বন্যায় মাছ চাষীদের মাথায় হাত চট্টগ্রামে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অতিবৃষ্টি, ভারতে পানি ও পাহাড়ী চলে চট্টগ্রামের মাছ চাষীরা চরম ক্ষতির সন্মুখীন হয়েছে। পানির স্রোতে ভেসে গেছে তাদের কোটি কোটি টাকার মাছ। গত কয়েকদিনে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান, সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য চাষের পুকুর, দিঘি ও মৎস্য হ্যাচারির মাছ ভেসে গেছে। এর মধ্যে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরসরাই উপজেলায়। বিশেষ করে এসব এলাকায় বন্যার পানিতে প্রায় ২৭৭ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরসরাই মুহূরী মৎস্য প্রজেক্টের চাষীরা। এ প্রজেক্টের ৬ হাজার একরে চাষকৃত মাছ বন্যার পানির সাথে একাকার হয়ে গেছে। তাছাড়া প্রাকৃতিক মৎস্য ক্ষেত্র হালদা নদীর বড় আকারের রুই জাতীয় মাছ বিভিন্ন জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসার শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ দৈনিক বলেন, গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টিতে ভেসে গেছে চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান, সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য চাষের পুকুর, দিঘি, মৎস্য হ্যাচারির মাছ। এতে মৎস্য বিভাগের তাৎক্ষণিক হিসেবে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৭৭ কোটি টাকা। তাছাড়া বৃষ্টির পানিতে হালদা নদী বেশি প্লাবিত হয়েছে। এ অবস্থায় নদীর অন্যান্য মাছ ছাড়াও রুই জাতীয় মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন কি এসব মাছ খাল-বিল হয়ে বিভিন্ন উপজেলাও ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে মনে হচ্ছে মিরসরাই উপজেলায় মানুষের জালে ধরা পড়া ২০ কেজি ওজনের কাতলা মাছটি হালদা নদীর। এ কারণে হালদার রুই জাতীয় মাছের বিশুদ্ধতা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ৬ হাজার একর আয়তনের মুহূরী মৎস্য প্রজেক্টের সবগুলো মাছ পানিতে ভেসে গেছে। স্থানীয় চাষীরা জানান, তাদের প্রতি একরে গড়ে ১০ লাখ টাকার মাছ থাকে। সে হিসেবে তাদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার মাছ। তবে তাৎক্ষণিক ক্ষতি নিরুপণে মৎস্য বিভাগ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলা মৎস্য অফিসের হিসাবে মিরসরাই উপজেলায় মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা। এ উপজেলার ৮ নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের আবদুল টেন্ডাল বাড়ির জনৈক বাবরের জালে বৃষ্টির পানিতে ধরা পড়েছে ২০ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ। জেলা মৎস্য অফিসের ধারণা বানের পানিতে ভেসে মাছটি হালদা নদীর সংযুক্ত খাল-বিল হয়ে ওই এলাকায় গেছে।
এদিকে বৃষ্টি ও বানের পানিতে মিরসরাইয়ের পর বেশি ক্ষতি হয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলায়। এ উপজেলার বেশিভাগ ইউনিয়নের পুকুর, দিঘি ও মৎস্য প্রজেক্ট বানের পানিতে ভেসে গেছে। তাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ১০ লাখ টাকা। বানের পানিতে একই অবস্থা হয়েছে হাটহাজারী উপজেলাও। এ উপজেলায় বানের পানিতে ভেসে গেছে ১২ কোটি টাকার মাছ। বানের পানি থেকে রেহায় পায়নি রাউজানের পুকুর, দিঘি ও মৎস্য হ্যাচারিগুলো। এ উপজেলায় মৎস্য বিভাগের তাৎক্ষণিক হিসেবে ক্ষতি নিরুপণ করা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। তাছাড়া বৃষ্টি ও বানের পানিতে ক্ষতি হয়েছে সীতাকুণ্ড ও রাঙ্গুনিয়ার পুকুর, দিঘি ও মৎস্য হ্যাচারিগুলোও।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আইন সংশোধনের নানাবিধ প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইনে একাধিক সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোর মধ্যে রয়েছে—এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপিদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতার আওতায় আনা। পাশাপাশি সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে।

এসব প্রস্তাব শিগগিরই স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে ইসি।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের ১২তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্য নির্বাচন কমিশনার, ইসির সিনিয়র সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসি সচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি সব আইনে একইভাবে উল্লেখ নেই। তাই সব বাহিনীর আইনে বিষয়টি যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে কমিশন মনে করছে।

তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কমিশন মনে করছে, তাদের প্রার্থিতার অযোগ্যতার আওতায় আনা উচিত।
ঋণখেলাপির বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু ঋণগ্রহীতা নয়, ব্যক্তিগতভাবে জামিনদার হওয়া ব্যক্তিদেরও ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচনা করে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ, ভূমি কর, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের বিলখেলাপিদের বিষয়েও নতুন বিধান আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি নিজে বা তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিলখেলাপি হলে সেটিও প্রার্থিতার অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আখতার আহমেদ আরও বলেন, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—এমন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়েও কমিশন নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।আইন সংশোধনের প্রস্তাবগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

শাপলা চত্বরে সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় হাসিনাসহ ৪১ জন আসামি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ আসামি করা হয়েছে ৪১ জনকে।আজ ১৯ জুলাই সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান- নথিপত্র বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।তবে তদন্তের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ছাড়াও তৎকালীন পুলিশ প্রধান, র‍্যাব মহাপরিচালক এবং ডিএমপি কমিশনারকে আসামি করা হয়েছে।
পাশাপাশি আসামির তালিকায় রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবী। ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই এই তদন্ত প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে।

আলোচিত খবর

নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন ৩১ জুলাই পর্যন্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিবন্ধিত না হওয়া নাগরিকরা। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে। ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে তালিকাটি প্রদর্শন করা হবে। তালিকায় নাম বাদ পড়া বা তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টরা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সব আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আপত্তি গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ