আজঃ রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

বোয়ালখালী বাচা চেয়ারম্যান নিখোঁজ ১৪ বছর

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ১০ নং করলডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বাচার সন্ধান চান পরিবারের সদস্যরা। বাচার ছোট ভাই মো. হামিদুল হক মান্নান বলেছেন, ‘গুমের শিকার ভাইকে মেরে ফেলেছেন নাকি বেঁচে আছে। অন্তত সেই বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করুন।’ আজ সোমবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গুমের শিকার নজরুল ইসলাম বাচার সন্ধান চেয়ে মানববন্ধন করেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।
হামিদুল হক মান্নান বলেন ২০১০ সালের ৮ নভেম্বর আমার ভাই গুম হয়েছেন। অনেক খোঁজা খুঁজির পরও কোনো সন্ধান পাইনি। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর আমাদের অনেক নেতাকর্মী আয়নাঘর থেকে বের হয়েছেন। আরো অনেক নেতাকর্মী এখনো গুম রয়েছেন। তাই তাদের মধ্যে যদি আমার ভাই বেঁচে থাকেন তাহলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টার কাছে সন্ধান চাই। আমার ভাই গুমের শিকার। তাঁকে সাদা পোশাকে নিয়ে গেছেন। আমার ভাইয়ের কোনো সন্ধান পেয়ে থাকেন তাহলে জানাবেন। আর আমার ভাইকে যদি মেরে ফেলেন সেটাও একটু জানাবেন। আমরা অপেক্ষায় আছি। গত ১৪ বছর ধরে অপেক্ষা করেছি। এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আকুল আবেদন করছি। শুধু এটাই জানতে চাচ্ছি, আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে নাকি বেঁচে আছে। দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান বলেন আজ ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তভাবে প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়েছে। গত ১৪ ধরে শেখ হাসিনা সরকার মানুষকে গুম করে, খুন করে ক্ষমতায় ঠিকে থাকতে পারে নাই। তিনি আরো বলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে একটাই আবেদন। আমাদের নেতাকর্মী যারা গুমের শিকার হয়েছেন তাদের সন্ধান দিন, তাদের ফিরিয়ে দিন। আজ ছাত্র-জনতার আকাঙ্খা এ বাংলাদেশের সকল মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকবে৷ কোনো কেউ গুম-খুন হবে না। অপরাধীরা দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি হবে। ‘তিনি বেঁচে না থাকলে কঙ্কাল হলেও দেন। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম বলেন ১৪ বছর আগে বোয়ালখালী বিএনপির তখনকার সভাপতি এবং করলডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাচাকে গুম করা হয়। এখনো পর্যন্ত তাঁর সন্ধান পাইনি। আমরা বলতে চাই, আমাদের প্রিয় নেতাকে আমাদের হাতে ফিরিয়ে দিন। পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেন। যদি তিনি বেঁচে না থাকেন তাহলে অন্তত কঙ্কাল হলেও দেন৷ তিনি আরো বলেন খুনি হাসিনা দেশের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। আমরা আহ্বান করবো প্রিয় নেতা বাচা চেয়ারম্যানসহ যারা গুম হয়েছেন তাদের সকলকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। যারা আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে, গুম করেছে তাদের বিচার করতে হবে৷ আমাদের অনেক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে শেখ হাসিনা। এরপর এখন দেশ থেকে পালিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৮ নভেম্বর গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে সাদা পোষাকধারী প্রশাসন পরিচয়ে তুলে নেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং করলডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাচা। এরপর থেকে ১৪ বছরেও তাঁর সন্ধান পাননি পরিবারের সদস্যরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএসএফের টাকার টোপে সীমান্তের দরিদ্ররা সহযোগিতা করছেন পুশ-ইনে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমান্তজুড়ে পুশ-ইন ইস্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে কড়া নজরদারির কারণে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও এ কাজে সীমান্ত এলাকার কিছু দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে গিয়ে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা নদীপথগুলো এখন নতুন কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। আগে যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কিংবা স্থলপথে কড়াকড়ি ছিল, এখন সেখানে নদীপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের সময় পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন একাধিক ঘটনার তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র কিছু বাংলাদেশিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে ব্যবহার করছে বিএসএফ।

সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন কার্যক্রমে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিএসএফের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব পুশইনে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একজনকে পুশ-ইন করতে পারলে দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে।

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ