আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে

সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে নারী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেলেও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ ক্রমাগতই হ্রাস পাচ্ছে। একটা সময় নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যে কোন নির্যাতন ঘটলে নারী অধিকার, মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হতো। কালের বিবর্তনে সেই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের আওয়াজ হারিয়ে যাচ্ছে। দেশব্যাপী নানা মানবাধিকার, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও বেসরকারী অনেক সংগঠন থাকলেও তারাও একাজে আগের মতো এগিয়ে আসছে না। যার কারনে নির্যাতিতরা কোন সরকারি-বেসরকারি আইনগত সহযোগিতা ও সামাজিক সমর্থন পাচ্ছে না। ফলে সহিংসতার শিকার নারীরা মানসিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা, নিরাপত্তাহীনতা এবং সর্বোপরি তাদের অধিকার নিয়ে শংকিত। অনেক ক্ষেত্রে তারা গুরুতর প্রজননস্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া সহিংসতার কারণে অনেক নারীর অকাল মৃত্যুবরণে বাধ্য হচ্ছেন। নারী ও অল্পবয়সী মেয়েদের ওপর নিপীড়নের অন্যতম কারণ বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহের কারণে বিশ্বব্যাপী বিপুল সংখ্যক কন্যাশিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।
তাই দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চট্টগ্রামের কর্মরত বেসরকারী নারী অধিকার সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যেখানে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম নামে একটি সংগঠন তৈরীর ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রামের কারিতাস মিলনায়তনে চট্টগ্রামে কর্মরত নারী অধিকার সংগঠনগুলোর এক সভায় উপরোক্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নারী নেত্রী, ইলমার প্রধান নির্বাহী ও ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারুর সভাপতিত্বে সভায় আলোচনায় অংশনেন চট্টগ্রাম সিটিকরপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ও অর্জন মহিলা উন্নযন সমিতির সভাপতি আবিদা আজাদ, বনফুেলর নির্বাহী পরিচালক রেজিয়া বেগম, সিএসডিএফ’র সমন্বয়কারী কামরুন নাহার শম্পা, নিকর মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি নূরুন নাহার, নীলাম্বর মহিলা উন্নয়ন সমতির সভানেত্রী রৌশন আরা, জাগ্রত নারীর সভানেত্রী আইনুন নাহার, সমতা মহিলা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী মোমেনা আক্তার নয়ন, সৌরিতা জাগ্রত মহিলা সমিতির সভানেত্রী সষ্ণিতা বড়য়া, স্যুট এর নির্বাহী পরিচালক জেবুন্নেছা বেগম চৌধূরী, সাহাপুর সংস্থার প্রধান নির্বাহী ফরিদা ইয়াসমিন, এসডিএফ এর সভাপতি ফেরদৌসি বেগম মৌসূমী প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তন এবং সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা খুবই জরুরি। তাই নারী অধিকার সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহনের জন্য ভবিষ্যতে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম গঠন করে নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ধানের সম্প্রসারণে নীতি নির্ধারণ ও প্রকল্প অংশীদারগণের মতামত সভা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ-এর বাস্তবায়নে “রিয়েক্টস-ইন” প্রজেক্টের আওতায় “জিংক ধানের সম্প্রসারণে নীতি নির্ধারণ ও প্রকল্প অংশীদারগণের মতামত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) আয়োজনে ও পরিচালনায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসের হলরুমে মতামত সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। 

ইএসডিও’র রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট ফোকাল কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল আলমের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হারভেস্টপ্লাস এর প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ শাহিনুল কবির মানবদেহে জিংক এর প্রয়োজনীয়তা এবং জিংকের অভাব পূরণে জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান১০২,  ব্রিধান১০০, ব্রিধান৮৪ এবং ব্রিধান৭৪ এর ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

এরপরে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অধিদপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা মুক্ত আলোচনায় বলেন যে, এই প্রকল্পটি প্রকৃতই একটি কার্যকর প্রকল্প। এর পক্ষে আরও ব্যাপক প্রচারণা চালানো দরকার এবং প্রতিটি জেলায় ও উপজেলায় “জিংক চাল পাওয়া যায়” এরকম কমপক্ষে একটি করে আউটলেট থাকলে আগ্রহী ও সচেতন ক্রেতারা ক্রয় করে জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত খেতে পারবেন।

উক্ত মতামত সভায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব নাজমুল হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মোঃ মাসুদ রানা, সায়েন্টিফিক অফিসার, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) পঞ্চগড় রিজিয়ন।

 অনুষ্ঠানে  অংশগ্রহণকারী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অধিদপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাগণ, জামে মসজিদের ইমামগণ, হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকগণ এবং কৃষক নারী নেত্রী সহ ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জুতা কারখানার শ্রমিকের মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মামুনুর রশিদ মামুন (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার পাঁচলাইশ এলাকায় নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত মামুন কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়ার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ২ নম্বর গেট এলাকায় ম্যাপ-শো নামে একটি জুতার কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

নিহত মামুনের এক সহপাঠী (রুমমেট) জানায়, শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে পাঁচলাইশ থানাধীন ২ নং গেট কসমো পলিটন আবাসিক এলাকায় একটি ব্যাচেলর বাসায় নিজের ব্যবহৃত ইলেকট্রিক মাল্টিপ্লাগের তার জোড়া লাগানোর সময় আকস্মিক বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।পরে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করেছেন বলে জানা গেছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ