চট্টগ্রামে দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণে সতর্ক করছে জাতীয় ভোক্তাধিকার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ব্যবসা বানিজ্যে ক্রয়-বিক্রয় থাকবে, ক্রেতা ও বিক্রেতা থাকবে, এটা স্বাভাবিক প্রথা হলেও দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যখানে কমিশন এজেন্টস নামে একটি মধ্যস্বত্তভোগী নিত্যপণ্যের বাজারে প্রবেশ করে লাভের একটি বড় অংশ নিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের কমিশন এজেন্টস প্রথা, ডিও/স্লিপ প্রথার কারনে দেশের ব্যবসা বানিজ্যে একটি চক্র বিপুল অংক হাতিয়ে নিচ্ছেন। একটা সময় আমদানিকৃত পেয়াঁজ নিয়ে এই চক্রটি সক্রিয় হলেও বর্তমানে আলু, মসলা, সবজিসহ নিত্যপণ্যের অনেকগুলি জায়গায় কোন প্রকার বিনিয়োগ ও বৈধ রশিদ ছাড়া ছাড়াই বিপুল অংক হাতিয়ে নিচ্ছেন। এই কমিশন এজন্টেস ও স্লিপ প্রথা চলমান থাকার কারণে ব্যবসা বানিজ্যে কারসাজি বন্ধ, মধ্যস্বত্তভোগীদের অপতৎপরতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বাজার তদারকিতে গেলেই একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজেরা সাধু সাজার চেষ্টা করছেন। আর ক্রয়-বিক্রয় রশিদ ছাড়াই শুধুমাত্র একটি চালানের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে যাচ্ছেন। আর নিত্যপণ্য নিয়ে কারসাজির পেছনেই এই অদৃশ্য ব্যবসাই অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম ও ক্যাব যুব গ্রুপের নেতৃবৃন্দ। শনিবার নগরীর ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বৃহৎ পাইকারী বাজার রেয়াজউদ্দীন বাজারে দেশের সংকট ও ক্রান্তিকালীন সময়ে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে ও সিন্ডিকেট কারসাজি বন্ধের দাবিতে বাজার ভিত্তিক প্রচারণা কর্মসূচিতে উপরোক্ত অভিমত ব্যক্ত করেন।
ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন এর নেতৃত্বে এই তদারকি অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজউল্যাহ, জেলার সহকারী পরিচালক নাসরীন আক্তান, সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান, সহকারী পরিচালক রানা দেব নাথ, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর, ক্যাব চান্দগাও থানা সভাপতি মোহাম্মদ জানে আলম, ক্যাব সদরঘাটের সভাপতি শাহীন চৌধুরী, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি চৌধুরী কে এন এম রিয়াদ, ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহনগরের সভাপতি আবু হানিফ নোমান, ক্যাব যুব গ্রুপের রাসেল উদ্দীন, নাফিসা নবী, রিদওয়ানুল হক, ওমর ফারুক, সিদরাতুল মুনতাহার, মোঃ রায়হান উদ্দীন, মিনহাজুল ইসলাম, ইয়াছিন আরাফাত, এরশাদুল ইসলাম প্রমুখ অংশনেন। এছাড়াও রেস্তোরা মালিক সমিতি সাবেক সভাপতি ইলিয়াছ ভুইয়া, রেয়াজ উদ্দীন বাজার কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক শিবলী সাদিক, বনিক কল্যান সমিতির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাজার তদারকি ও প্রচারণা কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের বাজারে কমিশন এজন্টেস ও স্লিপ ব্যবসার নামে পুরো দেশকে অস্থির করে তুলেছেন। বিপুল পরিমান অর্থও পাচারের অন্যতম কারন এই মধ্যস্বত্তভোগী ব্যবসা। যেখানে বিনিয়োগ ছাড়াই বিপুল অংক আয় করা যায়। যেখানে ব্যবসার কোন নিয়মনীতি ও বৈধ কাগজপত্র লাগে না। এই ব্যবসা অনেকটাই চাঁদাবাজির মতো। কারণ যারা ব্যবসা করেন তারা পর্দার অন্তরালে থেকে যায়। তাই অনতিবিলম্বে এধরনে ফটকা ব্যবসা বন্ধ না হলে ব্যবসা বানিজ্যে শৃংখলা ফেরানো কঠিন হবে।
ক্যাব নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ব্যবসায়ীরা পুরো ১৬ বছরই বিভিন্ন অজুহাতে নিত্যপণ্য ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম বাড়িয়ে সাধারন মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। আইন প্রয়োগে শিথিলতা ও রাজনৈতিক পরিচয় দেখার কারনে বেপরোয়া হয়ে জনগনের পকেট কেটেছেন। অকে জায়গায় পদে পদে ব্যবসায়ীরাও চাঁদাবাজি, আমদানিকারক ও করপোরেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামে কেনাসহ নানা দোহাই দিয়ে অতিমুনাফায় মগ্ন ছিলেন। একট সময় রাজনৈতিক দলের নেতা-মন্ত্রী এমপি হবার জন্য লগ্নি করেছেন। যার খেসারত হিসাবে বিগত সরকারের আমলে একটি সুবিধাভোগী চক্র গড়ে উঠেছে যারা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট করে পুরো দেশের মানুষের পকেট কেটে দেশে বিদেশে পাঁচার করেছেন।
ক্যাব নেতৃবৃন্দ আরও বলেন বলেন, বিনা কারনে কোরবানীর ঈদের পর থেকে চাল, আলু, কাঁচা মরিচ, পেয়াঁজসহ শাক-সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে অস্থিরতা তৈরী করছেন। সাম্প্রতিক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর পর বেশ কয়েক দিন নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা সহনীয় থাকলেও নানা অজুহাতে আবার দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। বিগত সরকার গুটি কয়েক করপোরেট গ্রুপের কাছে পুরো নিত্যপণ্যের বাজার ছেড়ে দিয়েছিলো। যার কারনে ছাত্র-জনতার কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় ব্যবসায়ীরা বিগত সরকারকে অকুন্ঠ সমর্থন পূনঃব্যক্ত করেছিলেন যাতে, তাদের এই অবৈধ মুনাফায় যেন কোন ধরনের বিচ্ছেদ না ঘটে। তাই ছাত্র-জনতার এই গণঅভ্যত্থানকে সফল করতে হলে এসমস্ত করপোরেট গ্রুপগুলো বিগত সরকারের আমলে কি পরিমান অর্থ লুপাট করেছেন তার অনুসন্ধান ও তাদের অবৈধ সম্পদের পরিসংখ্যান জাতির কাছে উপস্থাপন করে ঐ সম্পদ রাস্ট্র মেরামতে বিনিয়োগ করা দরকার। মানুষরূপী এসমস্ত মূল্য সন্ত্রাসীরা যেন সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে পৃষ্টাষোকতায় রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশীদারিত্ব সৃষ্টি করতে না পারেন সেজন্য সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

৮০ হাজার কর্মী বছরে বেতন পায় ২ হাজার ৮২০ কোটি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বা ‘কেইপিজেড’। প্রতিদিন এখানে বিশ্বমানের কারখানাগুলোতে তৈরি হয় আন্তর্জাতিক বাজারের সব ব্র্যান্ডের পণ্য। চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে আসল শক্তি একটাই-নগদ অর্থ। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন তিনটি কারখানা চালু হবে। এতে আরও ২০ হাজার কর্মী যুক্ত হয়ে মোট জনবল উন্নীত হবে এক লাখের মাইলফলকে। তখন মাসিক বেতনও পৌঁছাবে ৩০০ কোটি টাকায়।বর্তমানে ৮০ হাজার কর্মীর হাতে প্রতি মাসে পৌঁছায় ২৩৫ কোটি টাকা। তা-ও মাসের ১ থেকে ৮ তারিখের মধ্যে। গড়ে প্রতি কর্মীর বেতন প্রায় সাড়ে ২৯ হাজার টাকা।বছরে এই বেতনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। কর্মীদের বেতনের এই টাকায় মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪ বছরেই একটি কর্ণফুলী টানেলের পুরো নির্মাণ খরচ তোলা সম্ভব!

এদিকে পতেঙ্গা এলাকায় মাস শেষে নগদে বেতন নেওয়ার পুরনো দৃশ্য এখন আর নেই। সেখানে ঘটেছে এক নীরব ‘ডিজিটাল বিপ্লব’। মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংকগুলোর স্বয়ংক্রিয় পে-রোল সিস্টেমের মাধ্যমে সরাসরি ৮০ হাজার শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায় ২৩৫ কোটি টাকা। এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে বেতনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে। এটিএম বুথ ও ডিজিটাল ওয়ালেটে টাকা পৌঁছে যাওয়ায় কেনাকাটা ও দ্রুত গ্রামে টাকা পাঠানো এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত।

কেইপিজেডের ৮০ হাজার কর্মীর মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী। অর্থাৎ প্রায় ৪৮ হাজার নারী শ্রমিক প্রতি মাসে সরাসরি প্রায় ১৪১ কোটি টাকা বেতন পান। এই আয় দিয়ে নারীরা পরিবারের মূল চালকের ভূমিকা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের সঞ্চয় নিশ্চিত করে নিজেদের সামাজিক মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছেন।

কর্ণফুলী ইপিজেডে শ্রীলঙ্কাভিত্তিক বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ক্যানপার্ক বাংলাদেশের পরিচালক খলিলুর রহমান (মিল্টন) জানালেন, ‘এই নারীরাই আমাদের কারখানার প্রাণ। সব ধরনের সমান সুযোগ-সুবিধা তারা পান। আমাদের এমন অনেক নারী কর্মী আছেন, যারা শুরু থেকে টানা ২০ বছর ধরে সুনামের সাথে কাজ করছেন।

জানা গেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের বৃহত্তম সরকারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম স্টিল মিলের ২২২ একর জমিতে ২০০৬ সালে এই শিল্পনগরীর সূচনা হয়। ২৫৮টি শিল্পপ্লটের ওপর এখন চালু রয়েছে ৪০টি বিশাল কারখানা। এর ২৯টিই শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও থামেনি কেইপিজেডের অগ্রযাত্রা। ভোরের আলো ফোটার আগেই হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা শুরু হয় পতেঙ্গায়। পাশে কর্ণফুলী নদী। একটু দূরেই বঙ্গোপসাগর। নদী-সাগরের হাওয়ায় ভেসে আসে তখন হাজারো মানুষের পায়ের শব্দ। জোরে হাঁটছেন, কেউ ছুটছেন গন্তব্যে। কারণ এখানে যন্ত্রের টুকটাক গুঞ্জন, মেশিনের অবিরাম শোঁ শোঁ শব্দ আর সুচ-সুতোর বুননে প্রতিদিন এখানে তৈরি হয় আন্তর্জাতিক বাজারের বিশ্বখ্যাত সব ব্র্যান্ডের পণ্য।

কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানালেন, ৮০ হাজার কর্মীর প্রতি পরিবারে চারজন সদস্য ধরলে ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ সরাসরি এই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই আয় বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবনে অভাবনীয় সামাজিক ও আর্থিক স্বস্তি এনে দিয়েছে। বেতনের সিংহভাগ টাকা স্থানীয় আবাসন, কাঁচাবাজার ও দৈনন্দিন কেনাকাটায় খরচ হয়। এতে পুরো পতেঙ্গা ও ইপিজেড মোড় এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন ও সার্ভিস সেক্টরে সচল অর্থনীতির চাকা।

কেইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেইপিজেড থেকে প্রতি মাসে গড়ে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা) মূল্যের পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। জাপানের হাই-টেক অপটিক্যাল লেন্স, দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত ক্যাম্পিং প্রোডাক্টস এবং চীন ও শ্রীলঙ্কাসহ ১৪টি দেশের কারখানায় তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য এই আয়ের মূল উৎস। চট্টগ্রাম বন্দরের ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত কেইপিজেডের এই ধারাবাহিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।

কর্ণফুলী ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ খালিদ চৌধুরী বললেন, ইপিজেডে পদোন্নতি না হলেও প্রতিবছর নিশ্চিত ৯ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট মেলে। বাৎসরিক নিশ্চিত আয় বৃদ্ধি, উন্নত চিকিৎসাসহ কমপ্লায়েন্সভিত্তিক নিরাপদ কর্মপরিবেশ থাকার কারণে শ্রমিকদের চাকরি ছাড়ার প্রবণতাও অনেক কম।

ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা চুক্তি বন্ধসহ চার দাবিতে আলটিমেটাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চার দাবিতে দুই দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এসব দাবির মধ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার চুক্তির সব কার্যক্রম বন্ধের দাবি রয়েছে।

দাবি না মানলে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটায় নিমতলা বিশ্বরোড থেকে ওয়ানস্টপ পর্যন্ত মানববন্ধন এবং রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটায় ফকির হাট ৩ নম্বর গেট থেকে ওয়ানস্টপ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে বলে জানানো হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ঘোষিত অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- বিগত আন্দোলনে চট্টগ্রাম বন্দরের নেতৃবৃন্দসহ ১৫ কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা

প্রত্যাহার, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে এখনো পর্যন্ত বন্দরে কর্মরত যে সব কর্মকর্তা এনসিটিকে বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি প্রক্রিয়ার জড়িতদের অপসারণ এবং পরিকল্পিতভাকে দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগ বন্ধ রেখে বন্দরের চলমান অপারেশনাল কার্যক্রম স্থবির করে বে-সরকারিকরণ প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে সব শূন্যপদে জনবল নিযোগ করে অপারেশন কার্যক্রম গতিশীল করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চট্টগ্রাম কন্দরকে আধুনিক বন্দরে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্কপের নেতা ইফতেখার কামাল, হুমায়ুন কবির (নিমতলা), মোজাহের হোসেন শওকত, মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হারুনুর রশীদ, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, স্টাফ ইউনিয়নের মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ, উইন্সম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে যুগ্ম সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ২০১৭ সাল থেকে দেশের স্বার্থ বিবেচনা না করে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেয়ার পাঁয়তারা করে আসছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ছাত্র জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিজমের পতন হলে ড. ইউনূসের অন্তবর্তীকালীন সরকার এই কার্যক্রমকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে।দেশের মানুষ মনে করেছিল শত শত ছাত্র জনতার রক্তের সিঁড়ি বেয়ে গঠিত ড. ইউনূসের অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থের কথা চিন্তা করে এই চুক্তি না করে উক্ত কার্যক্রমের যবনিকা টানবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে

তৎকালীন অন্তবর্তীকালীন সরকারের ২/১ জন উপদেষ্টা নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় দেশ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি চিন্তা না করে বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চুক্তির প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করেই ফেলেছিল।
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের দেশের স্বার্থ বিরোধী এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে তৎকালীন সময়ে আমরা চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, সর্বদলীয় শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) সহ সারা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী, ছাত্র সংগঠন, পেশাজীবী ও শ্রমজীবি মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে তৎকালীন আন্তবর্তী কালীন সরকার উল্লেখিত চুক্তি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।

অতি সম্প্রতি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বলেছেন, যে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিকে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে পরিচালনার সুযোগ না দিলে অবুধাবিতে কর্মরত ২৩ লাখ শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে, তার এই বক্তব্য একদিকে যেমন বিদেশিদের এ কাজে উৎসাহিত করবে অন্যদিকে তার বক্তব্য রাষ্ট্রবিরোধী কাজ মনে করি। আমরা তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেছেন, এনসিটির যন্ত্রপাতি অকেজো। ইকুইপমেন্ট এভেইলেবেলিটি আন্তর্জাতিক মান দন্ডের নিচে অর্থাৎ ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের আভ্যন্তরীণ নথিপত্র, ক্রেন ক্রয়ের বিবরণী এবং সামুদ্রিক লজিস্টিক বিশেষজ্ঞদের নিখুঁত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই দাবি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, উদ্দেশ্য প্রণোদিত, এবং বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড এর হাতে এনসিটিকে তুলে দেওয়ার অতি উৎসাহী আচরণ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বহুজাতিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের আধিপত্য আমাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশে কখনো রাজনৈতিক আস্থিরতা সৃষ্টি হলে সে সময় দেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে অর্থনীতিসহ সাপ্লাই চেইন বাধাগ্রস্ত করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

আমরা বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা মনে করি বহুজাতিক কোম্পানী ডিপি ওয়ার্ল্ড এর সঙ্গে কনসেশন চুক্তি করা হলে দেশ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এনসিটি হতে অর্জিত টাকা বিদেশে চলে যাবে, দেশ অর্থনৈতিক মুদ্রার সংকটের মুখে পড়বে। চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারীরা কর্ম হারাবে এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে। দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে দেশের একমাত্র সমুদ্র বন্দর রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হবে। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এর মাধ্যমে অর্জিত আয় ৪৫০০ কোটি টাকা এবং নিট আয় ২৫০০ কোটি টাকা। এই আয় থেকে সরকার ২৫ শতাংশ কর্পোরেট ট্যাক্স বাবদ পেয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা এবং ভ্যাট পেয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা প্রায়। বহুজাতিক

কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দিলে সরকার উক্ত আয় থেকে বঞ্চিত হবে, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যাবে এবং কনসেশন চুক্তির কারণে এনসিটিতে বিপজ্জনক পণ্য খালাসেরও আশংকা রয়েছে।নাগরিক ঐক্যের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক স্বপন মজুমদার বলেন, এনসিটি বন্দরের লাভজনক স্থাপনা। এটি ইজারা দেওয়ার দরকার নেই। বিগত সরকারের আমলের একটি আন্তর্জাতিক চক্র কাজ করছে ইজারা দিতে। শুধু মুনাফা উন্নয়ন নয়।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ