আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

ব্রিটেন ও আমেরিকা অস্বীকার করেছে ভিসা অনুমতি দিবেন না শেখ হাসিনাকে- বক্তব্যে বললেন- ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

রেজাউল ইসলাম মাসুদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ

হাসিনা
সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে, এখন গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন কোথায়? ঐ ভারতের দিল্লিতে। ব্রিটেন অস্বীকার করেছে, ভিসা অনুমতি দেবে না , ঠিক তেমনি আমেরিকা বলেছে ভিসা দেব না। কোনো দেশ রাজি হয়নি। ভারত যদিও এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি রাজি হয়নি, কিন্তু এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনা সেখানেই (ভারতেই) আছেন। এখন ভারত থেকে নতুন এক চক্রান্ত শুরু করেছেন।’
১৩ আগষ্ট মঙ্গলবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে গড়েয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত ঐক্য ও সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যখন মানুষের সামনে দাঁড়াতে পারে না, এখন আমাদের হিন্দু ভাইদেরকে ঢাল হিসেবে আগে বাড়ায় দিতে চায়। এটাই তাদের একটা কৌশল-খেলা, অপচেষ্টা। যখনই তারা হারতে থাকবে, যখন জনগণ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরায় নিবে, নির্বাচনে হেরে যাবে, আন্দোলনে হেরে যাবে তখন তারা হিন্দু ভাইদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে হিন্দু মা-বোনেরা, ভাইয়েরা আছেন। তারা ভালো করে জানেন এই বাংলাদেশে কখনই হিন্দু-মুসলমানে যুদ্ধ হয় না। দিনের পর দিন হাজার বছর ধরে এই বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান একসঙ্গে থাকছে। এক গাছে অনেক ফুলের মতো ফুটে আছে । এই সম্পর্কে তারা ফাটল ধরাতে চায়, তারা প্রমাণ করতে চায় এই বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার করছে,।নির্যাতন করছে; তারা এমনভাবে এটাকে ছড়াতে চায় যে, ছড়িয়ে তারা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের কথা খুব পরিষ্কার, রাজনৈতিক যখন পটপরিবর্তন হয়, তখন একটা গোলযোগ হয়, সেই গন্ডগোলটা কোনো দিনই ধর্মীয় নয়, সেটা রাজনৈতিক। হিন্দু-মুসলমান আলাদা নয়, রাজনীতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় কোনো বিভেদ এখানে নাই।
‘আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই- এই ধরনের অপচেষ্টা আপনারা করছেন, আপনাদের উদ্দেশ্য ভাল না। আপনারা বাংলাদেশে আবার অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চান, আপনারা ভুলে যাবেন না- আপনাদের নেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কখন দেশ ছেড়ে পালায় মানুষ? যখন সে এত অপকর্ম করে তার আর দাঁড়াবার জায়গা থাকে না, এই দেশে যখন তাকে কেউ আর জায়গা দিতে চায় না, কখন পালায়? যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়, মানুষ তাকে আর চায় না। শেখ হাসিনাকে কি এখন কোন মানুষ চায়? কেন চায় না জানেন? কারণ সে এত অত্যাচার করছে, এত বেশি নির্যাতন করছে, এত চুরি করছে; আজকে খবরের কাগজে দেখলাম ৯২ হাজার কোটি টাকা পাচার করে দিছে। ব্যাংকগুলোকে খায়া ফেলছে, গিলে ফেলছে, একটা ব্যাংকও ঠিক নাই, সব ভেঙে পরে যাচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার দেশপ্রেমিক ছাত্র ভাইদেরকে যারা তাদের ঐতিহ্য রক্ষা করে এই দেশকে রক্ষা করেছে। বারবার ছাত্ররা এই দেশে ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর স্বাধীনতা আন্দোলন, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তারা বাংলাদেশকে রক্ষা করেছে। আর আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে তারা ঠিক প্রয়োজনের মুহুর্তে জনগণের পাশে এসে দাঁড়ায়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পালিয়েও লাভ হবে না, আমরা বলেছিলাম- কোন দিকে পালাবে তুমি? কোনদিকে পথ নাই। উত্তরে পর্বতমালা, দক্ষিণে বঙ্গপসাগর, কোন পালাবার পথ নাই। আজকে আওয়ামী লীগের ঐ অবস্থা হয়েছে। এটাই হয়- যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে, জনগণের উপর অন্যায়-অত্যাচার করতে থাকে, করেছে- আমাদের আলেম-ওলামাকে ফাঁসি পর্যন্ত দিয়েছে। তাদের কারাগারে নির্যাতিত করে রেখেছে, আমাদের বিএনপি সহ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদেরকে দিনের পর দিন কারাগারে রেখেছে; আমিও কারাগারে ছিলাম অনেকদিন আপনারা জানেন সেটা। তারপরও শেষ রক্ষা হয় নাই, পালিয়ে যেতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে।’তিনি বলেন, ‘আমার খুব খারাপ লেগেছে যখন আমি দেখেছি, বিজয় স্বরণীর সামনে শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তিটা ছিল, দেখি অসংখ্য মানুষ সেই মূর্তিকে দঁড়ি বেঁধে টেনে হিঁচড়ে ফেলে দিচ্ছে। খারাপ লেগেছ কেন তিনি তো আমাদের নেতা ছিলেন তাইনা? স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শেখ মুজিবের বিরাট ভূমিকা ছিল তাই না? এই লোকটাকে এই শেখ হাসিনা কত ছোট করে ফেলল, আজ তার মূর্তি নামিয়ে ফেলছে। তার জন্য সম্পূর্ণভাবে শেখ হাসিনা দায়ি। মোড়ে মোড়ে, কথায় কথায় একটা করে ম্যুরাল লাগায় বসে আছে, এটা এদেশের মানুষ মানে নারে ভাই। এই দেশের মানুষের হৃদয় থেকে, ভাব থেকে বুঝতে হবে অহংকার সহ্য করে না মানুষ, আল্লাহ সহ্য করে না।’
জনগণের পাশে বিএনপি উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি, আপনারা আমাকে কথা দেন, আপনারা আমাদের হিন্দু ভাইদের পাশে থাকবেন, কথা দেন। যেকোন হামলা আসুক আপনারা মোকাবেলা করবেন এবং আজকে যদি অন্য কেউ ষড়যন্ত্র করে সেই ষড়যন্ত্রকে আপনারা রুখে দিবেন।’এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজা ফয়সল আমীন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিন সহ জেলা, উপজেলা বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কার হবে না: নাহিদ ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে (প্রস্তাবিত) দেশের অর্থনৈতিক কোনো সংস্কার হবে না। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা মূলত বাস্তবতাবিবর্জিত। কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান যে কর বা রাজস্ব আদায়ের কাঠামো রয়েছে, তার মধ্য দিয়ে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের এই বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসবে; কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে রূপরেখা, তাতে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব হবে না।

বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কিছু সৃজনশীল জায়গা দেখিয়েছে। কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও শেষ পর্যন্ত তা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে— তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এত কম সময়ের ব্যবধানে আগে কখনো এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তার লাগাম টেনে ধরতেই আমরা প্রতিটি বিভাগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করছি।

বাজেটে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে— তার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। বড় বাজেট মানেই তা নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি করারও সুযোগ তৈরি হওয়া। এই যে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কিংবা খাল খনন কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে; সেখানে ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা বরাদ্দ পাচ্ছেন, কিন্তু বিরোধীদলীয় এমপিরা পাচ্ছেন না— তারা সেটি কীভাবে করছেন? অর্থাৎ কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। বাজেটে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপিদের রুখতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আনন্দ মিছিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয়বাদী যুবদল কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটি পূর্ণাঙ্গ ঘোষিত হওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন এর নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শহরের বহরদ্দার হাট বাস টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুরাদপুর চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক দীপংকর ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, এতে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ শাহেদুল ইসলাম, সহ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম আজাদ, সদস্য শাখাওয়াত হোসেন টিপু, চান্দগাও থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আলী আজম মাসুম, আরিফ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ এরশাদ, মোহাম্মদ ফরহাদ, আলী আসমান, মোহাম্মদ ছাবের, ইমতিয়াজ নিশান, সহাব উদ্দিন শিহাব, মোহাম্মদ মোরশেদ, অহিদুল ইসলাম ওয়াহিদ, মো: খোরশেদ আলম, মো: মিনহাজ, জয়নাল আবেদীন মানিক, মোহাম্মদ আরিফ, আবদুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মামুন, ওমর ফারুক, মোহাম্মদ দুলাল, মোহাম্মদ নুর নবী, আবদুল আজিজ, সহ চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল,থানা ও ওয়ার্ড যুবদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মোশাররফ হোসাইন নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যুবদল দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সফলতা কামনা করে এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা বা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর মতো চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলও প্রায়ই আনন্দ মিছিল ও স্বাগত কর্মসূচি পালন করেছে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে স্বাগত জানাতে এবং দলীয় প্রধানকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রামের রাজপথে সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে এই আনন্দ আয়োজনে অংশ নেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ