আজঃ বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬

মার্চ ফর জাস্টিস চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে বিক্ষোভে যোগ দিলেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা প্রায় ১৫দিন পর প্রকাশ্যে এসেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম’র দুই সমন্বয়ক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন ‘বৈষম্যবিরোধী’ আন্দোলনকারীরা। এর আগে পুলিশ মূল প্রবেশপথে অবস্থান নেওয়ায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা মিছিল করে আন্দোলনকারীদের আদালত প্রাঙ্গনে নিয়ে যান। পরে মূল আদালত ভবনের পাশে আইনজীবী এনেক্স ভবনের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিকেল পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। তাদের বিক্ষোভকে ঘিরে আদালত অঙ্গনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
গতকাল বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত বিক্ষোভের পর আন্দোলনকারীরা আদালত থেকে মিছিল নিয়ে নিউমার্কেটে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ করেন। মিছিলে কিশোর-তরুণ থেকে মধ্যবয়সী হাজারখানেক লোক অংশ নেন। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়, তবে ঠিক কতজনকে আটক করা হয়েছে সেটি জানানো হয়নি।
‘শিক্ষার্থী হত্যার বিচার ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়াসহ ৯ দফা দাবিতে’ কেন্দ্রঘোষিত ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন, যদিও পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে তারা মূল আদালত ভবনের সামনে পৌঁছাতে পারেননি।
আদালত প্রাঙ্গনে ঘোষিত কর্মসূচি শুরুর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খন্ড খন্ড মিছিল এসে লালদিঘীর পাড়ে জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে জড়ো হয়। আগে থেকেই লালদিঘীর পাড়, আদালত প্রাঙ্গন থেকে কোতোয়ালী মোড় পর্যন্ত এলাকায় পুলিশ-বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিল। এ সময় আদালত প্রাঙ্গনে কোনো যানবাহন ঢুকতে দিচ্ছিল না পুলিশ।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা দুইদিকের প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষকে আদালতে প্রবেশে বাধা দিতে থাকেন। এ সময় পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পুলিশ দেখলেই আন্দোলনকারীরা ‘ভূয়া, ভূয়া’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। মূল ফটকে পুলিশের শক্ত অবস্থানের কারণে আন্দোলনকারীরা সেদিকে না এগিয়ে জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনেই অবস্থান করতে থাকেন।
সকাল ১১টার দিকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মিছিল করে জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে যান। তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশের বেষ্টনী সরিয়ে আদালত প্রাঙ্গনে যান। তারা আইনজীবী এনেক্স ভবনের সামনে তিন রান্তার মোড়ে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার, আমার ভাই মরল কেন, সরকার জবাব চাই’- এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের ঘিরে থাকেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভস্থলের একপাশে ‘বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ’র ব্যানারে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা মিছিল করার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারা মিছিল করেননি। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ায় আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী এসে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের সরিয়ে নেন।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। এ সময় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম’র সহ সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ তিনজন শিক্ষার্থী বক্তব্য দেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে নিউমার্কেট মোড়ে গিয়ে কর্মসূচি সমাপ্তির ঘোষণা দেন। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম ওবায়দুল হক বলেন, আন্দোলনকারীরা আদালত প্রাঙ্গনে অবস্থান নিয়ে শান্তিূর্ণভাবে বিক্ষোভ করেছে। পুলিশের অবস্থান থাকলেও কাউকে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হয়নি। বিক্ষোভ শেষে তারা চলে গেছেন। কাউকে আটক কিংবা গ্রেফতার করা হয়নি।
তবে কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, প্রাণহানিসহ বিভিন্ন ঘটনার প্রায় ১৫দিন পর প্রকাশ্যে এসেছেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম’র দুই সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ ও খান তালাত মাহমুদ রাফি।
দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গনে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন তারা। এ সময় আন্দোলনকারীরা স্লোগান দিয়ে তাদের অভ্যর্থনা জানান।
সমবেতদের উদ্দেশে খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, খুনিদের বিচার না নিয়ে ঘরে ফিরব না আমরা। আমার ভাইদের জেল থেকে বের না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। হয় আমার ভাইদের ছাড়তে হবে, নয়তো কারাগারের আয়তন বড় করতে হবে। সারা বাংলাদেশ জেগে গেছে। ঘরে বসে থাকার সুযোগ আর নেই।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদক উদ্ধার, আটক- ২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় একটি ট্রাক, ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ৫৮৫ পিস ইয়াবা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা, একটি ট্রাক ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ৫৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার এডি শেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে সোনামসজিদ বিওপির একটি টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বালিয়াদিঘী গ্রামের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইনের পাশের সড়কে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৯৯০ নম্বরের একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সাতটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘এসকাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. রিয়াদ হোসেন (২০)কে আটক করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পাশাপুর গ্রামের বাসিন্দা।এ সময় ট্রাকটির পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা সিরাপ, ট্রাক ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

অন্যদিকে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চৌকা বিওপির নায়েক সুরজিত নাগের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৫৮৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি মোবাইল ফোনসহ মো. নাঈম ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা।উদ্ধার করা ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০০ টাকা।

বিজিবি জানিয়েছে, পৃথক দুটি অভিযানে জব্দ করা ট্রাক, নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের মোট সিজার মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ