আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

বোয়ালখালী বাচা চেয়ারম্যান নিখোঁজ ১৪ বছর

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ১০ নং করলডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বাচার সন্ধান চান পরিবারের সদস্যরা। বাচার ছোট ভাই মো. হামিদুল হক মান্নান বলেছেন, ‘গুমের শিকার ভাইকে মেরে ফেলেছেন নাকি বেঁচে আছে। অন্তত সেই বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করুন।’ আজ সোমবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গুমের শিকার নজরুল ইসলাম বাচার সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।
হামিদুল হক মান্নান বলেন ২০১০ সালের ৮ নভেম্বর আমার ভাই গুম হয়েছেন। অনেক খোঁজা খুঁজির পরও কোনো সন্ধান পাইনি। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর আমাদের অনেক নেতাকর্মী আয়নাঘর থেকে বের হয়েছেন। আরো অনেক নেতাকর্মী এখনো গুম রয়েছেন। তাই তাদের মধ্যে যদি আমার ভাই বেঁচে থাকেন তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টার কাছে সন্ধান চাই। আমার ভাই গুমের শিকার। তাঁকে সাদা পোশাকে নিয়ে গেছেন। আমার ভাইয়ের কোনো সন্ধান পেয়ে থাকেন তাহলে জানাবেন। আর আমার ভাইকে যদি মেরে ফেলেন সেটাও একটু জানাবেন। আমরা অপেক্ষায় আছি। গত ১৪ বছর ধরে অপেক্ষা করেছি। এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আকুল আবেদন করছি। শুধু এটাই জানতে চাচ্ছি, আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে নাকি বেঁচে আছে। দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন আজ ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তভাবে প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়েছে। গত ১৪ ধরে শেখ হাসিনা সরকার মানুষকে গুম করে, খুন করে ক্ষমতায় ঠিকে থাকতে পারে নাই। তিনি আরো বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে একটাই আবেদন। আমাদের নেতাকর্মী যারা গুমের শিকার হয়েছেন তাদের সন্ধান দিন, তাদের ফিরিয়ে দিন। আজ ছাত্র-জনতার আকাঙ্খা এ বাংলাদেশের সকল মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকবে৷ কোনো কেউ গুম-খুন হবে না। অপরাধীরা দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি হবে। ‘তিনি বেঁচে না থাকলে কঙ্কাল হলেও দেন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম বলেন ১৪ বছর আগে বোয়ালখালী বিএনপির তখনকার সভাপতি এবং করলডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাচাকে গুম করা হয়। এখনো পর্যন্ত তাঁর সন্ধান পাইনি। আমরা বলতে চাই, আমাদের প্রিয় নেতাকে আমাদের হাতে ফিরিয়ে দিন। পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেন। যদি তিনি বেঁচে না থাকেন তাহলে অন্তত কঙ্কাল হলেও দেন৷ তিনি আরো বলেন খুনি হাসিনা দেশের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। আমরা আহ্বান করবো প্রিয় নেতা বাচা চেয়ারম্যানসহ যারা গুম হয়েছেন তাদের সকলকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। যারা আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে, গুম করেছে তাদের বিচার করতে হবে৷ আমাদের অনেক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে শেখ হাসিনা। এরপর এখন দেশ থেকে পালিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৮ নভেম্বর গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে সাদা পোষাকধারী প্রশাসন পরিচয়ে তুলে নেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং করলডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাচা। এরপর থেকে ১৪ বছরেও তাঁর সন্ধান পাননি পরিবারের সদস্যরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় জরিমানা গুনল ৪ বাস কাউন্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়। সোমবার মহানগরীর গরিবুল্লাশাহ মাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন তীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ।

মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছি। এসময় ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় সেন্টমার্টিন পরিবহনেকে ৫ হাজার টাকা, রিলাক্স পরিবহনকে ৩ হাজার, দেশ ট্রাভেলস ৩ হাজার ও রয়েল মত্রি সার্ভিসকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঈদে যাতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে লক্ষ্যে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বাল্কহেড থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকার ইয়াবাসহ গ্রেফদার-৫।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৭। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার মো. ইমরান (২১), আনোয়ারার পূর্ব গহিরা এলাকার মো. আনিস (২৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ভাঙ্গারা এলাকার মো. মনির হোসেন (৪৫), আনোয়ারার করুশকুল এলাকার মো. আলী (৪৭) এবং লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলার চর কলাকুপা এলাকার মো. রুবেল (২৭)।
র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে কয়েকজন মাদক কারবারি মিয়ানমার থেকে সমুদ্রপথে একটি বাল্কহেডে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিয়ে আসছে। খবর পেয়ে র‌্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল বাল্কহেডটির পিছু নেয়।

এক পর্যায়ে বাল্কহেডটি ১৫ নম্বর ঘাটে নোঙর করে কয়েকজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে র‌্যাব সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে আটক করেন। পরে বাল্কহেডে তল্লাশি চালিয়ে ইঞ্জিন রুমে রাখা দুটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ