আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

ছাত্রদেরকে রাষ্ট্রের পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে- একরাম হোসেন

ওবায়দুর রহমান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছাত্রদেরকে রাষ্ট্রের পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে’ এই মন্তব্যটি করেছেন সুজন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একরাম হোসেন।
‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার চাই’ এই শ্লোগানে শুক্রবার (৯ আগষ্ট) বিকেলে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সুজন উপজেলা কমিটি আয়োজিত সম্প্রীতি মিছিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
একরাম হোসেন বলেন, বাংলাদেশে ন্যায্যতার জন্য, ভোটাধিকারের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন চলছিলো। কোটা সংস্কার আন্দোলন এমনি ন্যায্যতা ও ন্যায়ের অধিকার আদায়ের একটি আন্দোলন। সেই আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকার প্রথমে তাদেরকে গালমন্দ করেছে রাজাকারের বাচ্চা বলে। দ্বিতীয়বার সেই স্বৈরাচারি দলের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগ-যুবলীগের গুন্ডাপান্ডাদের লেলিয়ে দিয়ে বিড়াল যেমন গর্ত থেকে ইঁদুরকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে বেড়ায় ঠিক তেমনি তারা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়গুলোর হল থেকে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদেরকে খুঁজে বের করে শতশত শিক্ষার্থীদেরকে আহত করেছে, নিগৃহীত করেছে, অপমানিত করেছে। সেই অবমাননার স্বীকার হয়ে যখন তারা ফুঁসছিলো তখনই সরকার প্রধান তাদেরকে অপমানজনক কথা বলেছে। তার বিরুদ্ধে সারা বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ও জনসাধারণ ফুঁসে উঠেছে এবং তার এই পরিণতি আমরা দেখেছি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় আমাদের সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছিলো কিন্তু এই আন্দোলনের সময় তাঁদেরকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়ার পরে তাঁরা একটি সভায় বলে দেয় মানবাধিকার ও সংবিধান অনুযায়ী তারা দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনগণের পাশে থাকবেন। সেনাবাহিনী যখন বললো তারা কাউকে গুলি করবেনা, পুলিশের গুলি শেষ হয়ে যায়। সেই সময় দেখলাম ঢাকা শহরের হাজার হাজার রিক্সাচালক, জনতা আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। তখনই সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে গণভবনের পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করতে পেরেছি। তারপর একটি পক্ষ বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর করেছে। স্বাধীনতার স্মারকগুলোকে নষ্ট করে দিয়েছে। বর্তমানে অন্তবর্তীকালীন সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। তাদের প্রতি আহবাণ রইলো একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক, ন্যায়সঙ্গত রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করার।
গৌরীপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সম্প্রীতির মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলশেষে পৌর শহরের উত্তর বাজার, মধ্যবাজার ও কালীখলা এলাকায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সুজন গৌরীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল হাসনাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন তসলিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হারুন-আল-বারী, বাসদ গৌরীপুর উপজেলার সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম, উদীচী গৌরীপুর সংসদের সভাপতি ওবায়দুর রহমান, ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হাসান অনয়, প্রভাষক সাদ্দাম হোসেন, শিক্ষক উজ্জ্বল রবিদাস, ছাত্র ইউনিয়ন উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন ও হারুন পাঠাগারের সত্ত¡াধিকারী মোঃ হারুন মিয়া প্রমুখ।
পথসভা শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নির্যাতিত এনামুল হাসান অনয়, অর্পিতা কবীর এ্যানি ও আফরোজা আক্তারকে সংবর্ধনা করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ফুটপাতে উদ্ধার নবজাতকের চিকিৎসা শেষে জিম্মায় দিল পুলিশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় পরিত্যক্ত এক নবজাতককে উদ্ধার করে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে আইনি প্রক্রিয়ায় নিরাপদ জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ।

কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালী থানাধীন ব্রিজঘাট সংলগ্ন এস আলম বাস কাউন্টারের বিপরীত পাশের ফুটপাতে পরিত্যক্ত অবস্থায় একদিন বয়সী একটি ছেলে নবজাতক উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটিকে গামছা ও তোয়ালে জড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দুর্বল থাকায় কোতোয়ালী থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নূরে আল মাহমুদ জানান, প্রায় ২০ দিনের চিকিৎসা শেষে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে হাটহাজারী উপজেলার চিকনণ্ডী ইউনিয়নের বাদামতল এলাকার বাসিন্দা জেসমিন আক্তারের জিম্মায় দেওয়া হয়। শিশুটির সার্বিক খোঁজখবর নিয়মিত রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

পথশিশুদের আইন দিয়ে নয় আদর দিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনুন – আমীরুল ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পথশিশুদের প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের ডিসি আমীরুল ইসলাম। তিনি বলেন, পথশিশুরা আমাদেরই সন্তান। অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে উঠলেও এদের মধ্যেও রয়েছে অসীম মেধা ও সম্ভাবনা। সঠিক পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনা পেলে তারাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে “আমরা চাটগাঁবাসী” সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত পথশিশু ও কিশোরদের জন্য ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং ভালোবাসা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে পথশিশুদের কাছে টানতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে সমাজে অপরাধ প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবিএম ইমরানের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি গোলাম মওলা মুরাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমী, পাঁচলাইশ থানার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম এবং প্রোগ্রামের স্পন্সর ওয়াহিদ ইলেক্ট্রিশিয়ান্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বাতেন।

আমরা চাটগাঁবাসীর যুগ্ম সম্পাদক জানে আলম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাঁচলাইশ থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল আবসার, স্বর্ণলতা স্কুলের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রবিউল হোসেন, আরটিআর তারেক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠক তাহসান হাবিব, অধরা মেঘ কলি ও মোঃ আলীসহ অনেকে।অনুষ্ঠানে পথশিশুদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয় এবং তাদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।অনুষ্ঠান শেষে ডিসি মহোদয় বাছাইকৃত শিশু-কিশোরদের নিজ কার্যালয়ে তুলে এনে ঈদের জামা উপহার দেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ