জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন দরকার

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সমাবেশে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেছেন, আওয়ামীলীগের আয়নাঘরে এখনো কতজন বন্দি আছে সেটা কেউ জানে না। কেয়ারটেকার সরকারকে আমি অনুরোধ জানাই, আপনারা আয়নাঘরে কারা এখনও বন্দি আছে, কারা এখনও টর্চার সেলে আছে, আমরা তাদের দেখতে চাই। আয়নাঘরে গুম হয়ে থাকা আমাদের দলের নেতাকর্মীসহ সবাইকে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দিতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আপনারা এসেছেন, আমরা সবাই আপনাদের সমর্থন দিচ্ছি। জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন করা দরকার। আপনারা আপনাদের ক্ষমতায় থাকাকালীন অবস্থায় একটা অধ্যাদেশ আনবেন যে, আগামী নির্বাচনও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে হবে। কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বললে আওয়ামী লীগের গা চুলকানি শুরু হয়। এই গা চুলকানি বন্ধ করার জন্য আমরা অন্তত দুইটি নির্বাচন কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে করতে চাই।

তিনি বৃহস্পতিবার (১৫ আগষ্ট) বিকালে কাজীর দেউরী নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে নুর আহম্মেদ সড়কে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালিয়ে গণহত্যা এবং খুনি হাসিনাসহ তার খুনি দোসরদের বিচারের দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। বিশেষ বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন।

মীর নাছির বলেন, এর মধ্যে যেসব আইন সংস্কার দরকার, সেগুলো আপনারা সংস্কার করে নেন। যারা রাজনীতি প্রশাসন ভালো বোঝেন, তাদের সরকারে রাখুন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়, সেই বিধান রাখবেন। ছাত্রদের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তারা আন্দোলন করে, রক্ত দিয়ে জাতির ওপর থেকে যে বিশাল বোঝা, সেটা সরিয়ে দিয়েছে। শেখ হাসিনাকে আজ পালিয়ে যেতে হয়েছে। শেখ হাসিনা যখন পালিয়ে যান, কত সুন্দর চেহারা তখন কত কালিমালিপ্ত ! কারণ, তিনি মানুষকে মানুষ বলেননি, তার ওপরে কেউ নাই, সব নাকি তার কথায় চলবে। আল্লাহ বলে সবুর লও, তোমাকে সুযোগ দেব না, সেজন্য তাকে সেভাবে বিদায় নিতে হয়েছে।

মীর নাছির বলেন, দলের নেতা নির্বাচনে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। ছাত্রদল থেকে আমরা নেতৃত্ব নেব। ডিএনএ টেষ্ট করে নেতা নেয়া হয়, আমি মীর নাসির জেলে গেলে আমাকে কনডেম সেলে রাখা হয় আর অন্যরা গেলে তারা কোরমা পোলাও খায়। তারা কারা আর আমি কারা ? শেখ হাসিনা ম্যাডাম সম্পর্কে যে বক্তব্যগুলো রেখেছে, সেগুলোর জবাব সে নিজেই পেয়ে গেছে। তাকে কারও তাড়াতে হয়নি, সে নিজেই পালিয়ে গেছে। আমরা রাজনীতিতে নতুন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করবো। লাল গেঞ্জি গায়ে দিয়ে, মাথায় হ্যাট পরে নেতা হওয়া যাবে না। নেতা হতে হলে অনেক কষ্ট করতে হবে। আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মাদের কোনোভাবেই আমাদের ভেতরে আসতে দেয়া যাবে না।

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ছয় বছর পর একটি মঞ্চে উঠে মাইক ধরার সুযোগ পেয়েছি। যখন চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে ইমিগ্রেশন পার হলাম তখনও আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমি আদৌ কি বাংলাদেশে এসেছি নাকি অন্য কোথাও পৌঁছে গেছি। স্বল্প সময়ের মধ্যে এ স্বৈরাচারের পতন কীভাবে হলো আমার এটা বিশ্বাস হচ্ছে না। আমার ছোট ছোট সন্তানরা রাস্তায় নেমেছে, গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদের হাজারো সালাম জানাই। আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে তাদের কাছে। যারা ন্যায় বিচারে বিশ্বাস করে তারাই এভাবে গুলির সামনে এগিয়ে যেতে পারে। পিছপা হয় না।

তিনি বলেন, দেশ আবার স্বাধীন হল। এ স্বাধীনতা ভোগ করতে হলে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। আজ ১৫ আগস্ট। আমরা যদি সরকারে থাকতাম তাহলেও এ ছুটি আইন বন্ধ করতে পারতাম না। এটা শুধুমাত্র সম্ভব হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য। তাদেরও হাজারো সালাম জানাই। ১৫ আগস্ট এ নাকি অনেকে গিয়ে ধানমন্ডি ৩২ এ গিয়ে ডিস্কো ডান্স করেছে। ৫০ বছর পর এ তরুণ তরুণীরা ইতিহাস লেখবে। কে বেঈমান ছিল আর কে দেশপ্রেমিক ছিল সেটা অবশ্যই লিখে যাবে। লিখে যাবে কোনো সেনাপতি যুদ্ধের ঘোষণা করে শত্রুর শিবিরে আত্মসমর্পণ করে না। সে নজির শেখ মুজিব করে গিয়েছিল। সেটা অপ্রিয় সত্য।

তিনি আরও বলেন, মিথ্যা কথার আশ্রয় নিতে নিতে শেখ হাসিনা আজ কোথায় চলে গেছে। আওয়ামী লীগের কেউ টেরও পায়নি যে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে পালিয়ে যাচ্ছে। এ হলো তাদের রাজনীতি। তারা বলেছিল, তাদের পরিবর্তে কে? এখন দেখছেন তো আপনাদের পরিবর্তে কে। দিল্লী থেকে দূরবীন দিয়ে দেখে নিন আপনার পরিবর্তে কে। আমরা সকলেই আজ তোমার পরিবর্তে এখানে উপস্থিত আছি। দীর্ঘদিন যাবত জাতীয়তাবাদী দল বলে আসছে এ দেশ দুইটি শিবিরে বিভক্ত। বাংলাদেশ জিন্দাবাদের শিবির অমর হয়ে থাকবে এ দেশের মাটিতে। জয় বাংলার শিবিরের কবর হতেই হবে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম থেকে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগান তুলেছিল।এটার কোনোদিন মৃত্যু হবে না। এ বিএনপিকে ভাঙ্গার জন্য অনেকে অপচেষ্টা করা হয়েছে। ভাঙ্গতে পারে নি। উলটো তাদের কোমর ভেঙ্গে গেছে।

গিয়াস উদ্দিন কাদের বলেন, অহংকার পতনের মূল। সব অহমিকা তাদের ধূলিসাৎ হয়ে গেল। উনি যখনই বলেছেন উনার কাজের ছেলে ৪০০ কোটির মালিক। সেদিনই তার প্রধানমন্ত্রীত্ব চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি থেকেছেন। জনগণের ক্ষমতা নয় ভারতের মোদির জেরে। শেখ হাসিনা আবার পরকীয়া করতো চীনের সঙ্গে। যে মহিলা পরকীয়া করে তাদের চীন মোটেও পছন্দ করে না। সরকারের যে পতন আমরা দেখেছি সেটা এ পরকীয়ার ফসল।

প্রধান বক্তার বক্তব্য মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে। সে বিগত ১৫ বছরে গুম, খুন, হামলা মামলা দিয়ে নির্যাতন করেছে। তার হাত রক্তে রঞ্জিত। শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। সে বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায় ভাবে বন্দী করে রেখেছিল। তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে দেশে আসতে দেয় নাই। আমরা বলতে চায়, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবে। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অনুরোধ করবো, রাষ্ট্র সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে।

বিশেষ বক্তার বক্তব্যে মীর হেলাল বলেন, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকসহ রাষ্ট্রের সকল কাঠামোকে ধবংস করেছে। দেশকে দেউলিয়া করে ফেলেছে। ছাত্র জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার থেকে দেশবাসী মুক্তি পেলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। এই অর্জিত স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও দেশে অরাজকতা ও ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে। তাই কোনো দুষ্কৃতকারী যাতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তকে প্রতিহত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে পালিয়ে গেলেও এখনো তাদের ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। ৫ আগষ্টের পর থেকে একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তাই আমাদের দলকে সুসংগঠিত করে শক্তিশালী করতে হবে। কারণ এখনো আমাদের পরিপূর্ণ বিজয় আসেনি। যেদিন আমরা নির্বাচনে জয় লাভ করবো সেদিনেই আমাদের পরিপূর্ণ বিজয় হবে। তাই আমাদেরকে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি উপহার দিতে হবে। জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ এম নাজিম উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশটা আমাদের সবার। এ দেশ আমাদেরই গড়তে হবে। কেউ যেন কোনো নির্যাতন নিপীড়নের শিকার না হন। যে কোনো অপপ্রচার ও অপচেষ্টার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামবাসীকে সচেতন থাকতে হবে।

নাজিমুর রহমান বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের জনগণ আরেকটি বিজয় দেখেছে। তাই কেউ দয়া করে প্রতিহিংসা প্রতিশোধে লিপ্ত হবেন না। এমনকি কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম করলে তাঁকে ধরে আইনের হাতে তুলে দিন। বিএনপির কোন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে তাহলে আমাদের জানালে আমরা তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এতে বক্তব‌্য রা‌খেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সি. যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ আজম উদ্দীন, এস এম সাইফুল আলম, এস কে খোদা তোতন, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, সাধারন সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন সহ মহানগর বিএনপি, থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের কয়েকটি হাসপাতালের পার্কিংয়ে ক্যান্টিন-ওষুধের দোকান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বেসরকারি হাসপাতাল ল্যানসেটে অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এতে দেখা যায়, আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, পার্কিংয়ের জায়গায় বসেছে ক্যান্টিন ও ওষুধের দোকান, নেই বিকল্প অগ্নিনিরাপত্তা ও নির্গমন ব্যবস্থা। সোমবার (২৪ আগস্ট) বেসরকারি হাসপাতালের অনিয়ম তদন্তে যায় সংস্থাটি। শুধু ল্যানসেট নয়, শেভরণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আল হিদায়াহ স্কুলেও অভিযান চালিয়েছে সিডিএ। অভিযানে এসব প্রতিষ্ঠানে নকশা ও বিধিবিধান না মানার বিভিন্ন চিত্র উঠে আসে। অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক মাসের সময় দিয়েছে সংস্থাটি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও নাগরিকরা বলছেন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নকশাবহির্ভূত ব্যবহার দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষ করে হাসপাতালের পার্কিং ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জননিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই শুধু অভিযান নয়, নির্ধারিত সময় শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মানছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং জরুরি।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম, হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থার কারণে যানজট এবং নকশাবহির্ভূত ভবন ব্যবহারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, অনিয়মের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আবাসিক ভবনে পরিচালিত হাসপাতালগুলোকে এক মাসের মধ্যে বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আবাসিক ভবনে পরিচালিত একটি স্কুলকেও এক মাসের মধ্যে বিকল্প স্থানে যাওয়ার অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোর কিছু পার্কিং-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে।সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, অভিযানের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পার্কিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। তবে এসব পরিবর্তন কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা দেখতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

এদিকে ল্যানসেট হাসপাতালের পরিচালক মহসীন হোসেন বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন আমাদের রয়েছে। মানুষের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। এখানে অনেক কর্মচারীর জীবিকা নির্ভরশীল। আমাদের লাইসেন্সসহ অন্যান্য অনুমোদনও আছে। তবে পার্কিংয়ের জায়গায় কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। সিডিএ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা সরকারের সহযোগী হিসেবে তাদের নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করব।

তিনি আরও বলেন, ভবনটি আবাসিক হিসেবে কীভাবে অনুমোদন পেয়েছে, সেটি ভবন মালিকের বিষয়। আমরা ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি। অতীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করেই বিভিন্ন অনুমোদন দিয়েছে। তবে সিডিএ এখন যেসব বিষয় চিহ্নিত করেছে, সেগুলো সমাধানে আমরা সহযোগিতা করব।
সিডিএ জানিয়েছে, এক মাসের সময়সীমা শেষে এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় পরিদর্শন করা হবে। নিয়ম না মানলে সিলগালা ও উচ্ছেদসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাছ ধরার অবৈধ জাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাগরে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল বসানোর ফলে লাইটার জাহাজের প্রপেলারে জাল জড়িয়ে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পাশাপাশি জাহাজ শ্রমিক ও জেলেদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা বাড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ ও অপসারণ এবং জেলেদের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, বিভিন্ন নৌ-চ্যানেলে জাল বসানো বন্ধ হচ্ছেনা। এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান শিপিং চ্যানেল ও বহির্নোঙরসহ বিভিন্ন নৌপথে অবৈধভাবে এই মাছ ধরার জাল বসানো পুরোপুরি বন্ধ না হলে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লাইটার জাহাজের শ্রমিকরা।

এদিকে ধারাবাহিক অভিযানের পরও জাল বসানো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ লাইটার জাহাজের শ্রমিকদের। জেলে পাড়া-পারকি বিচ, শিপ চ্যানেল-কুতুবদিয়া, সি বিচ-ভাসানচরসহ বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন নৌ-চ্যানেলে অবৈধ জাল বসানো বন্ধ না হলে ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে শিপিং চ্যানেল থেকে জেলেদের জাল ক্লিয়ার না করলে কর্ম বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন।

লাইটার জাহাজের মাস্টার সবুজ মিয়া বলেন, মাদার ভ্যাসেলের চারপাশে এবং চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়া রুটে লাইটার জাহাজ চলাচলের পথে যেভাবে অবাধে জাল পেতে রাখা হয়, ক্যামেরার ফ্রেমে তা পুরোপুরি বোঝানো সম্ভব নয়। সাগরে একটি লাইটার জাহাজ চালানো কতটা কষ্টের, তা জাহাজি ছাড়া আর কেউ বুঝবে না।তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত প্রপেলারে জাল পেঁচিয়ে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার চরম ঝুঁকিতে পড়ছি আমরা। কিন্তু আফসোসের বিষয়, আজ পর্যন্ত কোনো কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। নাবিকদের নিরাপত্তা এবং নৌপথ ঝুঁকিমুক্ত রাখতে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। নৌ চ্যানেল নিরাপদ রাখতে অবৈধ জাল অপসারণ করা হচ্ছে। আমরা সচেতনতা বৃদ্ধি সহ সব কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দরে প্রতিদিন হাজার হাজার টন পণ্য নিয়ে চলাচল করে লাইটার জাহাজ। কিন্তু নৌ-চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল পেতে রাখায় ঝুঁকিতে পড়ছেন এসব জাহাজের মাস্টার, সুকানি ও শ্রমিকরা। চলন্ত জাহাজের প্রপেলারে জাল জড়িয়ে গেলে মাঝপথে জাহাজ থামিয়ে জাল কেটে বা খুলে এগোতে হয়। এতে একদিকে যেমন জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে জাল নষ্ট হওয়ার অভিযোগে জেলেদের সঙ্গে জাহাজ শ্রমিকদের বিরোধ ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটছে। কোথাও কোথাও জাহাজের মাস্টার, সুকানি ও শ্রমিকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোর করে তুলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।বন্দর সূত্র জানায়, গত ১২ আগস্ট বন্দরের মূল নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন করে জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ২৮ জনকে আটক করা হয়।

তাদের মধ্যে ২৪ জনকে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।এরপর ১৫ আগস্ট মূল শিপিং চ্যানেল ও নেভিগেশনাল রুটে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ও বিপজ্জনকভাবে স্থাপিত বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার জাল এবং জাল স্থাপনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম শনাক্ত, জব্দ ও অপসারণ করা হয়। ২০ আগস্ট তৃতীয় দফায় অভিযান চালিয়েও বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়।সর্বশেষ ২২ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বন্দরের প্রধান শিপিং চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নৌ-চলাচল নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও ঝুঁকিমুক্ত রাখা এবং জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধের লক্ষ্যে এ অভিযান চালানো হয়।

লাইটার জাহাজের নাবিক সোহেল রানা বলেন, নাবিকদের আন্দোলনের কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কোস্ট গার্ডের ঘুম ভেঙেছে। ইতোমধ্যে অভিযানও হচ্ছে। তবে নৌযান চলাচলের চ্যানেলে অবৈধ জাল স্থাপন পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। শুধু অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ করলেই হবে না, এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ