৬ষ্ঠ সংসদে তিনি মন্ত্রী থাকাকালে ছুটি নিয়ে নিজ জেলা ভোলায় গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে সাড়া জাগিয়েছিলেন

কথাসাহিত্যিক ও গণমানুষের রাজনীতিক মোশারেফ হোসেন শাজাহান

রিপন শান

জনসেবার মাধ্যমেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার লীন রিড, শ্রীলঙ্কার আর্যরত্ন এবং নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মহিয়সী নারী মাদাম তেরেসা প্রমুখের ঘনিষ্ঠ সাহচর্য পেয়েছিলেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গণমানুষের জন্য রাজনীতি, পলিমাটি নিষিক্ত কথাসাহিত্য, সাংবাদিকতার ঐকতান আর উদার বুদ্ধিদীপ্ত সাংস্কৃতিক বিস্তরণে স্বকালজয়ী অবদানের জন্য, দেশ ও দেশের মানুষ- বিশেষ করে নদীবিধৌত ভোলার মানুষ কোনো দিন তাঁকে ভুলতে পারবে না । তিনি গণমানুষের রাজনীতিবিদ মোশারফ হোসেন শাজাহান।

বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম রূপকার মোশারেফ হোসেন শাজাহান তার জীবদ্দশায় কখনোই ব্রাকেটবন্দী মানসিকতায় বেষ্টিত থাকেননি । শুভকাজে দেশের কাজে সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে পথ চলতে পছন্দ করতেন তিনি । তাঁর সময়ে ভোলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিল নানাবিধ প্রতিভার জৌলুশে মুখরিত । হৃদয়ের সমস্ত সুরভী দিয়েই সেকালের তরুণ সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী শাজাহান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভোলা প্রেসক্লাব । তারসময়ে ‘ব্যক্তিবিবাদ’ ‘গোষ্ঠীবিবাদ’ ভোলা প্রেসক্লাবকে গ্রাস করতে পারেনি। তিনি দল করতেন কিন্তু কখনোই দলকানা ছিলেন না ।

তাঁর স্বপ্নের দ্বীপ প্রলয়ের দ্বীপ ( when paradise becomes inferno ) যারা পড়েছেন তারা নিঃসন্দেহে স্বীকার করবেন- মোশারফ হোসেন শাজাহান একজন আন্তর্জাতিক মানের লেখক। অন্তর জাগানিয়া কথাসাহিত্যিক। শফিক রেহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক যায়যায়দিন এর ‘জোনাকি মন’ কলাম টি যারা নিয়মিত পড়েছেন- তারা স্বীকার করবেন মোশারফ হোসেন শাজাহান শুধু একজন কথাসাহিত্যিক নন, কথাসৃজক কথাশিল্পী। চরকলমীর সুখদুঃখে তিনি বেঁচে থাকবেন হাজার বছর । বেঁচে থাকবেন এষণায় । আপন মহিমায় । স্মৃতিকাতর যেকোনো পাঠকই কথাশিল্পের বিকাশ ও বিন্যাসে আটকে যাবেন তাঁর স্মৃতির ধূলায় পথিকে ।

প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান ভোলারত্ন মোশারেফ হোসেন শাজাহান এর জন্ম ১৯৩৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, ভোলায়। পিতা বনেদি ব্যবসায়ী মরহুম আলতাজের রহমান। মা পরলোকগত মাসুমা খানম চৌধুরাণী।
বস্তুত মোশারেফ হোসেন শাজাহানের কর্মমুখর জীবন ভোলার ভাগ্যাহত ও অশিক্ষিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন প্রচেষ্টায় নিবেদিত ছিল আমরণ। বন্ধুজনের ব্যানারে তাঁর জনসেবা ভোলার মানুষ যুগ যুগ মনে রাখবে। ১৯৭০ সালের ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ও প্লাবনে ভোলার হাজার হাজার মানব সন্তান নিহত ও আহত হয় । বহু গবাদি পশু হাঁস-মুরগি সম্পদ বাড়িঘর ধ্বংস হয়। দূর্গত মানবতার ডাকে তৎক্ষণাৎ মোশারেফ হোসেন শাজাহান বন্ধু-বান্ধব ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে মৃতদের সৎকার, মহিলা ও শিশুদের উদ্ধারকার্য পরিচালনা করেন। অনুরূপভাবে ১৯৮৬ সালে দুর্ঘটনায় পতিত সামিয়া লঞ্চের যাত্রীদের উদ্ধার করেন, যা ছিল তাৎক্ষণিক উদ্যোগ । তাঁর এই উদ্যোগের কথা মানুষ আজও ভুলতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে জনসেবার মাধ্যমেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার লীন রিড, শ্রীলঙ্কার আর্যরত্ন এবং নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মহিয়সী নারী মাদাম তেরেসা প্রমুখের ঘনিষ্ঠ সাহচর্য পেয়েছিলেন।
১৯৮০ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি তাঁর সতীর্থদের নিয়ে চর শশীভূষণ থেকে এক মানবিক যাত্রা শুরু করেন। সুদীর্ঘ ১১০ মাইল যাত্রাপথে অন্তত ৫০টি জন সমাবেশে বক্তব্য রেখে মানুষকে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করেন। একশ’ অনাথ শিশুকে সরকারি সাহায্য ব্যতিরেকে আশ্রয় প্রদানে সক্ষম হন। ১৯৮২ সালে বনায়ন প্রকল্প হাতে ‘নিয়ে অনাথ শিশুদের কাজের সংস্থান করেন। এতে ৬ হাজার গাছের চারা রোপন করা হয়। দরিদ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য সরকারি রাস্তার উভয় পার্শ্বে বৃক্ষরোপন শুরু করেছিলেন। এতে দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি পরিবেশের উপর সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়ে । তাঁর এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ এবং ১৯৯৭ সালে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করেন।
১৯৮৩ সালে তিনি তাঁর কিছু অনুসারীসহ, শ্রীলঙ্কার পল্লী অঞ্চলে গিয়ে সেখানকার গণশিক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। দেশে ফিরে তিনি জাতীয় বন্ধুজন পরিষদ- বাংলাদেশ, গঠন করেন। এরপর শিশুস্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র গড়ে তুলে ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দশ সহস্রাধিক দুস্থ শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করেন । এছাড়া ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের বিনামূল্যে খাবার স্যালাইন বিতরণ করেন ।
কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে
মোশারেফ হোসেন শাজাহান এক অকুতোভয় যোদ্ধা। এই সংগ্রামে তিনি ৬০০০ দরিদ্র কৃষককে পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন। পুলিশ কর্তৃক নির্মমভাবে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র রুবেল হত্যার প্রতিবাদে অনশন ধর্মঘট পালন করে তিনি বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। শিবপুর,ভেলুমিয়া, ইলিশা, ভেদুরিয়া ইত্যাদি এলাকায় কোন সরকারি সাহায্য ছাড়াই কৃষি জমিতে তিনি পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জন সাধারণকে নিয়ে সুদীর্ঘ খাল খনন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ১৯৯৪ সালে সুদূর উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাটে স্বাক্ষরতা অভিযানের নেতৃত্ব দেন মোশারেফ হোসেন শাজাহান।
৬ষ্ঠ সংসদে তিনি মন্ত্রী থাকাকালে ছুটি নিয়ে নিজ জেলা ভোলায় গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে সাড়া জাগিয়েছিলেন। যে কর্মসূচির মাধ্যমে ৪ হাজার ৬শ’ ১৬টি কেন্দ্র চালু করেন এবং সমসংখ্যক পুরুষ ও মহিলা প্রশিক্ষক নিযুক্ত করেন। ১৯৯৫ সালের ৬ ডিসেম্বর এই শিক্ষা কার্যক্রম ১ লাখ ১ হাজার ৬শ’ ৭০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে বাংলাদেশের দৈনিক সমূহের সাংবাদিক, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে সনদপত্র প্রদানের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। এই সফল কর্মসূচির পরবর্তী এক সরকারি জরিপে এক থানার স্বাক্ষরতার হার পাওয়া যায় ৯৭%।
মোশারেফ হোসেন শাজাহান যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান অর্থ যোগানদাতা তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১. জাতীয় বন্ধুজন পরিষদ, ২. আলতাজের রহমান কলেজ, ভোলা, ৩. মাসুমা খানম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ভোলা; ৪. বন্ধুজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোলা; ৫. দক্ষিণ চরনোয়াবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোলা; ৬. চরনোয়াবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়; ৭. পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়; ৮. লামসিপাতা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, দৌলতখান ইত্যাদি।

রাজনীতি ছাড়াও সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর অবস্থান ঈর্ষণীয়। ছাত্রাবস্থায় তাঁর ‘নীড়-ভাঙ্গা ঝড়’ নাটক ভোলা ও বরিশাল ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থানে মঞ্চস্থ হয়। এ সময়ে তার ‘অনন্য ইতিহাস’ নাটকও জনপ্রিয় ছিল। ১৯৬৫ সালে তাঁর প্রথম গল্পের বই ‘ঝরা পালকের গান’ (মোস্তফা হারুণের উদ্যোগে) প্রকাশিত হয়। ‘৯০-এর পর তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা এষণা, স্মৃতির ধূলায় পথিক, ভাগ্যবান, চর কলমীর সুখ-দুঃখ, স্বপ্নের দ্বীপ প্রলয়ের দ্বীপ (এটি ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছিল), টিভিতে তাঁর নাটক ‘অকস্মাৎ’ (১৯৬৮), ‘সমান্তরাল’ (১৯৯২) ও ‘বহতা এষণা’ (১৯৯৩) খুবই আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাঁর ‘চর কলমীর সুখ-দুঃখ’ উপন্যাস নিয়ে একুশে টেলিভিশনে সিরিজ নাটক হয়েছে। লন্ডনের পেঙ্গুইন থেকে তাঁর একটি গ্রন্থের অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ‘জোনাকী মন’ তাঁর সর্বশেষ প্রকাশনা। জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার তিনি একজন জনপ্রিয় কলামিষ্ট ছিলেন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ৬ বার নির্বাচিত এমপি। ১৯৮০ সালে উপমন্ত্রী, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তিনি বেশ কয়েকবার ফ্রান্স, চীন, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন। যায়যায় দিন-এ প্রকাশিত তাঁর কলাম ‘জোনাকী মুন’ খুবই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ তিনি বিগত ১ল অক্টোবর ২০০১-এ অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন এবং সরকার প্রতিষ্ঠার পর তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বহুমাত্রিক প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ ও সাহিত্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ হোসেন শাজাহান ৫ মে ২০১২ সালে ইউনাইটেড হাসপাতালে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন । দেশ ও দেশের মানুষ কোনো দিন ভূলবেনা তাঁকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রামে চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের অবস্থান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় নগরের লালখান বাজারে ফ্লাইওভারের মুখে অবস্থান নেন তারা। এ সময় চাকরিতে পুনর্বহালসহ ন্যায্য দাবি পূরণে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ব্যাংকিং খাতে দায়িত্ব পালনের পর কোনো প্রকার ন্যায়বিচার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ফলে তারা ও তাদের পরিবার বর্তমানে আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়েছে।

চাকরি হারিয়ে তাদের অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন জানিয়ে তারা বলেন, পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসার খরচ ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া বয়স বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে কোথাও চাকরি পাওয়ার সুযোগও সংকুচিত হয়ে এসেছে। এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও অর্থসংকটের মধ্যে পড়ে ইতিমধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

কর্মসূচীতে অংশ নেওয়া চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা আরও জানান, দীর্ঘদিন ব্যাংকিং সেবায় নিয়োজিত থাকার পর হুট করে চাকরি হারিয়ে এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করতে হচ্ছে। নিজেদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে এবং কর্মস্থলে পুনর্বহালের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হলে তারা আবারও মর্যাদার সঙ্গে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।

চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের এই দাবি অবশ্য নতুন নয়। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভায় হলুদ রঙের টি-শার্ট উঁচিয়ে তারা নিজেদের দাবি তুলে ধরেছিলেন। ওই দিন সকালেও নগরের হোটেল রেডিসন ব্লুর সামনে অবস্থান নিয়ে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালান তারা।

চাকরিচ্যুত ব্যাংকার ইলিয়াস হোসেন বলেছিলেন, তাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেন বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেন, সেই প্রত্যাশা থেকেই তারা সেখানে এসেছেন বলে জানান তিনি।

ইন্টারনেট ব্যবহারকে শিশুদেরও মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইন্টারনেটের ব্যবহারে বয়সভিত্তিক কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আদালত। শিশুদেরও মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।১৬ অক্টোবর আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি যে, সংবিধানের ১৯(১)(এ) অনুচ্ছেদের সাথে ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ মিলিয়ে পাঠ করলে ইন্টারনেটে প্রবেশ ও ব্যবহারের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য হয়।

জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন অ্যালায়েন্স’ নামের শিশুদের অধিকারবিষয়ক একটি এনজিও এবং অপর এক আবেদনকারীর করা আবেদনের শুনানিকালে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। সেই আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো ভারতে শিশুদের যৌন নিপীড়নের তথ্য ও এমন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ