আজঃ শনিবার ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন দরকার

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সমাবেশে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেছেন, আওয়ামীলীগের আয়নাঘরে এখনো কতজন বন্দি আছে সেটা কেউ জানে না। কেয়ারটেকার সরকারকে আমি অনুরোধ জানাই, আপনারা আয়নাঘরে কারা এখনও বন্দি আছে, কারা এখনও টর্চার সেলে আছে, আমরা তাদের দেখতে চাই। আয়নাঘরে গুম হয়ে থাকা আমাদের দলের নেতাকর্মীসহ সবাইকে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দিতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আপনারা এসেছেন, আমরা সবাই আপনাদের সমর্থন দিচ্ছি। জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন করা দরকার। আপনারা আপনাদের ক্ষমতায় থাকাকালীন অবস্থায় একটা অধ্যাদেশ আনবেন যে, আগামী নির্বাচনও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে হবে। কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বললে আওয়ামী লীগের গা চুলকানি শুরু হয়। এই গা চুলকানি বন্ধ করার জন্য আমরা অন্তত দুইটি নির্বাচন কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে করতে চাই।

তিনি বৃহস্পতিবার (১৫ আগষ্ট) বিকালে কাজীর দেউরী নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে নুর আহম্মেদ সড়কে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালিয়ে গণহত্যা এবং খুনি হাসিনাসহ তার খুনি দোসরদের বিচারের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। বিশেষ বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন।

মীর নাছির বলেন, এর মধ্যে যেসব আইন সংস্কার দরকার, সেগুলো আপনারা সংস্কার করে নেন। যারা রাজনীতি প্রশাসন ভালো বোঝেন, তাদের সরকারে রাখুন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়, সেই বিধান রাখবেন। ছাত্রদের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তারা আন্দোলন করে, রক্ত দিয়ে জাতির ওপর থেকে যে বিশাল বোঝা, সেটা সরিয়ে দিয়েছে। শেখ হাসিনাকে আজ পালিয়ে যেতে হয়েছে। শেখ হাসিনা যখন পালিয়ে যান, কত সুন্দর চেহারা তখন কত কালিমালিপ্ত ! কারণ, তিনি মানুষকে মানুষ বলেননি, তার ওপরে কেউ নাই, সব নাকি তার কথায় চলবে। আল্লাহ বলে সবুর লও, তোমাকে সুযোগ দেব না, সেজন্য তাকে সেভাবে বিদায় নিতে হয়েছে।

মীর নাছির বলেন, দলের নেতা নির্বাচনে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। ছাত্রদল থেকে আমরা নেতৃত্ব নেব। ডিএনএ টেষ্ট করে নেতা নেয়া হয়, আমি মীর নাসির জেলে গেলে আমাকে কনডেম সেলে রাখা হয় আর অন্যরা গেলে তারা কোরমা পোলাও খায়। তারা কারা আর আমি কারা ? শেখ হাসিনা ম্যাডাম সম্পর্কে যে বক্তব্যগুলো রেখেছে, সেগুলোর জবাব সে নিজেই পেয়ে গেছে। তাকে কারও তাড়াতে হয়নি, সে নিজেই পালিয়ে গেছে। আমরা রাজনীতিতে নতুন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করবো। লাল গেঞ্জি গায়ে দিয়ে, মাথায় হ্যাট পরে নেতা হওয়া যাবে না। নেতা হতে হলে অনেক কষ্ট করতে হবে। আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মাদের কোনোভাবেই আমাদের ভেতরে আসতে দেয়া যাবে না।

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ছয় বছর পর একটি মঞ্চে উঠে মাইক ধরার সুযোগ পেয়েছি। যখন চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে ইমিগ্রেশন পার হলাম তখনও আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমি আদৌ কি বাংলাদেশে এসেছি নাকি অন্য কোথাও পৌঁছে গেছি। স্বল্প সময়ের মধ্যে এ স্বৈরাচারের পতন কীভাবে হলো আমার এটা বিশ্বাস হচ্ছে না। আমার ছোট ছোট সন্তানরা রাস্তায় নেমেছে, গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের হাজারো সালাম জানাই। আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে তাদের কাছে। যারা ন্যায় বিচারে বিশ্বাস করে তারাই এভাবে গুলির সামনে এগিয়ে যেতে পারে। পিছপা হয় না।

তিনি বলেন, দেশ আবার স্বাধীন হল। এ স্বাধীনতা ভোগ করতে হলে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। আজ ১৫ আগস্ট। আমরা যদি সরকারে থাকতাম তাহলেও এ ছুটি আইন বন্ধ করতে পারতাম না। এটা শুধুমাত্র সম্ভব হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য। তাদেরও হাজারো সালাম জানাই। ১৫ আগস্ট এ নাকি অনেকে গিয়ে ধানমন্ডি ৩২ এ গিয়ে ডিস্কো ডান্স করেছে। ৫০ বছর পর এ তরুণ তরুণীরা ইতিহাস লেখবে। কে বেঈমান ছিল আর কে দেশপ্রেমিক ছিল সেটা অবশ্যই লিখে যাবে। লিখে যাবে কোনো সেনাপতি যুদ্ধের ঘোষণা করে শত্রুর শিবিরে আত্মসমর্পণ করে না। সে নজির শেখ মুজিব করে গিয়েছিল। সেটা অপ্রিয় সত্য।

তিনি আরও বলেন, মিথ্যা কথার আশ্রয় নিতে নিতে শেখ হাসিনা আজ কোথায় চলে গেছে। আওয়ামী লীগের কেউ টেরও পায়নি যে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে পালিয়ে যাচ্ছে। এ হলো তাদের রাজনীতি। তারা বলেছিল, তাদের পরিবর্তে কে? এখন দেখছেন তো আপনাদের পরিবর্তে কে। দিল্লী থেকে দূরবীন দিয়ে দেখে নিন আপনার পরিবর্তে কে। আমরা সকলেই আজ তোমার পরিবর্তে এখানে উপস্থিত আছি। দীর্ঘদিন যাবত জাতীয়তাবাদী দল বলে আসছে এ দেশ দুইটি শিবিরে বিভক্ত। বাংলাদেশ জিন্দাবাদের শিবির অমর হয়ে থাকবে এ দেশের মাটিতে। জয় বাংলার শিবিরের কবর হতেই হবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম থেকে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান তুলেছিল।এটার কোনোদিন মৃত্যু হবে না। এ বিএনপিকে ভাঙ্গার জন্য অনেকে অপচেষ্টা করা হয়েছে। ভাঙ্গতে পারে নি। উলটো তাদের কোমর ভেঙ্গে গেছে।

গিয়াস উদ্দিন কাদের বলেন, অহংকার পতনের মূল। সব অহমিকা তাদের ধূলিসাৎ হয়ে গেল। উনি যখনই বলেছেন উনার কাজের ছেলে ৪০০ কোটির মালিক। সেদিনই তার প্রধানমন্ত্রীত্ব চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি থেকেছেন। জনগণের ক্ষমতা নয় ভারতের মোদির জেরে। শেখ হাসিনা আবার পরকীয়া করতো চীনের সঙ্গে। যে মহিলা পরকীয়া করে তাদের চীন মোটেও পছন্দ করে না। সরকারের যে পতন আমরা দেখেছি সেটা এ পরকীয়ার ফসল।

প্রধান বক্তার বক্তব্য মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। সে বিগত ১৫ বছরে গুম, খুন, হামলা মামলা দিয়ে নির্যাতন করেছে। তার হাত রক্তে রঞ্জিত। শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। সে বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায় ভাবে বন্দী করে রেখেছিল। তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে দেশে আসতে দেয় নাই। আমরা বলতে চায়, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবে। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনুরোধ করবো, রাষ্ট্র সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে।

বিশেষ বক্তার বক্তব্যে মীর হেলাল বলেন, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকসহ রাষ্ট্রের সকল কাঠামোকে ধবংস করেছে। দেশকে দেউলিয়া করে ফেলেছে। ছাত্র জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার থেকে দেশবাসী মুক্তি পেলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। এই অর্জিত স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও দেশে অরাজকতা ও ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে। তাই কোনো দুষ্কৃতকারী যাতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তকে প্রতিহত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে গেলেও এখনো তাদের ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। ৫ আগষ্টের পর থেকে একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তাই আমাদের দলকে সুসংগঠিত করে শক্তিশালী করতে হবে। কারণ এখনো আমাদের পরিপূর্ণ বিজয় আসেনি। যেদিন আমরা নির্বাচনে জয় লাভ করবো সেদিনেই আমাদের পরিপূর্ণ বিজয় হবে। তাই আমাদেরকে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি উপহার দিতে হবে। জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ এম নাজিম উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশটা আমাদের সবার। এ দেশ আমাদেরই গড়তে হবে। কেউ যেন কোনো নির্যাতন নিপীড়নের শিকার না হন। যে কোনো অপপ্রচার ও অপচেষ্টার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামবাসীকে সচেতন থাকতে হবে।

নাজিমুর রহমান বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের জনগণ আরেকটি বিজয় দেখেছে। তাই কেউ দয়া করে প্রতিহিংসা প্রতিশোধে লিপ্ত হবেন না। এমনকি কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম করলে তাঁকে ধরে আইনের হাতে তুলে দিন। বিএনপির কোন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে তাহলে আমাদের জানালে আমরা তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এতে বক্তব‌্য রা‌খেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সি. যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ আজম উদ্দীন, এস এম সাইফুল আলম, এস কে খোদা তোতন, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, সাধারন সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন সহ মহানগর বিএনপি, থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কৃষিবিদ শহিদুল ইসলামের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিবচর উপজেলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় উপজেলার সূর্যনগর বাজার এলাকার হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের একটি আন্ডারপাসের নিচে মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

পরে জানা যায়, নিহত ঐব্যক্তিটি কৃষিবিদ মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি আন্তর্জাতিক গম ও ভূট্টা গবেষণা কেন্দ্র(সিআইএমএমওয়াইটি)- এর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পটুয়াখালী জেলার মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে ঢাকার গুলশান এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের একটি শাখায় পে-অর্ডার জমা দিতে গিয়ে শহীদুল ইসলাম নিখোঁজ হন।

চট্টগ্রামে বিএনপি’র মহাসমাবেশ রোববার, আসছেন তারেক রহমান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ২১ বছর পর আগামী ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনি মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে দলটির এ শীর্ষ নেতার উপস্থিত থাকার কথা আছে।


মহাসমাবেশকে ঘিরে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম সাজ সাজ রব শুরু হয়েছে। কাজীর দেউড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো নেতাকর্মীদের ব্যানারে ছেয়ে গেছে। সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে একদিন আগেই তিনি চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন, এমন তথ্য দিয়েছেন দলটির নেতারা।

এ বিষয়ে নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, ২৫ জানুয়ারি সকাল ১১টায় নগরীর পলোগ্রাউন্ড ময়দানে বিএনপির নির্বাচনি সমাবেশ হবে। সমাবেশের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ‘উনি (তারেক রহমান) ২৪ জানুয়ারি রওনা দেবেন। প্রাথমিকভাবে আমরা বার্তা পেয়েছি যে, ২৪ তারিখ উনি নোয়াখালী, ফেনী, মিরসরাই এবং ফাইনালি সীতাকুণ্ড হয়ে চট্টগ্রাম শহরে আসবেন। ২৪ তারিখ রাতে উনি এখানে একটা হোটেলে অবস্থান করবেন। পরদিন সকালেই প্রোগ্রামটা করে উনি হয়তো-বা চলে যাবেন।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার চট্টগ্রাম বিভাগীয় মহাসমাবেশের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নজর রাখছে। আমাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছেন। চেয়ারম্যান সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ) টিম এসেছে। উনারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলছেন। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নগরী। এই মহাসমাবেশকে ঘিরে শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও জনদুর্ভোগ এড়ানোর বিষয়গুলো সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিটি করপোরেশন লজিস্টিক সাপোর্ট যেমন বালু না ওড়ার জন্য মাঠে পানি দেওয়া, ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার ইত্যাদি দিয়ে থাকে। অন্য বিষয়গুলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে করবে। মেয়র বলেন, এটা বৃহত্তর চট্টগ্রামের সমাবেশ। আমাদের ১৬ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী সমর্থকদের নিয়ে মহাসমাবেশে আসবেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেখতে, উনার প্ল্যান সম্পর্কে জানতে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষও সমাবেশে অংশ নেবেন।মহাসমাবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান মেয়র।

জানা গেছে, তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রামে এসেছিলেন ২০০৫ সালে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনি প্রচারণায় এসে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে জনসভা করেছিলেন। এরপর এক-এগারো পরবর্তী জরুরি অবস্থায় তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন এবং একপর্যায়ে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। দেড় দশক পর দেশে ফিরে তিনি পিতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বরণের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম শহরে আসছেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে।
এদিকে নগরীর পলোগ্রাউন্ড ময়দানে এখন সমাবেশের জোর প্রস্তুতি চলছে। মাঠটিকে সংস্কারের মাধ্যমে সমাবেশের উপযোগী করা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিতব্য জনসমাগমটি কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দেশের সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে একটি ব্যতিক্রমধর্মী সমাবেশ হবে।তিনি বলেন, অতীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন পল্টন মাঠে কিংবা চট্টগ্রামে সমাবেশে অংশ নিয়েছেন, তখন সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। এলাকার অফিসগুলো বন্ধ রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত হয়েছেন, শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছে। রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন বহু মানুষও শুধু এক নজর দেশনেত্রীকে দেখার জন্য সভায় এসেছিলেন। একই ধরনের উৎসাহ ও উদ্দীপনা এখন চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান দেশে আসার পর বিভিন্ন কর্মসূচিতে যে জনসমাগম দেখা গেছে, সেটির ধারাবাহিকতা চট্টগ্রামেও দেখা যাবে। এটি শুধু রাজনৈতিক সমাবেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তবে কতটা বিশাল জনসমাগম হবে, তা আগাম বলা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচিত খবর

জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় বেশি সময় লাগতে পারে- ইসি সচিব।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুই ধরনের ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং প্রার্থীর সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ভোটগ্রহণ ও গণনা—উভয় প্রক্রিয়াতেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক ও বিএনসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি আরও জানান, এবারের নির্বাচনে প্রবাসী ভোটার ও দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য আলাদা ব্যালট ব্যবহৃত হবে। এর সঙ্গে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় ভোট গণনায় অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে সচিব বলেন, ফেনী-৩ আসনে পোস্টাল ভোটার ১৬ হাজার ৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লা জেলায় ১৩ হাজার ৯৩৯ জন ভোটার পোস্টাল পদ্ধতিতে নিবন্ধিত। একটি কেন্দ্রে সাধারণত তিন হাজার ভোটার থাকলেও পোস্টাল ব্যালটের চাপ পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি, যা ফল প্রকাশে বিলম্ব ঘটাতে পারে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ