আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে টানা ভারী বষর্নে ভোগান্তি চরমে

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রাতভর ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সড়কে কোমরপানি জমায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী, শ্রমজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রয়োজনের তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়া সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সড়কে। এ ছাড়া নিচু এলাকার বাসাবাড়িতে প্রবেশ করেছে পানি। নগরের ব্যবসা-বাণিজ্যে ছন্দপতন হয়েছে। নগরের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে সৃষ্টি হয়েছে যানজট।

১ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে চরম ছন্দপতন নেমে আসে জনজীবনে। এর আগে বুধবার দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। তবে রাত ১১টার পর থেকে শুরু হয় টানা বর্ষণ। সেই ধারা বুধ বৃহ: ও শুক্রবার অব্যাহত থাকে। এ কারণে নগরের চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, শুলকবহর, মোহাম্মদপুর, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, আগ্রাবাদ, দুই নম্বর গেট, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, বড়পোল, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় সড়কে হয়েছে কোমরপানি। চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল করিম বলেন, ‘বৃষ্টির এ ধারা আর ও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। থেমে থেমে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্র অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের অধিকাংশ সড়কে কোমরপানি। ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামীরা। কিছু কিছু সিএনজি চললেও পানিতে কয়েকটি সিএনজির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে দেখা গেছে। সড়কের ওপর প্রাইভেট কার ও নষ্ট হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাড়তি ভাড়া গুনে রিকশায় ভর করে অনেকে রওনা দিয়েছেন অফিসের পথে। নিচু এলাকার অনেক বাসাবাড়িতে ঢুকেছে পানি। তা সেচের মাধ্যমে নিষ্কাশন করতে হয়েছে। অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে পানি প্রবেশের কারণে। চট্টগ্রাম নগরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের কারণে দ্রুত নগরের পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধ চট্টগ্রাম দেখতে পান নগরবাসী। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দুর্ভোগ। এদিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের বড়দিঘীরপাড় এলাকায় সড়কে পানি জমায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া এই সড়কে যাতায়াতকারী ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাউজানের যোগযোগ দীর্ঘ ২ ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দুপুরের দিকে। পরে ২টার দিকে আবার সড়ক যোগাযোগ সচল হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহা অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আলী আকবর খান জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে বেলা ৩টা থেকে পূর্বের ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি আরও দু-এক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অবৈধ স্থাপনা, খাল দখলের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিলেন চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি অবৈধ দখল ও নাগরিক অসচেতনতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। সোমবার সকালে মেয়র প্রথমে বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার সংলগ্ন সড়ক পরিদর্শন করেন।

এ সময় সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত উচ্ছেদের নির্দেশ দেন মেয়র। পরে বহদ্দারহাট এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চলমান খাল সংস্কার কাজ ঘুরে দেখেন এবং পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বাঁধগুলো অপসারণের নির্দেশনা দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণেরও নির্দেশ দেন মেয়র।এরপর তিনি ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের ফরিদার পাড়া এলাকায় পরিচালিত নালা ও খাল পরিষ্কার অভিযান পরিদর্শন করেন। পরে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খাজা রোড এলাকায় নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।

চসিক সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা ও খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা কমাতে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেললে খাল-নালা আবারও ভরাট হবে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

দেশের ১১ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আবহাওয়া অফিস দেশের ১১ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে । এজন্য নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। রবিবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে – ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ হতে পারে।এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আগামী ৩ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস সোমবার ৪ মে সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের বিস্তৃতি কিছুটা পরিবর্তন হয়ে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসময় দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মঙ্গলবার ৫ মে সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমে আসতে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। তাপমাত্রা পুনরায় সামান্য বাড়তে পারে।বুধবার ৬ মে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
ছবি -সংগৃহীত
www.banglajgaborpatrika.com

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ