আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলমান বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলা আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার কবলে পড়েছে এ অঞ্চলের চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি ফেনী নোয়াখালী ও কুমিল্লা জেলা। কোন কোন জেলার সবগুলো উপজেলা-ই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোটি কোটি মানুষ । সহায় সম্পত্তি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। উজান থেকে আগত পানি ও ভারী বর্ষণ-দুটো মিলিত হয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আক্রান্ত মানুষের জান-মাল রক্ষায় প্রত্যেক জেলা প্রশাসন উদ্ধার কার্যের পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র খোলার পাশাপাশি নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। প্রত্যেক জেলার জেলা তথ্য অফিস জনসচেতনতায় ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ি জেলার সদর মহালছড়ি দীঘিনালা পানছড়ি রামগড় মাটিরাঙা মানিকছড়ি লক্ষীছড়ি গুইমারা প্রভৃতি উপজেলা এ পর্যন্ত ২৭টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি রয়েছে ৩৩ হাজার ৫১২ পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লক্ষ ১০ হাজার ৭১৮ জন। দুর্গত মানুষের জন্য ৫০২ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৩০ মে. টন চাল, ৪৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ ৭০ হাজার টাকা। আজ পর্যন্ত এ জেলায় ৩৬২ মে.টন চাল ও ৫ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা মজুদ রয়েছে। এ জেলায় ৯৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৯ হাজারের অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। জেলার সদর, রামগড় ও দীঘিনালা উপজেলায় পানি বাড়ছে। মাইনী ও চেঙ্গী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ছাত্র প্রতিনিধি, রেড ক্রিসেন্ট, অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী দল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার ও খিচুড়ি বিতরণ চলমান রয়েছে।
ফেনী : ফেনী জেলার ফুলগাজী পরশুরাম ছাগলনাইয়া সদর সোনাগাজী দাগনভূঁঞা প্রভৃতি উপজেলার ১৯ হাজার ৯০০ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লক্ষ ১ হাজারের বেশি মানুষ। জেলায় ৮০০ মে. টন চাল, ৩২ লক্ষ টাকা, ২৯৯৮ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ২৫০ মে. টন চাল, ২২ লক্ষ টাকা, ২৯৯৮ প্যাকেট শুকনো খাবার। এ জেলার ফুলগাজী উপজেলায় ১ জন মারা গেছে। ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কুমিল্লা : কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে এ পর্যন্ত ১২টি উপজেলা আক্রান্ত হয়েছে। পানিবন্দি রয়েছে ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৬১টি পরিবার, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ৬ শত জন। জেলায় ৫৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে ৯৪টি মেডিকেল টিম। এ জেলায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মে.টন চাল বরাদ্দের বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ৪১ হাজার মে.টন। নগদ ১২ লক্ষ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ