বত্র ডিজিটাইলাইজড হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এখনও আমরা ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে রয়ে গেছি। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স এর অন্যতম সক্রিয় সদস্য। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে ডিজিটাইলাজেশনের কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন-চিটাগাং চেম্বার ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস অটোমেশনের মাধ্যমে ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া ৪২ ধাপ থেকে ৭ ধাপে নেমে আসে। কিন্তু পরবর্তী কোন উদ্যোগ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এখনো আধুনিকায়নের ছোঁয়া লাগেনি। তাই পেপারলেস, ক্যাশলেস ও ফেইসলেস সেবা নিশ্চিত করা গেলে ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। আরএমজি সেক্টরের রপ্তানিকারকগণ সঠিক সময়ে ও নিয়ম মেনে পণ্য পাঠানোর পরও বিদেশী অনেক ক্রেতা রপ্তানি মূল্য পরিশোধ না করে পণ্যসমূহ ছাড় করিয়ে নেয়। এতে করে রপ্তানিকারকগণ আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই এসব অপ্রত্যাবশিত রপ্তানি আয় পরিশোধের জন্য তিনি ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স’র সহায়তা কামনা করেন।
আইসিসি-বি মহাসচিব আতাউর রহমান বলেন-আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমাদের টিকে থাকতে হলে ডিজিটাইজেশনের কোন বিকল্প নেই। এজন্য আমাদেরকে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যতম বড় বাধা হচ্ছে সাইবার অপরাধ। এ বিষয়েও আমাদেরকে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের ট্রেড সাপ্লাই চেইন ফ্যাসিলিটি বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে ডিজিটাল সেন্টার ইনিশিয়েটিভ নেয়া হচ্ছে আইসিসি পক্ষ থেকে। তিনি বলেন-প্রতি ৩জন শ্রমিকের ১জন আইসিসিভূক্ত প্রতিষ্ঠানের সদস্য। ফলে বিশ্বব্যাপী আইসিসিভূক্ত প্রতিষ্ঠানের চেইন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। তাই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আধুনিকায়নে এগিয়ে আসতে হবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন-সরকার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের জন্য বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো নিয়ে কাজ করছে। এর মাধ্যমে সরকারের বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থাকে একই ছাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে কাস্টমস এবং বন্দরে অনলাইনে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হলেও ডেলিভারী এবং বিভিন্ন ক্লিয়ারেন্সের জন্য ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে যেতে হয়। এছাড়াও রয়েছে এইচএস কোড জটিলতা। তাই আমাদেরকে আধুনিকায়নের বাধাগুলো আগে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আধুনিকায়নে যেতে হবে। এজন্য আমাদের মানসিকতারও পরিবর্তন করা জরুরী বলে মনে করেন তারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঈদ উপলক্ষে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ৮ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে টানা আট দিনের জন্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বন্দরের আমদানি-রপ্তানি এবং সিএন্ডএফ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। তবে আগামী ৩ জুন থেকে পুনরায় স্বাভাবিক নিয়মে সব কার্যক্রম চালু হবে।

সোনামসজিদ আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন ইতি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ঈদের ছুটিকালীন সময় এ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।তবে এ সময়েও সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে। ঈদের দিনসহ প্রতিদিনই ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান জানান, ঈদের ছুটিতে মূল আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও লোড-আনলোড, গুদামজাতকরণ এবং পরিবহনসহ কিছু অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু থাকবে।

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যমুনা ইলেকট্রনিক্স এর এক্সক্লুসিভ শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যমুনা ইলেকট্রনিক্স এর এক্সক্লুসিভ শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন হয়েছে।
আজ ২৭ এপ্রিল সোমবার দুপুরে সঞ্চিতা ইলেকট্রনিক্স এর স্বত্বাধিকারী সংগীত কুমার পালের সভাপতিত্বে যমুনা ইলেকট্রনিকস এর হেড অব সেলস মাকসুদুর রহমান প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এই শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ভাঙ্গুড়া বণিক সমিতির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুজ্জামান তরুন, ভাঙ্গুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আজাদ খান প্রমূখ।
যমুনা ইলেকট্রনিকস এর প্রতিটি পন্য কোয়ালিটিতে ওয়ান নম্বার এবং বিশ্ব মানের বলে দিন দিন মার্কেটে ভোক্তাদের কাছে যমুনা ইলেকট্রনিকস এর সকল পন্য সামগ্রিই ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে।

এছাড়াও দেশব্যাপি যমুনা ইলেকট্রনিকস এর সকল পার্টনারসবৃন্দ যমুনার পন্য বিক্রি করে অনেক বেশি মুনাফা হচ্ছে বলে তারা অনেক খুশি। শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন শেষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ভাঙ্গুড়া বাজারের বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শো-রুম এর অফিসে এসে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন রকমের সাধারণ জনগণ,সাধারণ ব্যবসায়ী,রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও পাবনা জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ