কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত সোহেলের মৃত্যু 

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট মাহমুদুর রহমান খান সোহেল। চাকুরী করছেন বেসরকারী একটি এয়ারলাইন্সের কার্গো বিভাগে। পরিবারে মধ্যে যেমন ছিলেন অনেক আদরের, তেমন এলাকায়ও ছিলে সকলের খুব প্রিয় একজন মানুষ। সব সময় গরীব অসহায় মানুষের থাকতেন তিনি। সারা দেশে যখন কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয় তখন তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে যোগ দেন আন্দোলনে। গত ৪ আগষ্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকায় শিক্ষার্থীদের সাথে মিলে সংস্কার আন্দোলনের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় সোহেল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন সে। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় নেমে আসে শোকে ছায়া।

জানাযায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার ত্রিশকাহনীয়া এলাকার বকুল খানের ছেলে মাহমুদুর রহমান খান সোহেল। চাকুরী করতেন ইত্তিহাত এয়ারলাইন্সের কার্গো বিভাগে। সেই সুবাদে স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন রাজধানী উত্তরা এলাকায়। গত ৪ আগষ্ট বাড়ী থেকে কোন কিছু না বলে বের হয় সে। বেলা  ১২টারদিকে সে তার বন্ধু রনিকে ফোন করে বলেন ভাই আমি ছাত্রদের সাথে উত্তরা আছি আন্দোলন করতেছি, বাচঁলে দেখা হবে। এটাই ছিল তার  সে কথা। এর কিছুক্ষন পরেই মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় সোহেল। গুরুতর অবস্থায় তাকে শিক্ষার্থীরা নিয়ে যায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে। এদিকে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টারদিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাযান তিনি। এদিকে তার পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। শনিবার সকালে নিজ বাড়ী ত্রিশকানীয় এলাকায় নামাযের জানাযা শেষে দাফন করা হয় তার।

   তার মৃত্যুতে বাড়ীতে পরিবারের মধ্যে নেমে এসেছে হতাশা। কিভাবে তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বেচেঁ থাকবে। কিভাবে সন্তানদের করবেন মানুষের মত মানুষ।

   বাবার কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পডুয়া একমাত্র ছেলে মাসনুন রহমান খান। তার বাবাকে যারা হত্যা করেছেন তার বিচার দাবী করেছেন সরকারের কাছে।

আপন ছোট ভাইকে হারিয়ে এনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন বড় ভাই শামীম। তার ভাইকে যারা গুলি করে হত্যা করেছেন তাদের বিচার দাবী করেছেন তিনি।

সোহেলকে যারা হত্যা করেছেন তাদের সঠিক বিচার দাবী করেছেন ও সরকার যেন তার পরিবারের জন্য কিছু করেন এ দাবী করেছেন তার বন্ধু স্থানীয় ব্যক্তিরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফতেয়াবাদ মহাকালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হাটহাজারী’র ফতেয়াবাদ মহাকালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ সেপ্টেম্বর সোমবার ২০২৭ সালে এস এস সি পরীক্ষার্থীদের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিনিয়র শিক্ষক সমর রায় নাথ এর সঞ্চালনায় ফতেয়াবাদ মহাকালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার দে এর সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ত্রিদীপ রায়, আলোচক ছিলেন অভিভাবক সদস্য জামাল উদ্দিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক বিজন বিহারী নাথ, সাংবাদিক অরুণ নাথ, সিনিয়র শিক্ষক জগন্নাথ দাশ, জলি পারিয়াল, সাংবাদিক রীমন মুহুরী। পবিত্র কোরান তেলওয়াত ও গীতাপাঠের মধ্যদিয়ে আলোচনা সভার শুভ সূচনা হয়।

স্বাগত বক্তব্য সহকারী প্রধান শিক্ষক বিজন বিহারী নাথ শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ায় অধিক মনোনিবেশ করার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ করেন। আগামীতে ভালো ফলাফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রধান আলোচক অধ্যাপক ত্রিদীব রায় বলেন যে সময় টুকু বর্তমান আছে পরীক্ষা পর্যন্ত সময়কে সদ্ব্যবহার করে ভালো ফলাফল করে স্কুলের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখাতে হবে। সভাপতির সমাপনি বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার দে বলেন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস আসতে হবে দুর্বল বিষয়ের উপর শিক্ষকদের সহযোগিতা নিতে হবে।

সাংবাদিক অরুণ নাথ বলেন নিয়মিত অধ্যাবসায় করলে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। একাগ্রতা, নিষ্ঠা, নিয়মিত অনুশীলন করলে সেরাদের সেরা হওয়া সম্ভব।সাংবাদিক রিমন মুহুরী বলেন লেখা পড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের যত্ননিতে হবে। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য জামান উদ্দিন বলেন আপনার সন্তানরা পড়া লেখায় মনোনিবেশ করছে কিনা খবর নিবেন, যেকোন সমস্যায় শিক্ষকদের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেন। সভাশেষে উপজেলায় পর্যায়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কাবাডি, সাতাঁরে প্রথম স্হান অধিকারীদের কাপ তোলে দেন অতিথিবর্গরা।

কুষ্টিয়া সীমান্তে সাড়ে ১৩ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক ও চোরাচালান উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার বিজিবির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনস্থ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে মোট ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনস্থ জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাশেম বাজার নামক স্থানে একটি বিজিবি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ১ হাজার ৩২০ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৭২ হাজার ৬০০ টাকা।

পরবর্তীতে, রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে একই ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ চিলমারী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মরার পাড়া কবরস্থান নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ১ হাজার ৯৮০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ২ হাজার ৮০ পিস সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ৬০০ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ১২ লাখ ৫১ হাজার টাকা।

এ ছাড়া, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বিলগাথুয়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার দক্ষিণ বিলগাথুয়া মাঠ নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩১ হাজার ৫০০ টাকা।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, অবৈধ পারাপারসহ সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ