আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

৬ষ্ঠ সংসদে তিনি মন্ত্রী থাকাকালে ছুটি নিয়ে নিজ জেলা ভোলায় গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে সাড়া জাগিয়েছিলেন

কথাসাহিত্যিক ও গণমানুষের রাজনীতিক মোশারেফ হোসেন শাজাহান

রিপন শান

জনসেবার মাধ্যমেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার লীন রিড, শ্রীলঙ্কার আর্যরত্ন এবং নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মহিয়সী নারী মাদাম তেরেসা প্রমুখের ঘনিষ্ঠ সাহচর্য পেয়েছিলেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গণমানুষের জন্য রাজনীতি, পলিমাটি নিষিক্ত কথাসাহিত্য, সাংবাদিকতার ঐকতান আর উদার বুদ্ধিদীপ্ত সাংস্কৃতিক বিস্তরণে স্বকালজয়ী অবদানের জন্য, দেশ ও দেশের মানুষ- বিশেষ করে নদীবিধৌত ভোলার মানুষ কোনো দিন তাঁকে ভুলতে পারবে না । তিনি গণমানুষের রাজনীতিবিদ মোশারফ হোসেন শাজাহান।

বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম রূপকার মোশারেফ হোসেন শাজাহান তার জীবদ্দশায় কখনোই ব্রাকেটবন্দী মানসিকতায় বেষ্টিত থাকেননি । শুভকাজে দেশের কাজে সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে পথ চলতে পছন্দ করতেন তিনি । তাঁর সময়ে ভোলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিল নানাবিধ প্রতিভার জৌলুশে মুখরিত । হৃদয়ের সমস্ত সুরভী দিয়েই সেকালের তরুণ সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী শাজাহান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভোলা প্রেসক্লাব । তারসময়ে ‘ব্যক্তিবিবাদ’ ‘গোষ্ঠীবিবাদ’ ভোলা প্রেসক্লাবকে গ্রাস করতে পারেনি। তিনি দল করতেন কিন্তু কখনোই দলকানা ছিলেন না ।

তাঁর স্বপ্নের দ্বীপ প্রলয়ের দ্বীপ ( when paradise becomes inferno ) যারা পড়েছেন তারা নিঃসন্দেহে স্বীকার করবেন- মোশারফ হোসেন শাজাহান একজন আন্তর্জাতিক মানের লেখক। অন্তর জাগানিয়া কথাসাহিত্যিক। শফিক রেহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক যায়যায়দিন এর ‘জোনাকি মন’ কলাম টি যারা নিয়মিত পড়েছেন- তারা স্বীকার করবেন মোশারফ হোসেন শাজাহান শুধু একজন কথাসাহিত্যিক নন, কথাসৃজক কথাশিল্পী। চরকলমীর সুখদুঃখে তিনি বেঁচে থাকবেন হাজার বছর । বেঁচে থাকবেন এষণায় । আপন মহিমায় । স্মৃতিকাতর যেকোনো পাঠকই কথাশিল্পের বিকাশ ও বিন্যাসে আটকে যাবেন তাঁর স্মৃতির ধূলায় পথিকে ।

প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান ভোলারত্ন মোশারেফ হোসেন শাজাহান এর জন্ম ১৯৩৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, ভোলায়। পিতা বনেদি ব্যবসায়ী মরহুম আলতাজের রহমান। মা পরলোকগত মাসুমা খানম চৌধুরাণী।
বস্তুত মোশারেফ হোসেন শাজাহানের কর্মমুখর জীবন ভোলার ভাগ্যাহত ও অশিক্ষিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন প্রচেষ্টায় নিবেদিত ছিল আমরণ। বন্ধুজনের ব্যানারে তাঁর জনসেবা ভোলার মানুষ যুগ যুগ মনে রাখবে। ১৯৭০ সালের ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ও প্লাবনে ভোলার হাজার হাজার মানব সন্তান নিহত ও আহত হয় । বহু গবাদি পশু হাঁস-মুরগি সম্পদ বাড়িঘর ধ্বংস হয়। দূর্গত মানবতার ডাকে তৎক্ষণাৎ মোশারেফ হোসেন শাজাহান বন্ধু-বান্ধব ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে মৃতদের সৎকার, মহিলা ও শিশুদের উদ্ধারকার্য পরিচালনা করেন। অনুরূপভাবে ১৯৮৬ সালে দুর্ঘটনায় পতিত সামিয়া লঞ্চের যাত্রীদের উদ্ধার করেন, যা ছিল তাৎক্ষণিক উদ্যোগ । তাঁর এই উদ্যোগের কথা মানুষ আজও ভুলতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে জনসেবার মাধ্যমেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার লীন রিড, শ্রীলঙ্কার আর্যরত্ন এবং নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মহিয়সী নারী মাদাম তেরেসা প্রমুখের ঘনিষ্ঠ সাহচর্য পেয়েছিলেন।
১৯৮০ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি তাঁর সতীর্থদের নিয়ে চর শশীভূষণ থেকে এক মানবিক যাত্রা শুরু করেন। সুদীর্ঘ ১১০ মাইল যাত্রাপথে অন্তত ৫০টি জন সমাবেশে বক্তব্য রেখে মানুষকে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করেন। একশ’ অনাথ শিশুকে সরকারি সাহায্য ব্যতিরেকে আশ্রয় প্রদানে সক্ষম হন। ১৯৮২ সালে বনায়ন প্রকল্প হাতে ‘নিয়ে অনাথ শিশুদের কাজের সংস্থান করেন। এতে ৬ হাজার গাছের চারা রোপন করা হয়। দরিদ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য সরকারি রাস্তার উভয় পার্শ্বে বৃক্ষরোপন শুরু করেছিলেন। এতে দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি পরিবেশের উপর সুদূর প্রসারী প্রভাব পড়ে । তাঁর এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ এবং ১৯৯৭ সালে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করেন।
১৯৮৩ সালে তিনি তাঁর কিছু অনুসারীসহ, শ্রীলঙ্কার পল্লী অঞ্চলে গিয়ে সেখানকার গণশিক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। দেশে ফিরে তিনি জাতীয় বন্ধুজন পরিষদ- বাংলাদেশ, গঠন করেন। এরপর শিশুস্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র গড়ে তুলে ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দশ সহস্রাধিক দুস্থ শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করেন । এছাড়া ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের বিনামূল্যে খাবার স্যালাইন বিতরণ করেন ।
কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে
মোশারেফ হোসেন শাজাহান এক অকুতোভয় যোদ্ধা। এই সংগ্রামে তিনি ৬০০০ দরিদ্র কৃষককে পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন। পুলিশ কর্তৃক নির্মমভাবে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র রুবেল হত্যার প্রতিবাদে অনশন ধর্মঘট পালন করে তিনি বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। শিবপুর,ভেলুমিয়া, ইলিশা, ভেদুরিয়া ইত্যাদি এলাকায় কোন সরকারি সাহায্য ছাড়াই কৃষি জমিতে তিনি পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জন সাধারণকে নিয়ে সুদীর্ঘ খাল খনন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ১৯৯৪ সালে সুদূর উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাটে স্বাক্ষরতা অভিযানের নেতৃত্ব দেন মোশারেফ হোসেন শাজাহান।
৬ষ্ঠ সংসদে তিনি মন্ত্রী থাকাকালে ছুটি নিয়ে নিজ জেলা ভোলায় গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে সাড়া জাগিয়েছিলেন। যে কর্মসূচির মাধ্যমে ৪ হাজার ৬শ’ ১৬টি কেন্দ্র চালু করেন এবং সমসংখ্যক পুরুষ ও মহিলা প্রশিক্ষক নিযুক্ত করেন। ১৯৯৫ সালের ৬ ডিসেম্বর এই শিক্ষা কার্যক্রম ১ লাখ ১ হাজার ৬শ’ ৭০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে বাংলাদেশের দৈনিক সমূহের সাংবাদিক, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে সনদপত্র প্রদানের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। এই সফল কর্মসূচির পরবর্তী এক সরকারি জরিপে এক থানার স্বাক্ষরতার হার পাওয়া যায় ৯৭%।
মোশারেফ হোসেন শাজাহান যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান অর্থ যোগানদাতা তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১. জাতীয় বন্ধুজন পরিষদ, ২. আলতাজের রহমান কলেজ, ভোলা, ৩. মাসুমা খানম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, ভোলা; ৪. বন্ধুজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোলা; ৫. দক্ষিণ চরনোয়াবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোলা; ৬. চরনোয়াবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়; ৭. পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়; ৮. লামসিপাতা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, দৌলতখান ইত্যাদি।

রাজনীতি ছাড়াও সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর অবস্থান ঈর্ষণীয়। ছাত্রাবস্থায় তাঁর ‘নীড়-ভাঙ্গা ঝড়’ নাটক ভোলা ও বরিশাল ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থানে মঞ্চস্থ হয়। এ সময়ে তার ‘অনন্য ইতিহাস’ নাটকও জনপ্রিয় ছিল। ১৯৬৫ সালে তাঁর প্রথম গল্পের বই ‘ঝরা পালকের গান’ (মোস্তফা হারুণের উদ্যোগে) প্রকাশিত হয়। ‘৯০-এর পর তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা এষণা, স্মৃতির ধূলায় পথিক, ভাগ্যবান, চর কলমীর সুখ-দুঃখ, স্বপ্নের দ্বীপ প্রলয়ের দ্বীপ (এটি ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছিল), টিভিতে তাঁর নাটক ‘অকস্মাৎ’ (১৯৬৮), ‘সমান্তরাল’ (১৯৯২) ও ‘বহতা এষণা’ (১৯৯৩) খুবই আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাঁর ‘চর কলমীর সুখ-দুঃখ’ উপন্যাস নিয়ে একুশে টেলিভিশনে সিরিজ নাটক হয়েছে। লন্ডনের পেঙ্গুইন থেকে তাঁর একটি গ্রন্থের অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ‘জোনাকী মন’ তাঁর সর্বশেষ প্রকাশনা। জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার তিনি একজন জনপ্রিয় কলামিষ্ট ছিলেন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি ৬ বার নির্বাচিত এমপি। ১৯৮০ সালে উপমন্ত্রী, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তিনি বেশ কয়েকবার ফ্রান্স, চীন, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন। যায়যায় দিন-এ প্রকাশিত তাঁর কলাম ‘জোনাকী মুন’ খুবই আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ তিনি বিগত ১ল অক্টোবর ২০০১-এ অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন এবং সরকার প্রতিষ্ঠার পর তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বহুমাত্রিক প্রতিভাবান রাজনীতিবিদ ও সাহিত্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ হোসেন শাজাহান ৫ মে ২০১২ সালে ইউনাইটেড হাসপাতালে ঢাকায় ইন্তেকাল করেন । দেশ ও দেশের মানুষ কোনো দিন ভূলবেনা তাঁকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ও ছোট জামাই সোহেলের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন বড় জামাই এ.কে আজাদ। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুরে অবস্থিত চাঁপাই প্রেসক্লাবে হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন তিন।

লিখিত বক্তব্য এ. কে আজাদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুরে অবস্থিত মার্কেটসহ বাড়ি দখলের বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে উক্ত আর.এস দাগ নং ১১৪৯ জমির উপরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর পরেও মোশাররফ হোসেন ও তার ছোট জামাই সোহেল রানা আদালতের আইন অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গত ১ বছর ধরে তার নামে থাকা একটি মার্কেটসহ বাড়ী জোর পূর্বক দখল করে নেন। সে সঙ্গে বাড়ি ও মার্কেটের প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা শশুর এবং তার ছোট জামাই উত্তোলন করে আসছেন। মার্কেটসহ বাড়ির বর্তমান মালিক এ.কে আজাদ দখল ছাড়তে বললে বিভিন্ন প্রকার হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা।

জীবন সংস্কৃতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কতনা অদ্ভূত সমাজ
মিথ্যাকে বিশ্বাস করে
সত্যের প্রমান চায়,
সাপের মতো খোলস বদল
স্বভাব থেকে যায় ।

কতনা অদ্ভূত সমাজ
ভাল কাজ মুছে যায়
সময়ের বাঁকে,
মন্দ কাজ রেকর্ড হয়
ইতিহাসের ফাঁকে ।

কতনা বিচিত্র জীবন সংস্কৃতি
একদিন না পেলে
ভুলে যায় স্মৃতি ,
স্বার্থের মোহে অন্ধ মানুষ
লাভের গায় গীতি ।।

কতনা অদ্ভূত মানুষ
অবুঝ তার মন,
সত্যকে আড়াল করে
মিথ্যার অনুশীলন।

কতনা অসহায় মানুষ
যত পায় তত চায় ,
অফুরন্ত চাহিদা তার
অভাব থেকে যায় ।

কতনা অবুঝ মানুষ
হিসেবের খাতায় ভুল
ক্ষনিকের মোহ মায়ায়
সৃষ্টির প্রেমে আকুল ।

কতনা অসহায় মানুষ
হেরে যায় টাকার কাছে
লোভের কাছে
বন্ধুত্বের কাছে
কখনো ভালবাসার কাছে ।

কতনা অসহায় মানুষ
হেরে যায় বিবেকের কাছে
সময়ের কাছে
অবশেষে মৃত্যুর কাছে ।

কতনা অসহায় মানুষ
উজাড় করে জীবন,
একদিন নিজেই বোঝা
কেউ থাকেনা আপন।

কতনা অসহায় মানুষ
জানেনা তার কখন মরণ,
যেতে হবে ছেড়ে
মায়ার বাঁধন,
সব যাবে মুছে
কেউ করবেনা স্মরণ ।

এই বুঝি দুনিয়ার নিয়ম
বিদায়ের পরিনতি,
হাসি আর কান্নার মাঝে
জীবনের ইতি ।

রচনাকাল: ১৫/১২/২০২৫

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ